Skip to main content

Posts

Showing posts with the label Kabir Sumon

এ তুমি কেমন তুমি

এ তুমি, কেমন তুমি, চোখের তারায় আয়না ধরো, এ কেমন কান্না তুমি, আমায় যখন আদর করো! জন্মের আগেও, জন্ম পরেও, জন্ম তুমি এমন, সুরের গভীর সুরে পদাবলীর ধরণ যেমন। কথা নয়, নিরবতায় সজলতার আখর ভরো, এ কেমন কান্না তুমি, আমায় যখন আদর করো! এসেছি আগেও আমি, যখন তুমি পদ্মাবতী, কবেকার পুঁথির শোলক, তোমার মতই অশ্রুমতী। অশ্রুর একটি ফোঁটায় জন্ম আমার, আমার মরণ, নীরবে জাতিস্মরের গল্প বলা তোমার ধরন। ঝরেছ বৃষ্টি হয়ে আগেও তুমি, আবার ঝরো, এ কেমন কান্না তুমি, আমায় যখন আদর করো!

নবাব

নবাব নবাবী করে, নেতা নেতা-গিরি ট্রেনে ট্রেনে গান গায় বাউল ভিকিরী ।। দালাল তোয়াজ করে, দাদা গাজোয়ারি রিক্সায় শিস্‌ দেয় জোয়ান সওয়ারী। যুবকরা প্রেম করে, প্রৌঢ়রা ঘর। ঘরে ঘরে হানা দেয় বাজারের দর। মানুষ ভরসা খোঁজে দিনে আর রাতে ছেলে মেয়েগুলো যেন থাকে দুধে-ভাতে। খেলোয়াড় খ্যালে আর দেখোয়ার দ্যাখে এতো দ্যাখে, তবু লোকে পদে পদে ঠ্যাকে। লেখকেরা লেখে আর প্রকাশক ছাপে সাহিত্য মরে পূজো সংখ্যার চাপে। বেকার চাকরী খোঁজে, প্রমোটার প্লট ধর্মের ষাঁড় খোঁজে হিং-টিং-ছট। মানুষ ভরসা খোঁজে দিনে আর রাতে ছেলে মেয়েগুলো যেন থাকে দুধে-ভাতে। নাচিয়েরা নেচে নেয়,বাঁচিয়েরা বাঁচে বাঁচবে কি করে লোকে, নিভে যাওয়া আঁচে ? তবলিয়ে ঠেকা দায়,আঁকিয়েরা রঙ তালে তাল দিয়ে যায়, হ্যাঁ-হ্যাঁ বলা সং… থলি হাতে যায় লোকে অলিতে গলিতে জীবন আসলে বাঁধা পাকস্থলীতে। মানুষ ভরসা খোঁজে দিনে আর রাতে ছেলে মেয়েগুলো যেন থাকে দুধে-ভাতে। মানিয়েরা মেনে নেয় একধার থেকে কেউ কেউ যায় তবু প্রতিবাদ রেখে। নাইয়ে স্নান করে ,গাইয়েরা গান বাইয়েরা বেয়ে যান, খাইয়েরা খান। ছেলেরা আড্ডা দেয়,গয়লানি ঘোটে মিছি মিছি কালি দেয় যারা হিংসুটে মানুষ ভরস...

আমি চাই

আমি চাই সাঁওতাল তার ভাষায় বলবে রাষ্ট্রপুঞ্জ আমি চাই মহল ফুটবে সৌখিনতার গোলাপ কুঞ্জে। আমি চাই নেপালি ছেলেটা গিটার হাতে আমি চাই তার ভাষাতেই গাইতে আসবে কলকাতাতে। আমি চাই ঝাড়খণ্ডের তীর ধনুকে আমি চাই ঝুমুর বাজবে ঝুমুর বাজবে তোমার বুকে। আমি চাই কাশ্মীরে আর শুনবে না কেউ গুলির শব্দ আমি চাই মানুষের হাতে রাজনীতি হবে ভীষণ জব্দ। আমি চাই হিন্দু নেতার সালমা খাতুন পুত্র বধূ আমি চাই ধর্ম বলতে মানুষ বুঝবে মানুষ শুধু, আমি চাই বিজেপি নেতার সালমা খাতুন পুত্র বধূ আমি চাই ধর্ম বলতে মানুষ বুঝবে মানুষ শুধু। আমি চাই গাছ কাতা হলে শোক সভা হবে বিধান সভায় আমি চাই প্রতিবাদ হবে রক্ত পলাশে রক্ত জবায়। আমি চাই পুকুর বাঁচালে আকাশ ভাসবে চোখের জ্বলে আমি চাই সব্বাই জানও দিন বদলের পদ্য বলে। আমি চাই মন্ত্রীরা প্রেম করুন সকলে নিয়ম করে আমি চাই বক্তৃতা নয় কবিতা বলুন কণ্ঠ ধরে। যদি বল চাইছি নেহাত…যদি বল চাইছি নেহাত চাইছি নেহাত স্বর্গ রাজ্য আমি চাই একদিন হবে একদিন হবে এটাই গ্রাহ্য।

শাসক

শাসক যে রঙের-ই হোক ভয়ানক। তাঁর চোখ সবদিকে থাকে কে তার সমর্থক, কে তার বিরোধী তার খবর রাখে। তার হাতে সন্ত্রাস তুরুপ, ঠেক্কা তাস তার হাতে ভাঁড়ারের চাবি। তার দল জোরদার দলেরই তো সরকার বিরোধীর আছে শুধু দাবি। দাবি নিয়ে এলে কেউ দল তুলে বড়ো ঢেউ আইন-রক্ষী করে চুপ। সংবাদে কতটা অনুমতি যতটা নৈপথ্যে শাসকের রূপ। রূপের বাহারে ঢঙ লাল নীল রঙ-চঙ সবুজ বা হলুদ নিশান। যে রঙেরই সেটা হোক শাসকের দু’টি চোখ ছুরিতেই দেবে শুধু শান।

একলা হলে

ক্রমশ একলা হলে কমে এলো সব গুঞ্জন জারুল গাছের ছায়া রোদ্দুরে হেলেছে এখন, পড়ে এলো বেলা দ্যাখো পায়রা-র ঘুলঘুলি ছুঁয়ে বিকেল এখন এই শহরের রাস্তায় শুয়ে, চায়ের দোকানে ধোঁয়া, সসপ্যানে মাদার ডেয়ারী পুরনো বাড়ির ছাদে এলোচুল পাতার কেয়ারি, হেলান দিচ্ছে শেষ বেলা, ভাঙা দেয়ালের গায়ে ফুটন্ত দুধ-জল মিশছে এখন গূঁড়ো চায়ে। গলি বেয়ে হাওয়া আসে, হাত-রিকশার মত ঢিমে তোমার সময় মেশে গোধূলির ধূসর অসীমে, আকাশে ভাসাও চুল হলুদ রোদ্দুরের খোঁজে পড়ে আসা বেলা ওই নয়নের আকুলতা বোঝে, স্কুল থেকে ফিরে ছেলে গ্যাছে ফের খেলতে কোথাও যৌবন-ও চলে গ্যাছে, কেন মিছিমিছি ফিরে চাও? ফেরে কি কখনো কেউ ফেলে আসা একই জায়গায় চলে যায় সব কিছু, ওই দ্যাখো বেলা চলে যায়। কোথায় জলকে চল, রুপকথা ভুলে যাওয়া যুগ টেলিফোনে ডাকো সই, বকুল-রা বেড়াতে আসুক, সন্ধের চায়ে হবে মুচমুচে নিমকি চিবোনো পুরনো দিনের কথা বলবেনা দেখো একজনও, বড়জোর উত্তমকুমারের প্রসঙ্গ তুলে পারমিতা দেবে হাত, নিজের লুটিয়ে পড়া চুলে, তারপরে আলোচনা, কার ছেলে ফিজিক্সে ভালো তারই ফাঁকে রেকাবীতে টক-ঝাল চানাচুর ঢালো। পরিকল্পনা হবে, কারা যাবে ছুট...

বোকা মেয়ে

তোর বুঝি ভেঙে গেছে মাথা নাড়া বুড়ো ভেঙে গেছে পুতুল খেলার সংসার, সময়ে দেখবি সব জোড়া লেগে যাবে চুপ কর বোকা মেয়ে কাঁদিস না আর। সময় দেখবি সব ভুলায় ভুলিয়ে আনকোরা রংগুলো বুলিয়ে বুলিয়ে, মিলায় কাঁটার দাগ জোড়া লাগে ফাটা জটিলতা হয়ে যায় খুব সাদামাটা। তোর বুঝি উড়ে গেছে খাঁচা খোলা পাখি উড়ে গেছে আকাশের হৃদয় অপার, সময়ে দেখবি তুই নিজেই পালাবি চুপ কর বোকা মেয়ে কাঁদিস নে আর। সময় দেখবি সব খাঁচা খুলে দেয় তারগুলো কেটে দেয় অদৃশ্য ছুরি, ভাবনার পাখিগুলো বয়েসের ডালে বসে আর উড়ে যায় খেলে লুকোচুরি।

থমকে আছে

থমকে আছে চোখের নিচে অনেকখানি চোখের জল। চোখের ওপর রঙ্গ বন্ধু- হালকা হাসির গল্প বল্‌। তোর চোখে চোখ রাখলে যেন জলের ওপর সূর্যোদয়! তুই না বুঝিস, বয়েই গেলো- আমার চোখেই সকাল হয়। সকালটাকে ভিজিয়ে দিল শিশির হয়ে চোখের জল। শিশিরে রঙ ঠিঁকরে পড়ে, বন্ধু আলোর গল্প বল। অনেক রকম মানুষ দেখি, অনেক রকম তাদের চোখ। অন্ধকারে চাইছি আমি- সবার চোখেই সকাল হোক। সকালটাকে আগলে রেখে বিকেলটাকে ডাকবো চল। সন্ধ্যে হ’লেই বলবো বন্ধু- চোখের জলের গল্প বল!

একটুর জন্য

একটুর জন্য কতকিছু হয়নি, ক্ষয়ে যাওয়া আশা তবু, পুরোটা ফুরায়নি। একটুর জন্য, পাশ নম্বর নেই, ফেল করা আশা তবু, ফাঁকতালে থাকবেই। একটুর জন্য, চাকরিটা হল না, আধমরা আশা তবু, পুরোপুরি মলো না। একটুর জন্য, প্রেম দিল চম্পট, তবুও হৃদয় করে আশা নিয়ে ছটফট। একটুর জন্য, কাঁচকলা জুটল, থমথমে মুখে তবু, হাসিটাও ফুটল। একটুর জন্য, হাসি টাকে রাখছি, দুরাশায় হোক তবু, আশাতেই থাকছি।

আগুন দেখেছি আমি

আগুন দেখেছি আমি কত জানলায় কত জানলায় তার মুখের আদল কত জানলায় ঝরে অকাল বাদল। কত জানলার কাছে কত চেনা নাম কত দেখা হাসিমুখ ভাসে অবিরাম কত জানলার কাছে একলা মানুষ একলা পৃথিবী তার যেন মহাকাল কত জানলায় আসে একার সকাল। কত জানলার কাছে রাখা পোস্টার কত কথা কত ক্ষিদে কত চিৎকার কত জানলার কাছে কাতারে কাতার মানুষ জমেছে, দাবি গরাদ ভাঙার ভাঙে যেন জানলার গরাদ সবার।

হঠাৎ রাস্তায়

হঠাৎ রাস্তায় অফিস অঞ্চলে হারিয়ে যাওয়া মুখ চমকে দিয়ে বলে, বন্ধু কি খবর বল, কত দিন দেখ হয়নি। পুরনো দোকানে বিগত আড্ডা বিগত ঝগড়া বিগত ঠাট্টা, বন্ধু কি খবর বল, কত দিন দেখ হয়নি। দলাদলির দিন গলাগলির দিন হঠাৎ অকারনে হেসে ওঠার দিন, বন্ধু কি খবর বল, কত দিন দেখ হয়নি। হারানো লেত্তি হারানো লাট্টু সময় চলে যায় বেয়ারা টাট্টু, বন্ধু কি খবর বল, কত দিন দেখ হয়নি। সময় চলে গেছে এবং চলছে চলতি জীবনের গল্প বলছে পাল্টে গেলি তুই আমিও পাল্টে গিয়েছি মাঝ পথে হাঁটতে হাঁটতে বন্ধু কি খবর বল, কত দিন দেখ হয়নি।

প্রথম মা

একই জল একই পানি সাগরে সাগরে নাচে প্রথম মায়ের প্রসব বেদনা পৃথিবীর মনে আছে, কেউ সাদা কেউ কালো রঙ্গিন বলেই ভাল, রঙ মশালটা একলা জ্বেলো না আমার বুকেও জ্বালো। একই আকাশের নিচে একই পৃথিবীর বুকে প্রথম মায়ের দুধের গন্ধ সব মানুষের মুখে… কেউ সাদা কেউ কালো রঙ্গিন বলেই ভাল, রঙ মশালটা একলা জ্বেলো না আমার বুকেও জ্বালো। একই দিন একই রাত সব দেশে আসে যায় প্রথম মায়ের চুম্বন ঐ পৃথিবী বাঁচতে চায়, কেউ সাদা কেউ কালো রঙ্গিন বলেই ভাল, রঙ মশালটা একলা জ্বেলো না আমার বুকেও জ্বালো।। একই জন্ম-মৃত্যু জীবনের আনাগোনা প্রথম মায়ের শরীরের মত পৃথিবীর গান শুনা। শুনতে শুনতে বলি আমায় সঙ্গে নাও, প্রথম মায়ের গর্ভে আমায় আবার জন্ম দাও।

ঘুমিয়ে পড় গান

ঘুমিয়ে পড় গান রাত জেগো না আর তোমার ঘুমের নেশায় চোখে ঘুম জড়াবে তার, ঘুমিয়ে পড় তারা রাত জেগো না আর তোমার ঘুমে মিশে যাবে দুটি নয়ন তার। ঘুমিয়ে পড় পাড়া, নিভলো পথের আলো রাতের হাওয়ায় জড়ালও তার চোখের তারার কালো ঘুমিয়ে পড় হাওয়া, বয়ো না আর রাতে শান্ত চোখের পাতায় কাঁপন তারিই আঁখিপাতে। ঘুমিয়ে পড় গান, তার নয়নেও ঘুম জাগবো আমি একাই যখন পৃথিবী নিঝুম।

তুই হেসে উঠলেই

তুই হেসে উঠলেই সূর্য লজ্জা পায় আলোর মুকুট খানা তোকেই পরাতে চায়, তুই হাততালি দিলে যাকির হোসেন তবলা বাজানো ছেড়ে পায়রা পোষেন। তুই নেচে উঠলেই ছন্দের ছুটি ছান্দসিকেরা হাল ছাড়ে মোটামুটি, তুই গেয়ে উঠলেই ভেঙে খানখান কপট ভণ্ড যত পরিচিত গান। তুই কথা বললেই সন্ধি-সমাস ব্যাকরণ থেকে ছুটি চায় তিন মাস, তোর মুখ ভার হলে বিষাদজনিত কারণে নিশানগুলো অর্ধনমিত, গর্বের তুই ফিক করে হেসে দিলে নিশানের হাততালি আকাশের নীলে।

প্রস্তুতি

কার জঙ্গল কাদের দখলে? অরণ্য চায় ভাবুক সকলে কারা জন্মায় বাঁচে আর মরে? আদিবাসীদের প্রতি ঘরে ঘরে? কাদের ভাষায় জঙ্গল পায় সবুজের সম্মান? আমি রেখে যাই প্রশ্নের মত এই নাগরিক গান।। কারা চিরকাল জঙ্গলে ছিল? গাছের ঠিকানা কারা বলে দিল? শদর, সেগুন, পলাশে ফাগুন কাদের বুকের জান? আমি রেখে যাই প্রশ্নের মত এই নাগরিক গান।। আদিম পৃথিবী কাদের জন্য গড়ে তুলেছিল এত অরণ্য? বুনো শূয়রের দাঁতের আঘাতে কারা দিয়ে গেছে প্রান? আমি রেখে যাই প্রশ্নের মত এই নাগরিক গান।। কাদের স্বদেশ এই বনভূমি? দখল করলে সরকার তুমি, কাদের বন্য গ্রামে সরকারি ঠিকেদার হেঁটে যান? আমি রেখে যাই প্রশ্নের মত এই নাগরিক গান।। গাছের শরীরে কুঠার চালাও আদিবাসীদের কতটা কাঁদাও? ভেবেও দেখনা দিনভর তাঁরা কতটুকু খেতে পান? আমি বেঁচে খাই প্রশ্নের মত এই নাগরিক গান।। কাটা গাছগুলো নিলামে উঠে গাছ সদাগর কিনতে ছোটে কত দর হাঁক, কত টাকা লেখ, কার টাকা কারা খান? আমি খেতে পাবো কেউ যদি কেনে এই নাগরিক গান।। যাদের হাসিতে চোখের জলে অরণ্য তার গল্প বলে, তারাই নিচ্ছে প্রস্তুতি দেখ বিদ্রোহে টান টান… ...

বিশ্বাস রাখি

বিশ্বাস রাখি চুমোতে, বিশ্বাস আশ্লেষে বিশ্বাস রাখি ঠোঁটে ঠোঁট রেখে মরে যাওয়া ভালোবেসে বিশ্বাস রাখি কামনায়, বিশ্বাস রাখি ঘামে বিশ্বাস রাখি আদরে আদরে স্বর্গ যখন নামে বিশ্বাস রাখি আঙ্গুলে, বিশ্বাস রাখি হাতে বিশ্বাস রাখি তোমার স্বপ্ন মিশবে আমার রাতে বিশ্বাস রাখি ইচ্ছে'য়, বিশ্বাস রাখি মোহে বিশ্বাস রাখি তোমাকে চাওয়ার একরোখা বিদ্রোহে বিশ্বাস রাখি দেহে, বিশ্বাস রাখি মনে বিশ্বাস রাখি কাল-বৈশাখী জুটবে ঈশানকোণে বিশ্বাস রাখি ধ্বংসে, বিশ্বাস রাখি সৃষ্টি বিশ্বাস রাখি শুকনো মাটিতে কামনা আনবে বৃষ্টি।

ভূপেন হাজারিকা

কোন মোহনায় কোন সুর যায় রঙ্গিলা বাঁশি কে একা বাজায় কাকে চেনা লাগে কে থাকে অচেনা ছেলেবেলা আর ফিরে আসবেনা স্মৃতিতে তবুও আনাগোনা তাঁর ছোট ছোট ঢেউ সচল গলার। পল্লী মিশত নাগরিকতায় জানতেন তিনি কোনটা মানায় কোথায় মানাবে কিসে বেমানান জানতেন তিনি গানের বানান শুরুতেই বোঝা যেত কার সুর কার পায়ে বাঁধা নূপুরে দুপুর।  মেঘ ভেঙে দেয়া রোদ্দুর এসে আমার দুপুর বড় ভালোবেসে জল চিকমিক কলকের ফুলে ময়নার শিস যেত হেলে দুলে এখন সন্ধ্যে নদীতে উজান ওপারে ভূপেন হাজারিকা গান।

জমি

ইউসুফ খুব ভয়ে ভয়ে আছে, ভয়ে কাঁপে বনমালী বাবুরা তাদের আবাদের জমি কিনতে চাইছে খালি শহরের ধারে তাদের বসতি বহুযুগ ধরে চাষী বাড়ছে শহর বহরে গতরে ফুলছে সর্বগ্রাসী একধার থেকে গিলছে শহর যা আছে গেলার মত উপকণ্ঠের সবুজ ঘুঁচিয়ে বাড়ি উঠে গেল কত! কৈখালী আর পাটুলি গিয়েছে, গিয়েছে উরাল পেটে জমি সদাগর আবাদের জমি খাচ্ছে সমানে চেটে এদিকে বাঙ্গালী বড় অসহায় রবীন্দ্রনাথ বিনে বাবু কহিলেন বুঝেছ উপেন এ জমি লইব কিনে। ইউসুফ আর বনমালী যান মাতব্বরের কাছে তিনি তো হাড়িটা বেঁধে রেখেছেন দলীয় কিছুর গাছে এ দল ও দল বাঁজায় মাদল রাজদণ্ডের তালে বেশি বাড়াবাড়ি করলে এ লাশ ভাসবে নালায় খালে তার চেয়ে ভাল জমি বেঁচে দেয়া প্রমোটারদের হাতে স্যাটেলাইট টাঊন শীপের আলোয় নাচবে বাবুরা রাতে ধামাকা টামাকা কিছু একটা তো হবেই উদ্বোধনে বাড়বে শহর যেদিকে ইচ্ছে বাড়বে আপন মনে। আপন মনেই সদাগর পাবে মউরশিয়ার পাট-টা বারটা বাজবে সময় মতই ঘড়িতে এখন আটটা ইউসুফ আর বনমালী নেন সময় টাকেই চিনে বাবু কহিলেন বুঝেছ উপেন এ জমি লইব কিনে। কিনে কিনে ঠিক ক্লান্ত হবেন বড় বাবুদের দল ডিপ টিউবলে উঠেবে না আর একটুও কাঁদা জল। ...

বয়স আমার

বয়স আমার মুখের রেখায় শেখায় আজব ত্রিকোণমিতি, কমতে থাকা চুলের ফাকে মাঝবয়সের সংস্কৃতি, হাটুতে আজ টান লেগেছে, টান লেগেছে গাঁটে গাঁটে মধ্যবিত্ত শরীরে আজ সময় শুধু ফন্দি আটে, খালি চোখে পড়তে গিয়ে হোচট খেয়ে চশমা নেয়া বয়স হওয়া মানেই বোধহয় স্বচ্ছতাকে বিদায় দেওয়া। বিদায় নিল অনেক কিছু, কোনটা আগে কোনটা পরে বয়স হচ্ছে বলেই বোধহয় মাঝে মাঝে একলা লাগে, একলা লাগার সময় মানে নিজের সঙ্গে কথা বলা তারই ফাকে কোথায় যেন অখিল বন্ধু ঘোষ-এর গলা, গলার কাছে পাল তুলেছে আজগুবি এক স্মৃতির খেয়া বয়স হওয়া মানেই বোধহয় স্মৃতির সঙ্গে আড্ডা দেওয়া। কে বলে হে আড্ডা নাকি কম বয়সের কথকথা বয়স হলেই বরং জমে আড্ডা এবং নিরবতা! নিরবতার অপর পারে সন্ধ্যে নামার একটু আগে বয়স হচ্ছে বলেই বোধহয় হাঁটতে হাঁটতে একলা লাগে; সন্ধ্যে নামার সময় হলে পশ্চিমে নয়, পূবের দিকে, মুখ ফিরিয়ে ভাববো আমি কোন দেশে রাত হচ্ছে ফিকে।

ইচ্ছে হল

ইচ্ছে হল এক ধরনের গঙ্গাফড়িং অনিচ্ছেতেও লাফায় খালি তিরিং বিড়িং। ইচ্ছে হল এক ধরনের বেড়াল ছানা মিহি গলার আব্দারে সে খুব সেয়ানা। ইচ্ছে হল এক ধরনের মগের মুলুক, ইচ্ছে হাওয়ায় অনিচ্ছেটাও দুলছে দুলুক। ইচ্ছে হল এক ধরনের আতশবাজি রাতটাকে সে দিন করে দেয় এমন পাজী। ইচ্ছে হল এক ধরনের দস্যি মেয়ে দুপুর বেলা দাদুর আচার ফেলল খেয়ে। ইচ্ছে হল এক ধরনের পদ্য লেখা শব্দে সুরে ইচ্ছে করে বাঁচতে শেখা। ইচ্ছে হল এক ধরনের পাগলা জগাই হঠাৎ করে ফেলতে পারে যা খুশী তাই। ইচ্ছে হল এক ধরনের স্বপ্ন আমার মরবো দেখে বিশ্ব জুড়ে যৌথ খামার।

তোমাকে দেখছি

তোমাকে দেখছি ল্যাম্প পোস্ট এর নীচে তোমাকে দেখছি কালীঘাট ব্রিজ এ একা ভবানী ভবন যাবার বাঁকের মুখে আসলে কিন্তু সেই তোমাকেই দেখা তোমাকে দেখছি ব্রেবর্ন রোড এর ভীড়ে তোমাকে দেখছি চীনে পট্টির জুতো এসপ্লানাডের পাতাল স্টেশন এ নেমে আসলে কিন্তু তোমাকে দেখার ছুতো তোমাকে দেখছি শ্যাম বাজারের মোড়ে তোমাকে দেখছি পাঁচ মাথা একাকার মানুষের ভীড়ে রাস্তা গুলিয়ে গিয়ে আসলে কিন্তু তোমাকেই দরকার তোমাকে দেখছি কফি হাউসের কাছে তোমাকে দেখছি খুঁজছ পুরনো বই পুরনো কিম্বা নতুন মলাটে আমি আসলে কিন্তু তোমাকে খুঁজবই তোমাকে দেখছি বই মেলা চত্বরে তোমাকে দেখছি স্বতন্ত্রর স্টল অনুষ্টুপের ঠেলাঠেলি ভেদ করে আসলে কিন্তু তোমাকে দেখার ছল তোমাকে দেখছি বালি উত্তরপাড়া তোমাকে দেখছি ব্যারাকপুরের মোড়ে শহরে আসছে ওই তো সোনার ভোর আসলে কিন্তু তোমার ট্রেন এই চড়ে তোমাকে দেখছি সেন্ট পলস এর চুড়ো তোমাকে দেখছি হো চি মিন সরণীতে নেলসন ম্যান্ডেলা উদ্যানে দেখি আসলে কিন্তু তোমাকে আচম্বিতে তোমাকে দেখছি চিত্পুর ব্যান্ড পার্টি তোমাকে দেখছি ট্রাম্পেট ক্ল্যারিনেটে বিটন ঘুরিয়ে ব্যান্ড মাস্টার যাবে আসলে কিন্তু তোমা...