Skip to main content

Posts

Showing posts with the label

অনন্ত প্রেম

তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শত বার জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয় গাঁথিয়াছে গীতহার, কত রূপ ধরে পরেছ গলায়, নিয়েছ সে উপহার জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার। যত শুনি সেই অতীত কাহিনী, প্রাচীন প্রেমের ব্যথা, অতি পুরাতন বিরহমিলনকথা, অসীম অতীতে চাহিতে চাহিতে দেখা দেয় অবশেষে কালের তিমিররজনী ভেদিয়া তোমারি মুরতি এসে, চিরস্মৃতিময়ী ধ্রুবতারকার বেশে। আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি যুগল প্রেমের স্রোতে অনাদিকালের হৃদয়-উৎস হতে। আমরা দুজনে করিয়াছি খেলা কোটি প্রেমিকের মাঝে বিরহবিধুর নয়নসলিলে, মিলনমধুর লাজে-- পুরাতন প্রেম নিত্যনূতন সাজে। আজি সেই চিরদিবসের প্রেম অবসান লভিয়াছে রাশি রাশি হয়ে তোমার পায়ের কাছে। নিখিলের সুখ, নিখিলের দুখ, নিখিল প্রাণের প্রীতি, একটি প্রেমের মাঝারে মিশেছে সকল প্রেমের স্মৃতি-- সকল কালের সকল কবির গীতি।

অনেককালের যাত্রা আমার

অনেককালের যাত্রা আমার অনেক দূরের পথে, প্রথম বাহির হয়েছিলেম প্রথম-আলোর রথে। গ্রহে তারায় বেঁকে বেঁকে পথের চিহ্ন এলেম এঁকে কত যে লোক-লোকান্তরের অরণ্যে পর্বতে। সবার চেয়ে কাছে আসা সবার চেয়ে দূর। বড়ো কঠিন সাধনা, যার বড়ো সহজ সুর। পরের দ্বারে ফিরে, শেষে আসে পথিক আপন দেশে- বাহির-ভুবন ঘুরে মেলে অন্তরের ঠাকুর। "এই যে তুমি" এই কথাটি বলব আমি ব'লে কত দিকেই চোখ ফেরালেম কত পথেই চ'লে। ভরিয়ে জগৎ লক্ষ ধারায় "আছ-আছ"র স্রোত বহে যায় "কই তুমি কই" এই কাঁদনের নয়ন-জলে গ'লে।

অনন্য

আমি খুঁজছি, আমি খুঁজছি তোমার ঠিকানা, অলি গলি ঘুরে ক্লান্ত তবু তোমায় পাচ্ছিনা। তুমি বলেছিলে সেই দিন, সেই দূপুর বেলাতে, চলে এসো ফাঁক পেলে, এসো আমার বাড়িতে। তাই আজকের এই একলা দূপুরে কাজ টাজ সব ফেলে, আমি এসেছি তোমার শহর প্রান্তে গল্প করবো বলে। হাতে ধরা আছে চিরকুট তাতে তোমার ঠিকানা, এ বি সি ব্লকের গোলক ধাঁধায় তোমায় পাচ্ছি না। সারি সারি সব বাড়ি যেন সারবাধা সব সৈন্য, সব এক রঙ সব এক ধাঁচ তুমি কোথায় থাকো অনন্য? তুমি বলেছিলে সেই দিন, সেই ব্যাস্ত সকালে, এসো নিশ্চয় এসো একবার আমাদের মিছিলে। তাই ইচ্ছে হল জানতে কিভাবে দাবির কথা তুলে, কেমন সবাই হাত ধরে ধরে গান গেয়ে পথ চলে। এসে দেখি আমি, ধর্মতলার চার কোনে চার দল, সব নানা সুরে বলে একই কথা, আমার সঙ্গে চল। এতো শব্দ এতো চিৎকার তবু কি নিদারুন দৈন্য, একই শ্লোগানে নানা গন্ধ তুমি কোথায় ছিলে অনন্য?

অজয় বাগদি

অজয় বাগদি ঝুলছে দেখ, মরুদ্যানের কয়েদখানায় দড়ি জোগায় পার্টি-পুলিশ তারাই গণতন্ত্র বানায়। নন্দীগ্রামের গান শুনলেই, মাওবাদী আর তেলেঙ্গানা কবীর সুমন গান বেঁধেছি বাঁধবি কাকে, কয়েদখানা? একনলা নয়, দোনলা নয়, নেহাৎ কিছু গানের সুরে মাও-কবীরের দোহার এখন, লিরিক-বারুদ দিচ্ছে পুরে। অজয় বাগদি জেলার ছেলে, বাগদি-ছেলের জ্যান্ত বুকে নন্দীগ্রামের খবর এখন,হাওয়ার সঙ্গে যাচ্ছে ঢুকে। তন্ত্র-গণ-তন্ত্র-গণ, মন্ত্র-গণ-সংসদীয় অজয় তোমার ভোটটা এবার, পাচ্ছে কারা বাতলে দিও। গানগুলো কি কালাশনিকভ? গানগুলো কি অন্তর্ঘাত? বাগদি-ঘরের ছেলে, অজয়, প্রসন্ন নয় তোমার বরাত। বরাত ভালো আমার বরং, বর্ণহিন্দু শহুরে প্রাণ। চাটুজ্যেটা কবীর হলেও,শ্রেণীর গন্ধ আমার এ-গান। জেহাদ ডাকছি, অজয়, শোনো,’হামলা’ বলো বিদ্রোহীরা আমার গিটার কালাশনিকভ, হোক না বুড়ো আমার শিরা। বদলা নেব গানেই আমি, কলির সন্ধ্যে এই তো সবে পরের বারে দেখবি আমার,বাগদি-ঘরেই জন্ম হবে।

অন্য মা

আমার মা না হয়ে তুমি আর কারো মা হলে ভাবছ তোমায় চিনতেম না, যেতেম না ঐ কোলে? মজা আরো হত ভারি, দুই জায়গায় থাকত বাড়ি, আমি থাকতেম এই গাঁয়েতে, তুমি পারের গাঁয়ে। এইখানেতে দিনের বেলা যা-কিছু সব হত খেলা দিন ফুরোলেই তোমার কাছে পেরিয়ে যেতেম নায়ে। হঠাৎ এসে পিছন দিকে আমি বলতেম, "বল্‌ দেখি কে?" তুমি ভাবতে, চেনার মতো চিনি নে তো তবু। তখন কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে আমি বলতেম গলা ধরে-- "আমায় তোমার চিনতে হবেই, আমি তোমার অবু!" ঐ পারেতে যখন তুমি আনতে যেতে জল,-- এই পারেতে তখন ঘাটে বল্‌ দেখি কে বল্‌? কাগজ-গড়া নৌকোটিকে ভাসিয়ে দিতেম তোমার দিকে, যদি গিয়ে পৌঁছত সে বুঝতে কি, সে কার? সাঁতার আমি শিখিনি যে নইলে আমি যেতেম নিজে, আমার পারের থেকে আমি যেতেম তোমার পার। মায়ের পারে অবুর পারে থাকত তফাত, কেউ তো কারে ধরতে গিয়ে পেত নাকো, রইত না একসাথে। দিনের বেলায় ঘুরে ঘুরে দেখা-দেখি দূরে দূরে,-- সন্ধ্যেবেলায় মিলে যেত অবুতে আর মা-তে। কিন্তু হঠাৎ কোনোদিনে যদি বিপিন মাঝি পার করতে তোমার পারে নাই হত মা রাজি। ঘরে তোমার প্রদীপ জ্বেলে ছাতের 'পরে ম...