Skip to main content

Posts

Showing posts with the label

তুমি যাকে ভালোবাসো

তুমি যাকে ভালোবাসো, স্নানের ঘরে বাষ্পে ভাসো।  তার জীবনে ঝড়।  তোমার কথার শব্দদূষণ,  তোমার গলার স্বর,  আমার দরজায় খিল দিয়েছি,  আমার দারুন জ্বর!  তুমি অন্য কারোর সঙ্গে বেঁধো ঘর।  তোমার নৌকোর মুখোমুখি আমার সৈন্যদল,  বাঁচার লড়াই।  আমার মন্ত্রী খোয়া গেছে,  একটা চালের ভুল,  কোথায় দাঁড়াই।  কথার ওপর কেবল কথা,  সিলিং ছুঁতে চায়।  নিজের মুখের আয়না আদল,  লাগছে অসহায়।  তুমি অন্য কারোর ছন্দে বেঁধো গান।  বুকের ভেতর ফুটছে যেন মাছের কানকোর লাল,  এত নরম।  শাড়ির সুতো বুনছে যেন সেই লালের কঙ্কাল,  বিপদ বড়।  কথার ওপর কেবল কথা,  সিলিং ছুতে চায়।  নিজের মুখের আয়না আদল,  লাগছে অসহায়।  তুমি অন্য কারোর ছন্দে বেঁধো গান।

তোরি জন্য

তোরি জন্য শরীরের ভারে আমি নত তোরি জন্য গল্প বুনেছি কত কত তোরি জন্য গান, তোকে ঘিরেই খেলা তোকেই দিচ্ছি আমার সকাল ছেলে বেলা। তোরি জন্য শরীরের ভারে আমি নত তোরি জন্য গল্প বুনেছি কত কত তোরি জন্য গান, তোকে ঘিরেই খেলা তোকেই দিচ্ছি আমার সকাল ছেলে বেলা। তোকে দেবে আমি আমার টিনের চাল বাড়ি তোকে দেব দেখ আমার পাহাড় সরি সরি তোকে দিয়ে দেব স্কুল পথে বাঁকে পাওয়া ফ্রকটিতে উড়ে সামাল নামাল পুন খাওয়া তোরি জন্য গান তোকে ঘিরে খেলা তোকেই দিচ্ছি আমার সকাল ছেলে বেলা। তোরি জন্য শরীরের ভারে আমি নত। টক নুন টক তেতুল আচার আছে রাখা তোরি জন্য আমার বয়ামে তেলে মাখা তোকেই দিচ্ছি জল ছপছপ ভেজা জুতো স্কুলে না যাবার আমার পুরোনো সেই ছুতো। আমার গল্প বইয়ের মলাট পাতা খুলে তোরি জন্য শব্দ বন্ধ রাখি তুলে। টক নুন টক তেতুল আচার আছে রাখা তোরি জন্য আমার বয়ামে তেলে মাখা তোকেই দিচ্ছি জল ছপছপ ভেজা জুতো স্কুলে না যাবার আমার পুরোনো সেই ছুতো। আমার গল্প বইয়ের মলাট পাতা খুলে তোরি জন্য শব্দ বন্ধ রাখি তুলে। তোকে ভাগ দিই আমার বড় হবার ব্যাথা তোকে বলে দেব আমার গোপন যত কথা এই সব আমি তোকেই দেব তোকে দেব তোর ছেলে বেলা তোর কাছ থেকে চেয়ে নেব তোকে ভাগ দিই ...

তোমায় দিলাম

শহরের উষ্ণতম দিনে পিচ গলা রোদ্দুরে বৃষ্টির বিশ্বাস তোমায় দিলাম আজ। আর কিই বা দিতে পারি পুরনো মিছিলে পুরনো ট্রামেদের সারি ফুটপাত ঘেঁষা বেলুন গাড়ি সুতো বাঁধা যত লাল আর সাদা ওরাই আমার থতমত এই শহরের রডোডেনড্রন তোমায় দিলাম আজ। কি আছে আর গভীর রাতের নিয়ন আলোয় আলোকিত যত রেস্তোঁরা আর সবথেকে উঁচু ফ্ল্যাটবাড়িটার সবথেকে উঁচু ছাদ তোমায় দিলাম আজ। পারব না দিতে ঘাসফুল আর ধানের গন্ধ স্নিগ্ধ যা কিছু দুহাত ভরে আজ ফুসফুস খোঁজে পোড়া ডিজেলের আজন্ম আশ্বাস তোমায় দিলাম আজ। শহরের কবিতা আর ছবি, সবই তোমায় দিলাম আজ।

তোমার জন্য

তোমার জন্য মেঘলা দুপুর, অসময়ে বর্ষণ তোমার জন্য ক্ষনে দেখা আলো বিকেলের আয়োজন তোমার জন্য সুর খুঁজে পায় আমার একলা গান এ মরুভূমিতে তোমার জন্য আমার পুষ্পস্নান ডেকে যাই তোমাকে, শুধু বার বার ডেকে যাই.. বিধুর আকাশে সন্ধ্যা তারাটি তোমাকে ভেবে সাজাই ।। তোমার জন্য মিছিলে মিছিলে স্লোগানের উঠা পড়া তোমার জন্য ভোরের আকাশ শিউলি গন্ধে ভরা ।। তোমাকে ভেবে এ জীবনে লাগে ঝড়ের ভীষণ টান এ মরুভূমিতে তোমার জন্য আমার পুষ্পস্নান ডেকে যাই তোমাকে, শুধু বার বার ডেকে যাই শারদ আলোতে আগমনী গানে তোমাকেই খুঁজে পাই ।। তোমার জন্য তুচ্ছ করেছি অপমান অভিমান তোমার জন্য বেপরোয়া বুকে ভালবাসা পাই প্রান ।। তোমার জন্য ভরা বাহে ধান নবান্নে অঘ্রাণ এ মরুভূমিতে তোমার জন্য আমার পুষ্পস্নান ডেকে যাই তোমাকে, শুধু বার বার ডেকে যাই বার বার এসে হে জন্মভূমি তোমাকে যেন পাই ।। বার বার এসে হে জন্মভূমি তোমাকে যেন পাই

তারা ঢাকা মেঘ

তারা ঢাকা মেঘ, মেঘে ঢাকা তারা, পাশের বাড়িতে উঠিল তারা, ঠেলা গাড়ি ভরা মাল-পত্তর, কত অ্যাডভান্স? মাসে কত ভাড়া? একতলা বাড়ি, কলোনীর পাড়া, বাবা ভোর বেলা ডিউটিতে গেলে,  বাড়িতে মায়ের কোমল পাহারা। একজন বাঁধে লম্বা বিনুনি, অন্যটি তার চুল খুলে সারা, সকালে যখন কলেজে বেরোয়ে, চনমন করে রোদ-রাস্তারা, বুকে বই ধরা, মাটিতেই চোখ, ঠিক পাশে এসে ঝলকে তাকানো, হাতের মুঠোয় ছোট্ট রুমাল, কখনো বা মুঠো হাসি আটকান, কাকে দেখে হাসি কার প্রতি  যায়? কার মুখোমুখি কে চোখ নামায়? এভাবে আমাকে, ওভাবে আমায়, চুপচাপ চিঠি ছিড়ে ফেলা সারা। মুখ দেখা আজ বন্ধ করেছে, প্রানের বন্ধু কাল ছিল যারা, দল বেধেঁ আর বসছে না কেউ, একা পথ চায় যতেক বেচারা। শেষে একদিন কাউকে না বলে, পাড়া ছেড়ে দিয়ে উঠে গেছে তারা, টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে, আকাশে তখন বিকেল কি সারা, চুপচাপ বসে রবে রাস্তারা, দেখে একে একে সবাই ফিরছে, ছিল আড্ডার সদস্য যারা, কেউ নিশ্চুপে আগুন টা চায়, কেউ অযথায় কথা খুঁজে পায়। কত অ্যাডভান্স ? বাড়াচ্ছে ভাড়া? টিপটিপ করা বৃষ্টি থামছে, ছোট ছোট বাড়ি একতলা পাড়া, সন্ধ্যের মুখে একলা দেখছে, ডুবছে উঠছে, আক...

তীর ভাঙ্গা ঢেউ

তীর ভাঙ্গা ঢেউ আর নীড় ভাঙ্গা ঝড় তারই মাঝে প্রেম যেন গড়ে খেলাঘর। চাঁদ আসে তাই যেন উল্লাসে ঐ রঙের মাধুরী লয়ে পুব হাসে ঐ। নিকটের পানে চাহি দূর কাঁদে গো, অদেখার বাঁশরী যে সুর সাধে গো। সব শেষে পল্লবে জাগে মর্মর তারই মাঝে প্রেম তবু গড়ে খেলাঘর। তৃষ্ণারে কাছে ডাকে মরু মায়া গো ক্লান্তিরে মুছে দেয় তরুছায়া গো। চিরদিনই রয় ব্যাথা বন্ধনে হায় হাসি যেন মিশে আছে ক্রন্দনে হায়। সৌরভ গৌরবে ধুপ জ্বলে ঐ, আলো আর আধারের খেলা চলে ঐ। অন্তরে দূ দূ করে শুধু বালু চর তারই মাঝে প্রেম যেন গড়ে খেলাঘর।

তুই হেসে উঠলেই

তুই হেসে উঠলেই সূর্য লজ্জা পায় আলোর মুকুট খানা তোকেই পরাতে চায়, তুই হাততালি দিলে যাকির হোসেন তবলা বাজানো ছেড়ে পায়রা পোষেন। তুই নেচে উঠলেই ছন্দের ছুটি ছান্দসিকেরা হাল ছাড়ে মোটামুটি, তুই গেয়ে উঠলেই ভেঙে খানখান কপট ভণ্ড যত পরিচিত গান। তুই কথা বললেই সন্ধি-সমাস ব্যাকরণ থেকে ছুটি চায় তিন মাস, তোর মুখ ভার হলে বিষাদজনিত কারণে নিশানগুলো অর্ধনমিত, গর্বের তুই ফিক করে হেসে দিলে নিশানের হাততালি আকাশের নীলে।

তোমাকে দেখছি

তোমাকে দেখছি ল্যাম্প পোস্ট এর নীচে তোমাকে দেখছি কালীঘাট ব্রিজ এ একা ভবানী ভবন যাবার বাঁকের মুখে আসলে কিন্তু সেই তোমাকেই দেখা তোমাকে দেখছি ব্রেবর্ন রোড এর ভীড়ে তোমাকে দেখছি চীনে পট্টির জুতো এসপ্লানাডের পাতাল স্টেশন এ নেমে আসলে কিন্তু তোমাকে দেখার ছুতো তোমাকে দেখছি শ্যাম বাজারের মোড়ে তোমাকে দেখছি পাঁচ মাথা একাকার মানুষের ভীড়ে রাস্তা গুলিয়ে গিয়ে আসলে কিন্তু তোমাকেই দরকার তোমাকে দেখছি কফি হাউসের কাছে তোমাকে দেখছি খুঁজছ পুরনো বই পুরনো কিম্বা নতুন মলাটে আমি আসলে কিন্তু তোমাকে খুঁজবই তোমাকে দেখছি বই মেলা চত্বরে তোমাকে দেখছি স্বতন্ত্রর স্টল অনুষ্টুপের ঠেলাঠেলি ভেদ করে আসলে কিন্তু তোমাকে দেখার ছল তোমাকে দেখছি বালি উত্তরপাড়া তোমাকে দেখছি ব্যারাকপুরের মোড়ে শহরে আসছে ওই তো সোনার ভোর আসলে কিন্তু তোমার ট্রেন এই চড়ে তোমাকে দেখছি সেন্ট পলস এর চুড়ো তোমাকে দেখছি হো চি মিন সরণীতে নেলসন ম্যান্ডেলা উদ্যানে দেখি আসলে কিন্তু তোমাকে আচম্বিতে তোমাকে দেখছি চিত্পুর ব্যান্ড পার্টি তোমাকে দেখছি ট্রাম্পেট ক্ল্যারিনেটে বিটন ঘুরিয়ে ব্যান্ড মাস্টার যাবে আসলে কিন্তু তোমা...

তুমি আসবে বলে

তুমি আসবে বলেই আকাশ মেঘলা বৃষ্টি এখনো হয়নি তুমি আসবে বলেই কৃষ্ঞচুড়ার ফুলগুলো ঝরে যায়নি তুমি আসবে বলে অন্ধ কানাই বসে আছে গান গায়নি তুমি আসবে বলে চৌরাস্তার পুলিশটা ঘুষ খায়নি তুমি আসবে বলে জাকির হুসেইন ভুল করে ফেলে তালে তুমি আসবে বলে মুখ্যমন্ত্রী চুমু খেল স্ত্রীর গালে তুমি আসবে বলে সোনালী স্বপ্ন ভীড় করে আসে চোখে তুমি আসবে বলে আগামী বলছে দেখতে আসবো তোকে তুমি আসবে বলে আমার দ্বিধারা উত্তর খুঁজে পায়নি তুমি আসবে বলে দেশটা এখনো গুজরাট হয়ে যায়নি তুমি আসবে বলে সন্ত্রাসবাদ গুটিয়ে নিয়েছে থাবা তুমি আসবে বলে জ্যোতিষ ছেড়েছে কতনা ভন্ড বাবা তুমি আসবে বলে পাড়ার মেয়েরা মুখ করে আছে ভাড় তুমি আসবে বলে ঈষান কোনেতে জমেছে অন্ধকার তুমি আসবে বলে বখাটে ছেলেটা শিষ দিতে দিতে দেয়নি তুমি আসবে বলে আমার কলম এখনও বিক্রি হয়নি তুমি আসবে বলেই

তুমি কি কেবল ছবি

তুমি কি কেবল ছবি শুধু পটে লিখা। ওই যে সুদূর নীহারিকা যারা করে আছে ভিড় আকাশের নীড়; ওই যে যারা দিনরাত্রি আলো-হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী গ্রহ তারা রবি তুমি কি তাদেরি মতো সত্য নও। হায় ছবি, তুমি শুধু ছবি। চিরচঞ্চলের মাঝে তুমি কেন শান্ত হয়ে রও। পথিকের সঙ্গ লও ওগো পথহীন। কেন রাত্রিদিন সকলের মাঝে থেকে সবা হতে আছ এত দূরে স্থিরতার চির অন্তঃপুরে। এই ধূলি ধূসর অঞ্চল তুলি বায়ুভরে ধায় দিকে দিকে; বৈশাখে সে বিধবার আভরণ খুলি তপস্বিনী ধরণীরে সাজায় গৈরিকে; অঙ্গে তার পত্রলিখা দেয় লিখে বসন্তের মিলন-উষায়, এই ধূলি এও সত্য হায়; এই তৃণ বিশ্বের চরণতলে লীন এরা যে অস্থির, তাই এরা সত্য সবি-- তুমি স্থির, তুমি ছবি, তুমি শুধু ছবি। একদিন এই পথে চলেছিলে আমাদের পাশে। বক্ষ তব দুলিত নিশ্বাসে; অঙ্গে অঙ্গে প্রাণ তব কত গানে কত নাচে রচিয়াছে আপনার ছন্দ নব নব বিশ্বতালে রেখে তাল; সে যে আজ হল কত কাল। এ জীবনে আমার ভুবনে কত সত্য ছিলে। মোর চক্ষে এ নিখিলে দিকে দিকে তুমিই লিখিলে রূপের তুলিকা ধরি রসের মুরতি। সে-প্রভাতে তুমিই তো ছিলে এ-বিশ্বের বাণী মূর্তিমতী। একসাথে পথে যেতে যে...

তোমরা ও আমরা

তোমরা হাসিয়া বহিয়া চলিয়া যাও কুলুকুলুকল নদীর স্রোতের মতো। আমরা তীরেতে দাঁড়ায়ে চাহিয়া থাকি, মরমে গুমরি মরিছে কামনা কত। আপনা-আপনি কানাকানি কর সুখে, কৌতুকছটা উছসিছে চোখে মুখে, কমলচরণ পড়িছে ধরণী-মাঝে, কনকনূপুর রিনিকি ঝিনিকি বাঝে। অঙ্গে অঙ্গ বাঁধিছে রঙ্গপাশে, বাহুতে বাহুতে জড়িত ললিত লতা। ইঙ্গিতরসে ধ্বনিয়া উঠিছে হাসি, নয়নে নয়নে বহিছে গোপন কথা। আঁখি নত করি একেলা গাঁথিছ ফুল, মুকুর লইয়া যতনে বাঁধিছ চুল। গোপন হৃদয়ে আপনি করিছ খেলা, কী কথা ভাবিছ, কেমন কাটিছে বেলা। চকিতে পলকে অলক উড়িয়া পড়ে, ঈষৎ হেলিয়া আঁচল মেলিয়া যাও-- নিমেষ ফেলিতে আঁখি না মেলিতে,ত্বরা নয়নের আড়ে না জানি কাহারে চাও। যৌবনরাশি টুটিতে লুটিতে চায়, বসনে শাসনে বাঁধিয়া রেখেছ তায়। তবু শতবার শতধা হইয়া ফুটে, চলিতে ফিরিতে ঝলকি চলকি উঠে। আমরা মূর্খ কহিতে জানি নে কথা, কী কথা বলিতে কী কথা বলিয়া ফেলি। অসময়ে গিয়ে লয়ে আপনার মন, পদতলে দিয়ে চেয়ে থাকি আঁখি মেলি। তোমরা দেখিয়া চুপি চুপি কথা কও, সখীতে সখীতে হাসিয়া অধীর হও, বসন-আঁচল বুকেতে টানিয়া লয়ে হেসে চলে যাও আশার অতীত হয়ে। আ...

তোমাকে চাই

প্রথমত, আমি তোমাকে চাই দ্বিতীয়ত, আমি তোমাকে চাই তৃতীয়ত, আমি তোমাকে চাই শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই নিঝুম অন্ধকারে তোমাকে চাই রাতভোর হলে আমি তোমাকে চাই সকালের কৈশোরে তোমাকে চাই সন্ধের অবকাশে তোমাকে চাই বৈশাখী ঝড়ে আমি তোমাকে চাই আষাঢ়ের মেঘে আমি তোমাকে চাই শ্রাবণে শ্রাবণে আমি তোমাকে চাই অকালবোধনে আমি তোমাকে চাই কবেকার কলকাতা শহরের পথে পুরোনো নতুন মুখ ঘরে ইমারতে অগুন্তি মানুষের ক্লান্ত মিছিলে অচেনা ছুটির ছোঁয়া তুমি এনে দিলে নাগরিক ক্লান্তিতে তোমাকে চাই এক ফোঁটা শান্তিতে তোমাকে চাই বহুদূর হেঁটে এসে তোমাকে চাই এ জীবন ভালোবেসে তোমাকে চাই চৌরাস্তার মোড়ে পার্কে দোকানে শহরে গঞ্জে গ্রামে এখানে ওখানে স্টেশন টার্মিনাস ঘাটে বন্দরে অচেনা ড্রয়িংরুমে চেনা অন্দরে বালিশ তোশক কাঁথা পুরোনো চাদরে ঠান্ডা শীতের রাতে লেপের আদরে কড়িকাঠে চৌকাঠে মাদুরে পাপোশে হাসি রাগ অভিমান ঝগড়া আপোসে তোমাকে চাই, তোমাকে চাই, তোমাকে চাই, তোমাকে চাই এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই ডাইনে ও বাঁয়ে আমি তোমাকে চাই দেখা না দেখায় আমি তোমাকে চাই না-বলা কথায় আমি তোমাকে চাই শীর্ষেন্দুর কোন নতুন নভেলে ...

তালগাছ

তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে সব গাছ ছাড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে । মনে সাধ , কালো মেঘ ফুঁড়ে যায় একেবারে উড়ে যায় ; কোথা পাবে পাখা সে ? তাই তো সে ঠিক তার মাথাতে গোল গোল পাতাতে ইচ্ছাটি মেলে তার , মনে মনে ভাবে , বুঝি ডানা এই , উড়ে যেতে মানা নেই বাসাখানি ফেলে তার । সারাদিন ঝরঝর থত্থর কাঁপে পাতা - পত্তর , ওড়ে যেন ভাবে ও , মনে মনে আকাশেতে বেড়িয়ে তারাদের এড়িয়ে যেন কোথা যাবে ও । তার পরে হাওয়া যেই নেমে যায় , পাতা - কাঁপা থেমে যায় , ফেরে তার মনটি — যেই ভাবে , মা যে হয় মাটি তার , ভালো লাগে আরবার পৃথিবীর কোণটি ।