Skip to main content

Posts

Showing posts with the label

এসো শ্যামল সুন্দর

এসো শ্যামল সুন্দর, আনো তব তাপহরা তৃষাহরা সঙ্গসুধা। বিরহিণী চাহিয়া আছে আকাশে॥ সে যে ব্যথিত হৃদয় আছে বিছায়ে তমালকুঞ্জপথে সজল ছায়াতে,  নয়নে জাগিছে করুণ রাগিণী॥ বকুলমুকুল রেখেছে গাঁথিয়া, বাজিছে অঙ্গনে মিলনবাঁশরি। আনো সাথে তোমার মন্দিরা চঞ্চল নৃত্যের বাজিবে ছন্দে সে-- বাজিবে কঙ্কণ, বাজিবে কিঙ্কিণী, ঝঙ্কারিবে মঞ্জীর রুণু রুণু॥

এ তুমি কেমন তুমি

এ তুমি, কেমন তুমি, চোখের তারায় আয়না ধরো, এ কেমন কান্না তুমি, আমায় যখন আদর করো! জন্মের আগেও, জন্ম পরেও, জন্ম তুমি এমন, সুরের গভীর সুরে পদাবলীর ধরণ যেমন। কথা নয়, নিরবতায় সজলতার আখর ভরো, এ কেমন কান্না তুমি, আমায় যখন আদর করো! এসেছি আগেও আমি, যখন তুমি পদ্মাবতী, কবেকার পুঁথির শোলক, তোমার মতই অশ্রুমতী। অশ্রুর একটি ফোঁটায় জন্ম আমার, আমার মরণ, নীরবে জাতিস্মরের গল্প বলা তোমার ধরন। ঝরেছ বৃষ্টি হয়ে আগেও তুমি, আবার ঝরো, এ কেমন কান্না তুমি, আমায় যখন আদর করো!

একলা হলে

ক্রমশ একলা হলে কমে এলো সব গুঞ্জন জারুল গাছের ছায়া রোদ্দুরে হেলেছে এখন, পড়ে এলো বেলা দ্যাখো পায়রা-র ঘুলঘুলি ছুঁয়ে বিকেল এখন এই শহরের রাস্তায় শুয়ে, চায়ের দোকানে ধোঁয়া, সসপ্যানে মাদার ডেয়ারী পুরনো বাড়ির ছাদে এলোচুল পাতার কেয়ারি, হেলান দিচ্ছে শেষ বেলা, ভাঙা দেয়ালের গায়ে ফুটন্ত দুধ-জল মিশছে এখন গূঁড়ো চায়ে। গলি বেয়ে হাওয়া আসে, হাত-রিকশার মত ঢিমে তোমার সময় মেশে গোধূলির ধূসর অসীমে, আকাশে ভাসাও চুল হলুদ রোদ্দুরের খোঁজে পড়ে আসা বেলা ওই নয়নের আকুলতা বোঝে, স্কুল থেকে ফিরে ছেলে গ্যাছে ফের খেলতে কোথাও যৌবন-ও চলে গ্যাছে, কেন মিছিমিছি ফিরে চাও? ফেরে কি কখনো কেউ ফেলে আসা একই জায়গায় চলে যায় সব কিছু, ওই দ্যাখো বেলা চলে যায়। কোথায় জলকে চল, রুপকথা ভুলে যাওয়া যুগ টেলিফোনে ডাকো সই, বকুল-রা বেড়াতে আসুক, সন্ধের চায়ে হবে মুচমুচে নিমকি চিবোনো পুরনো দিনের কথা বলবেনা দেখো একজনও, বড়জোর উত্তমকুমারের প্রসঙ্গ তুলে পারমিতা দেবে হাত, নিজের লুটিয়ে পড়া চুলে, তারপরে আলোচনা, কার ছেলে ফিজিক্সে ভালো তারই ফাঁকে রেকাবীতে টক-ঝাল চানাচুর ঢালো। পরিকল্পনা হবে, কারা যাবে ছুট...

এক একটা দিন

এক একটা দিন বড় একা লাগে ।। ঘুম চোখ খুলে দেখি-ভোর নেই আর , ভালো করে সকালটা, পাওয়া হয় না। এক একটা দিন বড় একা লাগে! এক একটা দিন বড় একা লাগে! আঙ্গুলের ফাঁকে ধরা খোলা কলম, গান বা তোমাকে চিঠি লেখা হয় না এক একটা দিন বড় একা লাগে! এক একটা দিন বড় একা লাগে! এক একটা দিন বড় একা লাগে! বিকেলে তোমার সাথে একলা ঘরে কি কথা বলবো আমি ভেবে পাই না! এক একটা রাত বড় একা লাগে।। পাশ ফিরে শুলে খাট কঁকিয়ে উঠে কান পেতে থাকি হাওয়া জেগে উঠে না কান পেতে থাকি কেউ জেগে উঠে না…

একটুর জন্য

একটুর জন্য কতকিছু হয়নি, ক্ষয়ে যাওয়া আশা তবু, পুরোটা ফুরায়নি। একটুর জন্য, পাশ নম্বর নেই, ফেল করা আশা তবু, ফাঁকতালে থাকবেই। একটুর জন্য, চাকরিটা হল না, আধমরা আশা তবু, পুরোপুরি মলো না। একটুর জন্য, প্রেম দিল চম্পট, তবুও হৃদয় করে আশা নিয়ে ছটফট। একটুর জন্য, কাঁচকলা জুটল, থমথমে মুখে তবু, হাসিটাও ফুটল। একটুর জন্য, হাসি টাকে রাখছি, দুরাশায় হোক তবু, আশাতেই থাকছি।

এমন দিনে তারে বলা যায়

এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায়। এমন দিনে মন খোলা যায়, এমন মেঘস্বরে বাদল-ঝরোঝরে তপনহীন ঘন তমসায়॥ সে কথা শুনিবে না কেহ আর, নিভৃত নির্জন চারি ধার। দুজনে মুখোমুখি গভীর দুখে দুখি, আকাশে জল ঝরে অনিবার, জগতে কেহ যেন নাহি আর॥ সমাজ সংসার মিছে সব, মিছে এ জীবনের কলরব। কেবল আঁখি দিয়ে, আঁখির সুধা পিয়ে হৃদয় দিয়ে হৃদি অনুভব, আঁধারে মিশে গেছে আর সব॥ তাহাতে এ জগতে ক্ষতি কার নামাতে পারি যদি মনোভার। শ্রাবণবরিষনে, একদা গৃহকোণে দু কথা বলি যদি কাছে তার, তাহাতে আসে যাবে কিবা কার॥ ব্যাকুল বেগে আজি বহে যায়, বিজুলি থেকে থেকে চমকায়। যে কথা এ জীবনে রহিয়া গেল মনে সে কথা আজি যেন বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায়॥

এসো প্রেম

এসো প্রেম পর যোদ্ধার সাজ এসো চুম্বন গ্রেনেড হও এসো ভালোবাসা আলোর সরাজ আমার গানের আদর সও। এসো বন্ধুরা আলোয় আধারে এসো তুচ্ছতা দূর করে নির্মূল হোক ওরা এই বারে বেসুরে থাকছি সুর ধরে। এসো মাটি ছুই নদীটাকে ছুই এসো গাছপালা পাখির ডাক . তিরিশ বছর এ মাটি বিভূঁই আমার বাংলা আমার থাক। এসো নবীনের চোখে বিদ্যুৎ এসো প্রবীণের স্নেহের দান ভালোবাসা আজও বড় অদ্ভুত বৃষ্টির জলে পাখির চান।

একুশে আইন

শিবঠাকুরের আপন দেশে , আইন কানুন সর্বনেশে! কেউ যদি যায় পিছলে প'ড়ে, প্যায়দা এসে পাক্‌‌ড়ে ধরে , কাজির কাছে হয় বিচার- একুশ টাকা দন্ড তার।। সেথায় সন্ধে ছটার আগে হাঁচতে হলে টিকিট লাগে হাঁচলে পরে বিন্ টিকিটে দম‌্দমাদম্ লাগায় পিঠে , কোটাল এসে নস্যি ঝাড়ে- একুশ দফা হাচিয়ে মারে।। কারুর যদি দাতটি নড়ে, চার্‌টি টাকা মাশুল ধরে , কারুর যদি গোঁফ গজায় , একশো আনা ট্যাক্সো চায়- খুঁচিয়ে পিঠে গুঁজিয়ে ঘাড়, সেলাম ঠোকায় একুশ বার।। চলতে গিয়ে কেউ যদি চায় এদিক্ ওদিক্ ডাইনে বাঁয়, রাজার কাছে খবর ছোটে, পল্টনেরা লাফিয়ে ওঠে , দুপুরে রোদে ঘামিয়ে তায়- একুশ হাতা জল গেলায়।। যে সব লোকে পদ্য লেখে, তাদের ধরে খাঁচায় রেখে, কানের কাছে নানান্ সুরে নামতা শোনায় একশো উড়ে, সামনে রেখে মুদীর খাতা- হিসেব কষায় একুশ পাতা।। হঠাৎ সেথায় রাত দুপুরে নাক ডাকালে ঘুমের ঘোরে, অম্‌‌নি তেড়ে মাথায় ঘষে, গোবর গুলে বেলের কষে, একুশটি পাক ঘুরিয়ে তাকে- একুশ ঘন্টা ঝুলিয়ে রাখে।।

একটা থালায়

একটা থালায় চারটে রুটি একটু আচার একটু ডাল, একই থালায় দুজন খাবে যুদ্ধ হয়ত আসছে কাল। একটা মাঠে দু'জন সেপাই দেশ বিভাগের সীমান্তে, দু'জন আছে দুই দিকে আর বন্ধু তারা অজান্তে। তারা এদেশ ভাগ করেনি দেয়নি কোথাও খুড়ির দাগ, নেতারা সব ঝগড়া করেন জলে কুমির ডেঙায় বাঘ। ঝগড়া থাকে আড়াল করে লাভের মাটি লাভের গুড়, সীমান্তে দুই দেশের সেপাই দেশপ্রেমের দিনমজুর। দুই কাঁধে দুই বন্দুক আর বুলেট বেশি খাবার কম, রাজধানীতে হিসেব কষে এদের নেতা ওদের যম। যমের বাড়ি কাছেই আছে অনেক দূরে নিজের ঘর, দেশপ্রেমের নজির হল এই চিতা আর ঐ কবর। ক্ষিধের কিন্তু সীমান্ত নেই নেই চিতা নেই কবরটাও, যুদ্ধটাকে চিতায় তোল যুদ্ধটাকেই কবর দাও।।

এক গাঁয়ে

আমরা দুজন একটি গাঁয়ে থাকি সেই আমাদের একটিমাত্র সুখ, তাদের গাছে গায় যে দোয়েল পাখি তাহার গানে আমার নাচে বুক। তাহার দুটি পালন-করা ভেড়া চরে বেড়ায় মোদের বটমূলে, যদি ভাঙে আমার খেতের বেড়া কোলের 'পরে নিই তাহারে তুলে। আমাদের এই গ্রামের নামটি খঞ্জনা, আমাদের এই নদীর নাম অঞ্জনা, আমার নাম তো জানে গাঁয়ের পাঁচ জনে-- আমাদের সেই তাহার নামটি রঞ্জনা। দুইটি পাড়ায় বড়োই কাছাকাছি, মাঝে শুধু একটি মাঠের ফাঁক-- তাদের বনের অনেক মধুমাছি মোদের বনে বাঁধে মধুর চাক। তাদের ঘাটে পূজার জবামালা ভেসে আসে মোদের বাঁধা ঘাটে, তাদের পাড়ার কুসুম-ফুলের ডালা বেচতে আসে মোদের পাড়ার হাটে। আমাদের এই গ্রামের নামটি খঞ্জনা, আমাদের এই নদীর নাম অঞ্জনা, আমার নাম তো জানে গাঁয়ের পাঁচ জনে-- আমাদের সেই তাহার নামটি রঞ্জনা। আমাদের এই গ্রামের গলি-'পরে আমের বোলে ভরে আমের বন, তাদের খেতে যখন তিসি ধরে মোদের খেতে তখন ফোটে শণ। তাদের ছাদে যখন ওঠে তারা আমার ছাদে দখিন হাওয়া ছোটে। তাদের বনে ঝরে শ্রাবণধারা, আমার বনে কদম ফুটে ওঠে। আমাদের এই গ্রামের নামটি খঞ্জনা, আমাদের এই নদীর নামটি অঞ্জনা, আম...

এক হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর সাথে

এক হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর সাথে সকাল বিকেল বেলা, কত পুরোনো নতুন পরিচিত গান গাইতাম খুলে গলা। কত এলোমেলো পথ হেঁটেছি দু’জন হাত ছিল না তো হাতে, ছিল যে যার জীবনে দু’টো মন ছিল জড়াজড়ি একসাথে। কত ঝগড়া-বিবাদ সুখের স্মৃতিতে ভরে আছে শৈশব, তোকে স্মৃতিতে স্মৃতিতে এখনো তো ভালোবাসছি অসম্ভব। কেন বাড়লে বয়স ছোট্টবেলার বন্ধু হারিয়ে যায়, কেন হারাচ্ছে সব বাড়াচ্ছে ভিড় হারানোর তালিকায়। আজ কে যে কোথায় আছি কোন খবর নেই তো কারো, অথচ তোর ঐ দুঃখগুলোতে অংশ ছিল আমারও। এই চলতি জীবন ঘটনাবহুল দু’ এক ইঞ্চি ফাঁকে, তুইতো পাবিনা আমায় আর আমিও খুঁজিনা তোকে। কত সুখ পাওয়া হয়ে গেল, তোকে ভুলে গেছি কতবার তবু শৈশব থেকে তোর গান যেন ভেসে আসে বারবার। আজ চলতে শিখে গেছি তোকে নেই কিছু প্রয়োজন, তবু ভীষন অপ্রয়োজনে তোকেই খুঁজছে আমার মন। তুই হয়তো ভালোই আছিস আর আমিও মন্দ নেই, তবু অসময়ে এসে স্মৃতিগুলো বুকে আঁকিবুকি কাটবেই। তুই কতদুরে চলে গেলি তোকে হারিয়ে ফেলেছি আমি, এই দুঃখটা হয়ে থাক এই দুঃখটা বড় দামী। সেই কোন কথা নেই মুখে, শুধু চুপচাপ বসে থাকা, ছিল যার যার ব্যথা তার তার বুকে ছড়িয...