Skip to main content

Posts

Showing posts with the label

হৃদয়ের দাবী রাখো

আগুনের কথা বন্ধুকে বলি দুহাতে আগুন তারও, কার মালা হতে খসে পড়া ফুল রক্তের চেয়ে গাঢ়। যার হাতখানি পুড়ে গেলো বধু আঁচলে তাহারে ঢাকো, আজও ডানা ভাঙা একটি শালিক হৃদয়ের দাবী রাখো! একজন ডাকে দূরবর্তীকে মাস্তুলখানি দোলে মুক্তার লোভে কে হায় ডুবুরি ঝিনুকের মালা খোলে। কে হায় বসিয়া অঙ্গ ভরিয়া গোধূলির মায়া মাখো, আজও ডানা ভাঙা একটি শালিক হৃদয়ের দাবী রাখো! পাতালের মেয়ে সূর্য চেনে না আঁধার তাহার ভাই, প্রজাপতি বলে বুকে নাও তারে আলোয় তারে সাজাই। কে তবে জ্বালায় ছায়ার শিখাটি কার মুখ চেয়ে থাকো, আজও ডানা ভাঙা একটি শালিক হৃদয়ের দাবী রাখো! জলের ঝিয়ারি তিন ভাগ জলে মিশিয়ে দিয়েছি বালি, বালিয়াড়ি ডাকে কাছে আয় তবে পাতালে আগুন জ্বালি। পথ ছুটে যায় যার আঙিনায় সেই পথ মেলে নাকো, আজও ডানা ভাঙা একটি শালিক হৃদয়ের দাবী রাখো! একজন ডাকে দূরবর্তীকে মাস্তুলখানি দোলে, মুক্তার লোভে কে হায় ডুবুরি ঝিনুকের মালা খোলে। কে হায় বসিয়া অঙ্গ ভরিয়া গোধূলির মায়া মাখো, আজও ডানা ভাঙা একটি শালিক হৃদয়ের দাবী রাখো! রাখো, কে হায় বসিয়া অঙ্গ ভরিয়া গোধূলির মায়া মাখো, আজও ডানা ভাঙা একটি শালিক হৃদয়ের দাবী রাখো!

হেমন্ত

সবুজ পাতার খামের ভেতর হলুদ গাঁদা চিঠি লেখে কোন্ পাথারের ওপার থেকে আনল ডেকে হেমন্তকে? আনল ডেকে মটরশুঁটি, খেসারি আর কলাই ফুলে আনল ডেকে কুয়াশাকে সাঁঝ সকালে নদীর কূলে। সকাল বেলায় শিশির ভেজা ঘাসের ওপর চলতে গিয়ে হাল্কা মধুর শীতের ছোঁয়ায় শরীর ওঠে শিরশিরিয়ে। আরও এল সাথে সাথে নুতন গাছের খেজুর রসে লোভ দেখিয়ে মিষ্টি পিঠা মিষ্টি রোদে খেতে বসে। হেমন্ত তার শিশির ভেজা আঁচল তলে শিউলি বোঁটায় চুপে চুপে রং মাখাল আকাশ থেকে ফোঁটায় ফোঁটায়।

হঠাৎ রাস্তায়

হঠাৎ রাস্তায় অফিস অঞ্চলে হারিয়ে যাওয়া মুখ চমকে দিয়ে বলে, বন্ধু কি খবর বল, কত দিন দেখ হয়নি। পুরনো দোকানে বিগত আড্ডা বিগত ঝগড়া বিগত ঠাট্টা, বন্ধু কি খবর বল, কত দিন দেখ হয়নি। দলাদলির দিন গলাগলির দিন হঠাৎ অকারনে হেসে ওঠার দিন, বন্ধু কি খবর বল, কত দিন দেখ হয়নি। হারানো লেত্তি হারানো লাট্টু সময় চলে যায় বেয়ারা টাট্টু, বন্ধু কি খবর বল, কত দিন দেখ হয়নি। সময় চলে গেছে এবং চলছে চলতি জীবনের গল্প বলছে পাল্টে গেলি তুই আমিও পাল্টে গিয়েছি মাঝ পথে হাঁটতে হাঁটতে বন্ধু কি খবর বল, কত দিন দেখ হয়নি।

হাল ছেড়ো না

ছেড়েছ তো অনেক কিছুই পুরনো অভ্যেস অসুখ বিসুখ হবার পরে জিলিপি সন্দেশ ছেড়েছ তো অনেক কিছুই পুরনো বোলচাল পুরনো ঘর, পুরনো ঘর,কুড়োনো জঞ্জাল হাল ছেড়ো না… হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কন্ঠ ছাড়ো জোরে দেখা হবে তোমায় আমায় অন্য গানের ভোরে ছেড়েছ তো অনেক কিছুই পুরনো সেই হাসি সকাল বিকেল জানিয়ে দেয়া তোমায় ভালবাসি স্বপ্নগুলো ছেড়েছ তো কয়েক বছর আগেই আমার কিন্তু স্বপ্ন দেখতে আজও ভাল লাগে আমারও তো বয়েস হচ্ছে,রাত বিরেতে কাশি কাশির দমক থামলে কিন্তু বাঁচতে ভালোবাসি বন্ধু তোমার ভালোবাসার স্বপ্নটাকে রেখো বেছে নেবার স্বপ্নটাকে জাপটে ধরে থেকো দিনবদলের স্বপ্নটাকে হারিয়ে ফেলো না পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

হিং টিং ছট্‌

স্বপ্ন দেখেছেন রাত্রে হবুচন্দ্র ভূপ , অর্থ তার ভাবি ভাবি গবুচন্দ্র চুপ । শিয়রে বসিয়ে যেন তিনটে বাঁদরে উকুন বাছিতেছিল পরম আদরে । একটু নড়িতে গেলে গালে মারে চড় , চোখে মুখে লাগে তার নখের আঁচড় । সহসা মিলাল তারা , এল এক বেদে , ‘ পাখি উড়ে গেছে ' ব ' লে মরে কেঁদে কেঁদে ; সম্মুখে রাজারে দেখি তুলি নিল ঘাড়ে , ঝুলায়ে বসায়ে দিল উচ্চ এক দাঁড়ে । নীচেতে দাঁড়ায়ে এক বুড়ি থুড়্‌থুড়ি হাসিয়া পায়ের তলে দেয় সুড়্‌সুড়ি । রাজা বলে , ‘ কী আপদ! ' কেহ নাহি ছাড়ে , পা দুটা তুলিতে চাহে , তুলিতে না পারে । পাখির মতন রাজা করে ঝট্‌পট্‌ , বেদে কানে কানে বলে — ‘ হিং টিং ছট্‌ । ' স্বপ্নমঙ্গলের কথা অমৃতসমান , গৌড়ানন্দ কবি ভনে , শুনে পুণ্যবান । হবুপুর রাজ্যে আজ দিন ছয়-সাত চোখে কারো নিদ্রা নাই , পেটে নাই ভাত । শীর্ণ গালে হাত দিয়ে নত করি শির রাজ্যসুদ্ধ বালবৃদ্ধ ভেবেই অস্থির । ছেলেরা ভুলেছে খেলা , পণ্ডিতেরা পাঠ , মেয়েরা করেছে চুপ — এতই বিভ্রাট । সারি সারি বসে গেছে কথা নাহি মুখে , চিন্তা যত ভারী হয় মাথা পড়ে ঝুঁকে । ভুঁইফোঁড়া তত্ত্ব যেন ভূমিতলে খোঁজে , সবে যে...