Skip to main content

Posts

Showing posts with the label

বালা নাচো তো দেখি

সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি, বালা নাচো তো দেখি বালা নাচো তো দেখি বালা নাচো তো দেখি, সোহাগ চাঁদ বদনি ধ্বনি নাচো তো দেখি। নাচেন ভালো সুন্দরী এই, বাঁধেন ভালো চুল, হেলিয়া দুলিয়া পরে নাগকেশরের ফুল বালা নাগকেশরের ফুল। সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি। রুনুঝনু নূপুর বাজে, ঠুমুক ঠুমুক তালে নয়নে নয়ন মেলিয়া গেল, শরমের রঙ লাগে গালে।  যেমনি নাচে নাগর কানাই, তেমনি নাচে রাই নাচিয়া ভুলাও তো দেখি নাগর কানাই  একবার নাচিয়া ভুলাও তো দেখি নাগর কানাই।  

বালা নাচো চাইন দেখি

সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি, বালা নাচো চাইন দেখি, বালা নাচো চাইন দেখি, সোহাগ চাঁদ বদনি ধ্বনি নাচো তো দেখি। যেমনি নাচেন নাগর কানাই  তেমনি নাচেন রাই, যেমনি নাচেন নাগর কানাই  তেমনি নাচেন রাই, নাচিয়া ভুলাও চাই  নাগর কানাই।  নাচুইন বালা সুন্দরী এ পিন্দুইন বালা নেত,  হেলিয়া দুলিয়া ফরই, সুন্ধি জালির বেত। সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি।

বাড়ির কাছে আরশিনগর

বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে। আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে।। গেরাম বেড়ে অগাধ পানি নাই কিনারা নাই তরণী পারে। মনে বাঞ্ছা করি দেখব তারে কেমনে সে গাঁয় যাই রে।। কি বলবো সেই পড়শির কথা তার হস্তপদ স্কন্ধমাথা নাইরে। ক্ষণেক থাকে শূন্যের উপর ক্ষণেক ভাসে নীরে।। পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেতো দূরে। সে আর লালন একখানে রয় তবু লক্ষ যোজন ফাঁক রে।।

বরিষ ধরা-মাঝে

বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারি শুষ্ক হৃদয় লয়ে আছে দাঁড়াইয়ে ঊর্ধ্বমুখে নরনারী ॥ না থাকে অন্ধকার, না থাকে মোহপাপ, না থাকে শোকপরিতাপ। হৃদয় বিমল হোক, প্রাণ সবল হোক, বিঘ্ন দাও অপসারি ॥ কেন এ হিংসাদ্বেষ, কেন এ ছদ্মবেশ, কেন এ মান-অভিমান। বিতর' বিতর' প্রেম পাষাণহৃদয়ে, জয় জয় হোক তোমারি ॥

বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি

বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি। দেশে দেশে কত-না নগর রাজধানী-- মানুষের কত কীর্তি, কত নদী গিরি সিন্ধু মরু, কত-না অজানা জীব, কত-না অপরিচিত তরু রয়ে গেল অগোচরে। বিশাল বিশ্বের আয়োজন; মন মোর জুড়ে থাকে অতি ক্ষুদ্র তারি এক কোণ। সেই ক্ষোভে পড়ি গ্রন্থ ভ্রমণবৃত্তান্ত আছে যাহে অক্ষয় উৎসাহে-- যেথা পাই চিত্রময়ী বর্ণনার বাণী কুড়াইয়া আনি। জ্ঞানের দীনতা এই আপনার মনে পূরণ করিয়া লই যত পারি ভিক্ষালব্ধ ধনে। আমি পৃথিবীর কবি, যেথা তার যত উঠে ধ্বনি আমার বাঁশির সুরে সাড়া তার জাগিবে তখনি, এই স্বরসাধনায় পৌঁছিল না বহুতর ডাক-- রয়ে গেছে ফাঁক। কল্পনায় অনুমানে ধরিত্রীর মহা-একতান কত-না নিস্তব্ধ ক্ষণে পূর্ণ করিয়াছে মোর প্রাণ। দু্‌র্গম তুষারগিরি অসীম নিঃশব্দ নীলিমায় অশ্রুত যে গান গায় আমার অন্তরে বারবার পাঠায়েছে নিমন্ত্রণ তার। দক্ষিণমেরুর ঊর্ধ্বে যে অজ্ঞাত তারা মহাজনশূন্যতায় রাত্রি তার করিতেছে সারা, সে আমার অর্ধরাত্রে অনিমেষ চোখে অনিদ্রা করেছে স্পর্শ অপূর্ব আলোকে। সুদূরের মহাপ্লাবী প্রচন্ড নির্ঝর মনের গহনে মোর পঠায়েছে স্বর। প্রকৃতির ঐকতানস্রোতে নানা কবি ঢালে গান নানা দিক হতে; তাদের সবার সাথে আছে মোর এইমাত্র যোগ-- সঙ্গ পাই ...

বসন্ত এসে গেছে

বাতাসে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা কারা যে ডাকিল পিছে! বসন্ত এসে গেছে মধুর অমৃত বাণী, বেলা গেল সহজেই মরমে উঠিল বাজি; বসন্ত এসে গেছে থাক তব ভুবনের ধুলিমাখা চরণে মাথা নত করে রব, বসন্ত এসে গেছে বসন্ত এসে গেছে।। গগনের নবনীলে মনের গোপনে বাজে ঐ, বাজে ঐ, বাজে ঐ পলাশের নেশা মাখি চলেছি দু’জনে বাসনার রঙে মিশি শ্যামলে স্বপনে কুহু কুহু শোনা যায় কোকিলের কুহুতান বসন্ত এসে গেছে, বসন্ত এসে গেছে পূর্ণিমা রাতে ঐ ছোটছুটি করে কারা! দখিনা পবনে দোলে, বসন্ত এসে গেছে কেমনে গাঁথিব মালা, কেমনে বাজিবে বেণু আবেগে কাঁপিছে আঁখি, বসন্ত এসে গেছে এই বসন্তে অনেক জন্ম আগে তোমায় প্রথম দেখেছিলেম আমি হেঁটেছিলেম নিরুদ্দেশের পানে সেই বসন্ত এখন ভীষণ দামী আমার কাছে, তোমার কাছে, আমার কাছে বসন্ত এসে গেছে।।

বাঙালী করেছে ভগবান

ও মনো রে, বাঙালী করেছে ভগবান রে... আমি যদি জার্মান হতাম বোতল বোতল বিয়ার খেতাম, আবার কনসার্টে পিয়ানো শুনতাম দেখতিস আমার মান রে। আমি যদি ফ্রেঞ্চ হতাম চিজ রুটি আর ওয়াইন খেতাম, গায়ে পার্ফিউম মেখে করতাম সংস্কৃতির ভান রে। আমি যদি ইটালিয়ান হতাম পিৎজা কাপুচিনো খেতাম, ভূমধ্য সাগরে আবার করতাম আমি স্নান রে। আমি যদি বৃটিশ হতাম কাউন্টি লীগে চিকেন খেতাম, আবার রানীর থেকে নাইটহুড পেতাম করতাম হুইস্কি পান রে। আমি যদি স্প্যানীশ হতাম ফ্ল্যামিঙ্গো গিটার বাজাইতাম, বুল ফাইটিং করতাম দেখতি মাতাজলের জান রে। আমি যদি আমেরিকান হতাম দাদাগিরি খুব ফলাতাম, আবার স্যাংশানের ভয় দেখিয়ে মলে দিতাম কান রে। বঙ্গদেশে জন্ম হলো বাঙালী হয়ে থাকতে হলো, পেটে ভীষণ ক্ষিধা তবু মুখে বাউল গান রে। বাঙালী করেছে ভগবান রে...

বোকা মেয়ে

তোর বুঝি ভেঙে গেছে মাথা নাড়া বুড়ো ভেঙে গেছে পুতুল খেলার সংসার, সময়ে দেখবি সব জোড়া লেগে যাবে চুপ কর বোকা মেয়ে কাঁদিস না আর। সময় দেখবি সব ভুলায় ভুলিয়ে আনকোরা রংগুলো বুলিয়ে বুলিয়ে, মিলায় কাঁটার দাগ জোড়া লাগে ফাটা জটিলতা হয়ে যায় খুব সাদামাটা। তোর বুঝি উড়ে গেছে খাঁচা খোলা পাখি উড়ে গেছে আকাশের হৃদয় অপার, সময়ে দেখবি তুই নিজেই পালাবি চুপ কর বোকা মেয়ে কাঁদিস নে আর। সময় দেখবি সব খাঁচা খুলে দেয় তারগুলো কেটে দেয় অদৃশ্য ছুরি, ভাবনার পাখিগুলো বয়েসের ডালে বসে আর উড়ে যায় খেলে লুকোচুরি।

মালতীবালা বালিকা বিদ্যালয়

বেণীমাধব, বেণীমাধব, তোমার বাড়ি যাব বেণীমাধব তুমি কি আর আমার কথা ভাব ? বেণীমাধব মোহন বাঁশি তমাল তরু মূলে বাজিয়েছিলে, আমি তখন মালতী স্কুলে। ডেস্কে বসে অঙ্ক করি, ছোট্ট ক্লাস ঘর বাইরে দিদিমণির পাশে দিদিমণির বর। আমি তখন নবম শ্রেণি, আমি তখন শাড়ি, আলাপ হলো, বেণীমাধব, সুলেখাদের বাড়ি। বেণীমাধব, বেণীমাধব, লেখাপড়ায় ভাল শহর থেকে বেড়াতে এলে, আমার রঙ কালো। তোমায় দেখে একদৌড়ে পালিয়ে গেছি ঘরে বেণীমাধব, আমার বাবা দোকানে কাজ করে। কুঞ্জে অলি গুঞ্জে তবু ফুটেছে মঞ্জরী সন্ধ্যা বেলা পড়তে বসে অঙ্কে ভুল করি। আমি তখন নবম শ্রেণি, আমি তখন ষোলো ব্রিজের ধারে, বেণীমাধব, লুকিয়ে দেখা হলো। বেণীমাধব, বেণীমাধব, এতদিনের পরে সত্যি বল সেসব কথা এখনও মনে পড়ে? সেসব কথা বলেছ তুমি তোমার প্রেমিকাকে? আমি কেবল একটিদিন তোমার পাশে তাকে, দেখেছিলাম আলোর নীচে, অপূর্ব সে আলো। স্বীকার করি দুজনকেই মানিয়েছিল ভালো। জুড়িয়ে দিল চোখ আমার, পুড়িয়ে দিল চোখ বাড়িতে এসে বলেছিলাম – ওদের ভালো হোক। রাতে এখন ঘুমোতে যাই – একতলার ঘরে মেঝের ’পরে বিছানা পাতা, জোৎস্না এসে পড়ে। আমার পরে যে বোন ছিল, চোরাপথের বাঁক...

বিশ্বাস রাখি

বিশ্বাস রাখি চুমোতে, বিশ্বাস আশ্লেষে বিশ্বাস রাখি ঠোঁটে ঠোঁট রেখে মরে যাওয়া ভালোবেসে বিশ্বাস রাখি কামনায়, বিশ্বাস রাখি ঘামে বিশ্বাস রাখি আদরে আদরে স্বর্গ যখন নামে বিশ্বাস রাখি আঙ্গুলে, বিশ্বাস রাখি হাতে বিশ্বাস রাখি তোমার স্বপ্ন মিশবে আমার রাতে বিশ্বাস রাখি ইচ্ছে'য়, বিশ্বাস রাখি মোহে বিশ্বাস রাখি তোমাকে চাওয়ার একরোখা বিদ্রোহে বিশ্বাস রাখি দেহে, বিশ্বাস রাখি মনে বিশ্বাস রাখি কাল-বৈশাখী জুটবে ঈশানকোণে বিশ্বাস রাখি ধ্বংসে, বিশ্বাস রাখি সৃষ্টি বিশ্বাস রাখি শুকনো মাটিতে কামনা আনবে বৃষ্টি।

বয়স আমার

বয়স আমার মুখের রেখায় শেখায় আজব ত্রিকোণমিতি, কমতে থাকা চুলের ফাকে মাঝবয়সের সংস্কৃতি, হাটুতে আজ টান লেগেছে, টান লেগেছে গাঁটে গাঁটে মধ্যবিত্ত শরীরে আজ সময় শুধু ফন্দি আটে, খালি চোখে পড়তে গিয়ে হোচট খেয়ে চশমা নেয়া বয়স হওয়া মানেই বোধহয় স্বচ্ছতাকে বিদায় দেওয়া। বিদায় নিল অনেক কিছু, কোনটা আগে কোনটা পরে বয়স হচ্ছে বলেই বোধহয় মাঝে মাঝে একলা লাগে, একলা লাগার সময় মানে নিজের সঙ্গে কথা বলা তারই ফাকে কোথায় যেন অখিল বন্ধু ঘোষ-এর গলা, গলার কাছে পাল তুলেছে আজগুবি এক স্মৃতির খেয়া বয়স হওয়া মানেই বোধহয় স্মৃতির সঙ্গে আড্ডা দেওয়া। কে বলে হে আড্ডা নাকি কম বয়সের কথকথা বয়স হলেই বরং জমে আড্ডা এবং নিরবতা! নিরবতার অপর পারে সন্ধ্যে নামার একটু আগে বয়স হচ্ছে বলেই বোধহয় হাঁটতে হাঁটতে একলা লাগে; সন্ধ্যে নামার সময় হলে পশ্চিমে নয়, পূবের দিকে, মুখ ফিরিয়ে ভাববো আমি কোন দেশে রাত হচ্ছে ফিকে।

বছর কুড়ি পরে

আবার বছর কুড়ি পরে তার সাথে দেখা হয় যদি! আবার বছর কুড়ি পরে- হয়তো ধানের ছড়ার পাশে কার্তিকের মাসে- তখন সন্ধ্যার কাক ঘরে ফেরে-তখন হলুদ নদী নরম নরম হয় শর কাশ হোগলায়-মাঠের ভিতরে! অথবা নাইকো ধান ক্ষেতে আর, ব্যস্ততা নাইকো আর, হাঁসের নীড়ের থেকে খড় পাখির নীড়ের থেকে খড় ছড়াতেছে; মনিয়ার ঘরে রাত, শীত আর শিশিরের জল! জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুঁড়ি কুঁড়ি, বছরের পার- তখন হঠাৎ যদি মেঠো পথে পাই আমি তোমারে আবার! হয়তো এসেছে চাঁদ মাঝরাতে একরাশ পাতার পিছনে সরু-সরু কালো কালো ডালপালা মুখে নিয়ে তার, শিরীষের অথবা জামের, ঝাউয়ের-আমের; কুড়ি বছরের পরে তখন তোমারে নাই মনে! জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার- তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার! তখন হয়তো মাঠে হামাগুড়ি দিয়ে পেঁচা নামে বাবলার গলির অন্ধকারে অশথের জানালার ফাঁকে কোথায় লুকায় আপনাকে! চোখের পাতার মতো নেমে চুপি চিলের ডানা থামে- সোনালি সোনালি চিল-শিশির শিকার করে নিয়ে গেছে তারে- কুড়ি বছরের পরে সেই কুয়াশায় পাই যদি হঠাৎ তোমারে!

বামজ্বর

কার সাথে আছি বড় কথা নয়, কার বিরুদ্ধে আছি শত্রুর শত্রুকেই পেয়েছি, সংগ্রামে কাছাকাছি। যার সাথে খুশি থাকব এখন, বিরুদ্ধতাই থাক যা খুশি হওয়ার হোক গিয়ে আগে, বাম সরকার যাক। যাক আগে ঐ বড় শরিকটা, উদ্ধত কান কাটা ঝেটিয়ে বিদায় করুক ওদের গ্রাম বাঙলার ঝাঁটা। কে আছো এখনো ফাঁকতালে চাও, একটু বাম বিকল্প এখনো খোয়াব অথচ বলছো, নন্দীগ্রামের গল্প। বাম ডান সব নিকুচি করেছি, গণ হত্যার পর বদলা নেওয়ার দাওয়াই সারাবে, বাঙালীর বামজ্বর।

বিদ্রোহী

বল বীর - বল উন্নত মম শির! শির নেহারি আমারি, নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রীর! বল বীর - বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’ চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারা ছাড়ি’ ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া, খোদার আসন “আরশ” ছেদিয়া উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাত্রীর! মম ললাটে রুদ্র-ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর! বল বীর - আমি চির-উন্নত শির! আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস, মহা- প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস, আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর! আমি দুর্ব্বার, আমি ভেঙে করি সব চুরমার! আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল, আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃংখল! আমি মানি নাকো কোনো আইন, আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম, ভাসমান মাইন! আমি ধূর্জ্জটী, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর! আমি বিদ্রোহী আমি বিদ্রোহী-সূত বিশ্ব-বিধাত্রীর! বল বীর - চির উন্নত মম শির! আমি ঝঞ্ঝা, আমি ঘূর্ণী, আমি পথ-সম্মুখে যাহা পাই যাই চূর্ণী! আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বীর, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠুমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং...

বাঁশুরিয়া

বাঁশুরিয়া বাজাও বাঁশী দেখি না তোমায় গেয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়। এ শহরে এসছো তুমি কবে কোন রাজ্য থেকে তোমাদের দেশে বুঝি সব মানুষই বাঁশী শেখে, আমাদের স্কুল কলেজে শেখে লোকে লেখা পড়া প্রাণে গান নাই মিছে তাই রবি ঠাকুর মূর্তি গড়া, তোমার ঐ দেহাতি গান দোলে যখন বাঁশির মুখে আমাদের নকল ভণ্ড কৃষ্টি চালায় করাত বুকে, বুকে আর গলায় আমার শহর কোলকাতায় গেয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়। ঠেলা ভ্যান চালাও তুমি কিম্বা ভাড়া গাড়ির ক্লিনার ক'বছরে একবার যাও তোমার দেশের নদীর কিনার, ফাক পেলে বাঁশী বাজাও ফেলে আসা ঘরের ডাকে দেশে গিয়ে এমন সুরে হয়তো ডাকো কোলকাতাকে, ফিরে এসে উদম খাটো গায়ে গতরে ব্যস্ত হাতে মজুরিতে ভাগ বসাচ্ছে কারা তোমার কোলকাতাতে, তাদেরই গাইয়ে আমি সাজানো জলসায় গেয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়।

বাংলাদেশ

তুমি মিশ্রিত লগ্ন মাধুরীর জলে ভেজায় কবিতায় আছো সরোয়ার্দী, শেরেবাংলা, ভাসানীর শেষ ইচ্ছায়, তুমি বঙ্গবন্ধুর রক্তে আগুন জ্বলা জ্বালাময়ী সে ভাষণ তুমি ধানের শীষে মিশে থাকা শহীদ জিয়ার স্বপন। তুমি ছেলে হারা মা জাহানারা ঈমামের একাত্তরের দিনগুলি তুমি জসীম উদ্দিনের নকশী কাথার মাঠ, মুঠো মুঠো সোনার ধুলি, তুমি তিরিশ কিংবা তার অধিক লাখো শহীদের প্রাণ তুমি শহীদ মিনারে প্রভাত ফেরীর, ভাই হারা একুশের গান। আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি, জন্ম দিয়েছ তুমি মাগো, তাই তোমায় ভালোবাসি। আমার প্রানের বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি প্রানের প্রিয় মা তোকে, বড় বেশী ভালোবাসি। তুমি কবি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা উন্নত মম্ শির তুমি রক্তের কালিতে লেখা নাম, সাত শ্রেষ্ঠবীর, তুমি সুরের পাখি আব্বাসের, দরদ ভরা সেই গান তুমি আব্দুল আলীমের সর্বনাশা পদ্মা নদীর টান। তুমি সুফিয়া কামালের কাব্য ভাষায় নারীর অধিকার তুমি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের, শাণীত ছুরির ধার, তুমি জয়নুল আবেদীন, এস এম সুলতানের রঙ তুলির আঁচড় শহীদুল্লাহ কায়সার, মুনীর চৌধুরীর নতুন দেখা সেই ভোর। তুমি মিশ্রিত লগ্ন মাধুরীর জলে ভ...

বিদায় পরিচিতা

বিদায় পরিচিতা এই বিদায়ের সুর চুপি চুপি ডাকে দূর বহুদূর, দিগন্তে রযেছে আকাশ একাই বিদায় পরিচিতা আকাশ নিঃসঙ্গ, তার কাছে যাই। রাগ করে কি লাভ দোষ দিলেই বা কি প্রমানেরও নেই কিছু, সব -ই এক এক -ই, জনহীন সৈকতে সিগারেটের ছাই বিদায় পরিচিতা আকাশ ধুসর তার কাছে যাই। সাবেক কুশীলব এই নাটকে নেই গোলামচোর পালায় গোলাম থাকলেই, শাসন করে মুর্খ চোখ রাঙায় দলবল বিদায় পরিচিতা, আমার চোখে তুমি, তোমার চোখে জল। সনের আরশিতে সময় -এর মুখ রাংতায় মোরা যুগের অসুখ, নির্বোধের দল বলে, সাবাস এই তো চাই বিদায় পরিচিতা আকাশ অবাক তার কাছে যাই। রাস্তায় পরে আছে স্বপ্নের লাশ বাতাসে লুকোনো তার দীর্ঘশ্বাস, খুন হওয়া স্বপ্নের চোখ ঢেকে দেওয়া চাই বিদায় পরিচিতা আকাশ বিষন্ন, তার কাছে যাই। কি হবে গান লিখে তবু লিখি গান বয়েস হলো আমার বুড়ো হলেন ডিলান, তুমি শোনো বা না শোনো শুধু তোমাকে শোনাই বিদায় পরিচিতা তুমি একা আমি একাই।

বর্ষার দিনে

এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায়! এমন মেঘস্বরে বাদল-ঝরঝরে তপনহীন ঘন তমসায়। সে কথা শুনিবে না কেহ আর, নিভৃত নির্জন চারি ধার। দুজনে মুখোমুখি গভীর দুখে দুখী, আকাশে জল ঝরে অনিবার। জগতে কেহ যেন নাহি আর। সমাজ সংসার মিছে সব, মিছে এ জীবনের কলরব। কেবল আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে হৃদয় দিয়ে হৃদি অনুভব। আঁধারে মিশে গেছে আর সব। বলিতে বাজিবে না নিজ কানে, চমক লাগিবে না নিজ প্রাণে। সে কথা আঁখিনীরে মিশিয়া যাবে ধীরে এ ভরা বাদলের মাঝখানে। সে কথা মিশে যাবে দুটি প্রাণে। তাহাতে এ জগতে ক্ষতি কার নামাতে পারি যদি মনোভার? শ্রাবণবরিষনে একদা গৃহকোণে দু কথা বলি যদি কাছে তার তাহাতে আসে যাবে কিবা কার? আছে তো তার পরে বারো মাস, উঠিবে কত কথা কত হাস। আসিবে কত লোক কত-না দুখশোক, সে কথা কোন্‌খানে পাবে নাশ। জগৎ চলে যাবে বারো মাস। ব্যাকুল বেগে আজি বহে বায়, বিজুলি থেকে থেকে চমকায়। যে কথা এ জীবনে রহিয়া গেল মনে সে কথা আজি যেন বলা যায় এমন ঘনঘোর বরিষায়।

বড়ো আশা ক'রে এসেছি

বড়ো আশা ক'রে এসেছি গো, কাছে ডেকে লও, ফিরায়ো না জননী।। দীনহীনে কেহ চাহে না, তুমি তারে রাখিবে জানি গো। আর আমি-যে কিছু চাহি নে, চরণতলে বসে থাকিব। আর আমি-যে কিছু চাহি নে, জননী ব’লে শুধু ডাকিব। তুমি না রাখিলে, গৃহ আর পাইব কোথা, কেঁদে কেঁদে কোথা বেড়াব– ওই-যে হেরি তমসঘনঘোরা গহন রজনী।।

বঁধু, মিছে রাগ কোরো না

বঁধু, মিছে রাগ কোরো না, কোরো না। মম মন বুঝে দেখো মনে মনে--মনে রেখো, কোরো করুণা॥ পাছে আপনারে রাখিতে না পারি তাই কাছে কাছে থাকি আপনারি-- মুখে হেসে যাই, মনে কেঁদে চাই--সে আমার নহে ছলনা॥ দিনেকের দেখা, তিলেকের সুখ, ক্ষণেকের তরে শুধু হাসিমুখ-- পলকের পরে থাকে বুক ভ'রে চিরজনমের বেদনা। তারি মাঝে কেন এত সাধাসাধি, অবুধ আঁধারে কেন মরি কাঁদি-- দূর হতে এসে ফিরে যাই শেষে বহিয়া বিফল বাসনা॥