Skip to main content

Posts

Showing posts with the label Moushumi Bhowmik

তোরি জন্য

তোরি জন্য শরীরের ভারে আমি নত তোরি জন্য গল্প বুনেছি কত কত তোরি জন্য গান, তোকে ঘিরেই খেলা তোকেই দিচ্ছি আমার সকাল ছেলে বেলা। তোরি জন্য শরীরের ভারে আমি নত তোরি জন্য গল্প বুনেছি কত কত তোরি জন্য গান, তোকে ঘিরেই খেলা তোকেই দিচ্ছি আমার সকাল ছেলে বেলা। তোকে দেবে আমি আমার টিনের চাল বাড়ি তোকে দেব দেখ আমার পাহাড় সরি সরি তোকে দিয়ে দেব স্কুল পথে বাঁকে পাওয়া ফ্রকটিতে উড়ে সামাল নামাল পুন খাওয়া তোরি জন্য গান তোকে ঘিরে খেলা তোকেই দিচ্ছি আমার সকাল ছেলে বেলা। তোরি জন্য শরীরের ভারে আমি নত। টক নুন টক তেতুল আচার আছে রাখা তোরি জন্য আমার বয়ামে তেলে মাখা তোকেই দিচ্ছি জল ছপছপ ভেজা জুতো স্কুলে না যাবার আমার পুরোনো সেই ছুতো। আমার গল্প বইয়ের মলাট পাতা খুলে তোরি জন্য শব্দ বন্ধ রাখি তুলে। টক নুন টক তেতুল আচার আছে রাখা তোরি জন্য আমার বয়ামে তেলে মাখা তোকেই দিচ্ছি জল ছপছপ ভেজা জুতো স্কুলে না যাবার আমার পুরোনো সেই ছুতো। আমার গল্প বইয়ের মলাট পাতা খুলে তোরি জন্য শব্দ বন্ধ রাখি তুলে। তোকে ভাগ দিই আমার বড় হবার ব্যাথা তোকে বলে দেব আমার গোপন যত কথা এই সব আমি তোকেই দেব তোকে দেব তোর ছেলে বেলা তোর কাছ থেকে চেয়ে নেব তোকে ভাগ দিই ...

এক একটা দিন

এক একটা দিন বড় একা লাগে ।। ঘুম চোখ খুলে দেখি-ভোর নেই আর , ভালো করে সকালটা, পাওয়া হয় না। এক একটা দিন বড় একা লাগে! এক একটা দিন বড় একা লাগে! আঙ্গুলের ফাঁকে ধরা খোলা কলম, গান বা তোমাকে চিঠি লেখা হয় না এক একটা দিন বড় একা লাগে! এক একটা দিন বড় একা লাগে! এক একটা দিন বড় একা লাগে! বিকেলে তোমার সাথে একলা ঘরে কি কথা বলবো আমি ভেবে পাই না! এক একটা রাত বড় একা লাগে।। পাশ ফিরে শুলে খাট কঁকিয়ে উঠে কান পেতে থাকি হাওয়া জেগে উঠে না কান পেতে থাকি কেউ জেগে উঠে না…

ডাক আসে

ডাক আসে, তোমার না লেখা চিঠি আসেনি, আসেনা, আসবেনা জানি তবু আমি বসে থাকি, বেলা বাড়ে, রোদে কাপড় মেলি জল নামে যদি তুলি, ঘরে তুলে আনি আর তুলি মেলি ভাজ করি... দিন যায়, দিন যায়, দুপুরের অবসরে খবর কাগজে দেখি, এখানে ওখানে কত যুদ্ধ চলেছে চলে সারবাঁধা ট্যাংক গাড়ি, রিফিউজি লাইন চলে সাদা দেশদূত আর যুদ্ধবিরোধী ক্ষ্যাপা... রাত নামে, রাত নামে রাতের গভীরে আমি ঘুমের ভিতরে আমি ভিতর বাহির করি জামা তুলি মেলি, আর মানুষ মিছিলে হাঁটি রাতের অন্ধকারে কাঁটাতার ঘিরে ঘিরে ধরে... গান এসো গান এসো, গান এসো গান এসো, গান এসো গান এসো, একলা আঁধার ঘরে এসো তুমি প্রেম হয়ে প্রেম যদি না হও স্বপ্ন দেখাও তুমি স্বপ্ন না দিতে পার দুধ পোড়া ঘ্রাণ হয়ো রোদে পোড়া জামা আহা পোড়া দেহ দেশ হয়ো... গুলি লাগে গানের শরীরে...

ভাগ্য লিখন

এখন কিছুই অজানা নেই, তোমার কিংবা আমার কাছে, আমরা জানি ঘর পালানো লোকগুলো সব কোথায় আছে। অন্যরকম হবো বলে, আমরা ওপথ খুঁজেছিলাম, ঘুরেফিরে সেইতো একই চার দেওয়ালের খাঁচায় এলাম। আমরা জানি কেউ রাস্তায়, কেউ বা বাসন লবন হাতে, মেট্রো রেলের গর্তে কারো, ইরতবিতর জীবন কাটে। অনেক হলো দেয়াল লিখন, লাল কালিতে নীলে লেখা, এখন বরং তাবিজ কবজ ভাগ্য লিখন পড়তে শেখা। আমরা এখন জেনে গেছি, কথা বলার ধরন ধারণ, কোন গাছে কোন সার লাগাবো, কোন ফসলটা তোলা বারণ। আমরা এখন জেনে গেছি, সকাল দুপুর বিকেল পরে, অন্ধকারে রাত্রি নামে ক্রমে ক্রমে বয়স বাড়ে। আমরা এখন সবই জানি, মিঠে নোনা জলের তফাৎ, পোড় খাওয়া মন ক'বার বলো এক আগুনে পোড়াবে হাত। অজানা পথ অজানা পথ, পথ হারাবো কেমন করে, এখন নদী জেনে গেছে, মিলবে গিয়ে কোন সাগরে। কেউ যদি আজ অন্য কথা বলতো তবে বেশ তো হত, নতুন কোন পাহাড় যদি চুড়োর দিকে টেনে নিতো।

গরম দুপুরে

এই আধপোড়া শহরটা দগদগে ঘা নিয়ে ধুকপুক করে বাঁচে গরম দুপুরে। এই চেনামুখ শহরের অলিগলি সাপগুলি দমচেপে পড়ে থাকে গরম দুপুরে। এই ঘামে ভেজা শহরের নাগরিক ফিরিওয়ালা দরজায় টোকা মারে গরম দুপুরে। এই ঝিমধরা শহরের আলোছায়া গৃহকোণে গৃহিনী নিদ্রা দেন গরম দুপুরে। এই আধপেটা শহরের কুকুর কাকের সাথে জঞ্জালে মুখ রাখে গরম দুপুরে। এই আধপোড়া শহরের একা নদি বয়ে চলে মড়া পোড়া ছাই নিয়ে গরম দুপুরে।

আমার কিছু কথা ছিলো

আমার কিছু কথা ছিলো তোমায় বলার কেবল তোমায় যেই না আমি ঠোঁট নেড়েছি সেই কথাটা তলিয়ে গেল এ সময়ে শব্দ তলায়। কিছুই তো আর যায়না শোনা কার কথা কে বুঝবে বলো বুঝতে হলে কথার মানে চেনা পথের বাইরে চলো মন, তোমার বুকের আগল খোল। এখন নাকি শব্দগুলো এক মূহুর্তে সাগর পেড়োয় এখন নাকি যন্ত্রগুলো এপার থেকে আমার কথা তোমার পারে পৌছিয়ে দেয়। তবু কিছুই যায়না বলা শব্দ খেলায় কেবল ফাঁকি কথার পিঠে কথা সাজাই আমরা এখন একলা থাকি। তোমার আমার ক্লান্ত দেহ শব্দে কথায় ভারাক্রান্ত কত রকম কথা বলা বলতে বলতে চলতে চলতে পৌছে গেছি এ কোন প্রান্ত। হয়তো তুমি পাশেই আছো তবু তোমায় ছুঁতে কি পাই তোমার বুকে ব্যথা ছিলো কেমন করে কথা দিয়ে সেই ব্যথাতে আঙুল বুলাই। বলতে হলে নতুন কথা চেনা পথের বাইরে চলো অন্ধকারে যায়না দেখা তবু তুমি হাতড়ে চলো তোমার বুকের আগল খোলো। মন রে আমার কিছু কথা ছিলো

অনন্য

আমি খুঁজছি, আমি খুঁজছি তোমার ঠিকানা, অলি গলি ঘুরে ক্লান্ত তবু তোমায় পাচ্ছিনা। তুমি বলেছিলে সেই দিন, সেই দূপুর বেলাতে, চলে এসো ফাঁক পেলে, এসো আমার বাড়িতে। তাই আজকের এই একলা দূপুরে কাজ টাজ সব ফেলে, আমি এসেছি তোমার শহর প্রান্তে গল্প করবো বলে। হাতে ধরা আছে চিরকুট তাতে তোমার ঠিকানা, এ বি সি ব্লকের গোলক ধাঁধায় তোমায় পাচ্ছি না। সারি সারি সব বাড়ি যেন সারবাধা সব সৈন্য, সব এক রঙ সব এক ধাঁচ তুমি কোথায় থাকো অনন্য? তুমি বলেছিলে সেই দিন, সেই ব্যাস্ত সকালে, এসো নিশ্চয় এসো একবার আমাদের মিছিলে। তাই ইচ্ছে হল জানতে কিভাবে দাবির কথা তুলে, কেমন সবাই হাত ধরে ধরে গান গেয়ে পথ চলে। এসে দেখি আমি, ধর্মতলার চার কোনে চার দল, সব নানা সুরে বলে একই কথা, আমার সঙ্গে চল। এতো শব্দ এতো চিৎকার তবু কি নিদারুন দৈন্য, একই শ্লোগানে নানা গন্ধ তুমি কোথায় ছিলে অনন্য?

যশোর রোড

শত শত চোখ আকাশটা দেখে শত শত শত মানুষের দল যশোর রোডের দু-ধারে বসত বাঁশের ছাউনি, কাদামাটি জল। কাদামাটি মাখা মানুষের দল গাদাগাদি হয়ে আকাশটা দেখে আকাশে বসত মরা ঈশ্বর নালিশ জানাবে ওরা বল কাকে? শত শত মুখ হায় একাত্তুর যশোর রোড যে কত কথা বলে এত মরা মুখ আধ মরা পায়ে পূর্ব বাংলা কোলকাতা চলে । সময় চলেছে রাজপথ ধরে যশোর রোডেতে মানুষ মিছিল সেপ্টেম্বর হায় একাত্তুর গরুগাড়ি কাদা রাস্তা পিছিল। লক্ষ মানুষ ভাত চেয়ে মরে লক্ষ মানুষ শোকে ভেসে যায় গৃহহীন ভাসে শত শত লোক লক্ষ জননী পাগলের প্রায়। রিফিউজি ঘরে খিদে পাওয়া শিশু পেটগুলো সব ফুলে ফেঁপে ওঠে এইটুকু শিশু, এতবড় চোখ দিশেহারা মা কার কাছে ছোটে। সেপ্টেম্বর ভয়ে কাতর এতো এতো শুধু মানুষের মুখ যুদ্ধ, মৃত্যু তবুও স্বপ্ন ফসলের মাঠে ফেলে আসা সুখ। কার কাছে বলি ভাত রুটি কথা কাকে বলি কর কর ত্রাণ কাকে বলি ওগো মৃত্যু থামাও মরে যাওয়া বুকে এনে দাও প্রাণ। কাঁদো কাঁদো তুমি মানুষের দল তোমার শরীর ক্ষত দিয়ে ঢাকা জননীর কোলে আধপেটা শিশু এ কেমন বাঁচা, বেঁচে মরে থাকা। ছোট ছোট তুমি মানুষের দল তোমার ঘরেও মৃত্যুর ছায়া গুলিত...

চিঠি

এখন সকাল এখানে সকাল মেঘলা সকাল মাটি ভেজা ভেজা গন্ধ তোমার আকাশে কত তারা ভাসে তুমি দেখনাতো তোমার জানালা বন্ধ তোমার চিঠি কালকে পেয়েছি ক'হাজার মাইল পেড়িয়ে এসেছে তোমার কথার ছন্দ একা একা রাত কাটানো কবরে কুয়াশা ছড়ানো ভোরের খবরে পাওয়া না পাওয়ার দ্বন্দ আমার এখানে একই কাঁদাজল বর্ষা কালে দু'পায়ে মাখানো বাড়িতে বাইরে সেই অবিকল একইরকম সময় কাটানো ।। বাবার ছানিটা বেড়াল ছানাটা মায়ের পোনাটা সবই বেড়ে গেছে যাচ্ছে রাত কেটে দিন দিন কেটে দিন জলভেজা দিন নীলআকাশী দিন আসছে বলতে ভুলেছি সেই যে গাছটা আধমরা সেই ফুলের গাছটা সেই গাছটাতে নতুন কুড়িতে নতুন প্রানের ছন্দ বাঁচার সেকি আনন্দ আর কি জানাবো তোমাকে বলো কথায় কথায় বৃষ্টি নামলো হাওয়ায় ফুলের গন্ধ তুমি ভালো থেকো আমি ভালোই আছি ভালোবাসা নিও তুমি ভালো থেকো