Skip to main content

Posts

খাঁচার পাখি ছিল

খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচাটিতে, বনের পাখি ছিল বনে। একদা কী করিয়া মিলন হল দোঁহে, কী ছিল বিধাতার মনে। বনের পাখি বলে, ‘খাঁচার পাখি ভাই, বনেতে যাই দোঁহে মিলে।’ খাঁচার পাখি বলে, ‘বনের পাখি আয়, খাঁচায় থাকি নিরিবিলে।’ বনের পাখি বলে, ‘না, আমি শিকলে ধরা নাহি দিব।’ খাঁচার পাখি বলে, ‘হায়, আমি কেমনে বনে বাহিরিব।’ বনের পাখি গাহে বাহিরে বসি বসি বনের গান ছিল যত, খাঁচার পাখি গাহে শিখানো বুলি তার— দোঁহার ভাষা দুইমত। বনের পাখি বলে ‘খাঁচার পাখি ভাই, বনের গান গাও দেখি।’ খাঁচার পাখি বলে, ‘বনের পাখি ভাই, খাঁচার গান লহো শিখি।’ বনের পাখি বলে, ‘না, আমি শিখানো গান নাহি চাই।’ খাঁচার পাখি বলে, ‘হায় আমি কেমনে বনগান গাই।’ বনের পাখি বলে, ‘আকাশ ঘন নীল কোথাও বাধা নাহি তার।’ খাঁচার পাখি বলে, ‘খাঁচাটি পরিপাটি কেমন ঢাকা চারিধার।’ বনের পাখি বলে, ‘আপনা ছাড়ি দাও মেঘের মাঝে একেবারে।’ খাঁচার পাখি বলে, ‘নিরালা কোণে বসে বাঁধিয়া রাখো আপনারে।’ বনে...

ধীরে সমীরে চঞ্চল নীরে

ধীরে সমীরে চঞ্চল নীরে খেলে যবে মন্দ হিলোল, বিগলিত-কাঞ্চন সন্নিভ-শশধর জলমাঝে খেলে মৃদু দোল। যবে কনকপ্রভাতে নবরবি সাথে জাগে সুষুপ্ত ধরা,  পরিমল-পূরিত কুসুমিত কাননে পাখী গাহে সুমধুর বোল, ধীরে সমীরে চঞ্চল নীরে খেলে যবে মন্দ হিলোল। যবে শ্যামল শস্যে বিস্তৃত প্রান্তর রাজে মোহিয়া মন প্রাণ, সান্ধ্য-সমীরণ চুম্বিত চঞ্চল শীত-শিশির করে পান, কোটি নয়ন দেহ, কোটি শ্রবণ প্রভু দেহ মোরে কোটি সুকণ্ঠ, হেরিতে মোহন ছবি, শুনিতে সে সঙ্গীত তুলিতে তোমারি যশরোল! ধীরে সমীরে চঞ্চল নীরে খেলে যবে মন্দ হিলোল।

শঙ্কাশূন্য লক্ষ কন্ঠে

শঙ্কাশূন্য লক্ষ কন্ঠে বাজিছে শঙ্খ ঐ  পুণ্য-চিত্ত মৃত্যু তীর্থ-পথের যাত্রী কই।।  আগে জাগে বাধা ও ভয় ও ভয়ে ভীত নয় হৃদয়  জানি মোরা হবই হব জয়ী।।  জাগায়ে প্রাণে প্রানে নব আশা, ভাষাহীন মুখে ভাষা  হে নবীন আন নব পথের দিশা নিশি শেষের ঊষা  কেহ না দেশে মানুষ তোমরা বৈ।।  স্বর্গ রচিয়া মৃত্যুহীন চল ওরে কাঁচা চল নবীন  দৃপ্ত চরণে নৃত্য দোল জাগায়ে মরুতে রে বেদুইন!  'নাই নিশি নাই' জাগে শুভ্র দীপ্ত দিন।  নাই ওরে ভয় নাই জাগে ঊর্দ্ধে দেবী জননী শক্তিময়ী।।

ভব সাগর

ভব সাগর তারণ কারণ হে। রবি নন্দন বন্ধন খন্ডণ হে। শরণাগত কিঙ্কর ভীত মনে। গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। গুরুদেব কৃপা করো জ্ঞান হীনে  গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। হৃদি কন্দর তামস ভাস্কর হে। তুমি বিষ্ণু প্রজাপতি শঙ্কর হে। পরব্রহ্ম পরাৎপর বেদ ভণে। গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। গুরুদেব কৃপা করো জ্ঞান হীনে  গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। মন বারণ শাসন অঙ্কুশ হে। নরত্রান তরে হরি চাক্ষুষ হে। গুণগান পরায়ণ দেবগণে। গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। গুরুদেব কৃপা করো জ্ঞান হীনে  গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। কুলকুণ্ডলিনী ঘুম ভঞ্জক হে। হৃদিগ্রন্থি বিদারণ কারক হে। মম মানস চঞ্চল রাত্রি দিনে। গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। গুরুদেব কৃপা করো জ্ঞান হীনে  গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। রিপুসূদন মঙ্গলনায়ক হে। সুখ শান্তি বরাভয় দায়ক হে। ত্রয় তাপ হরে তব নাম গুণে। গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। গুরুদেব কৃপা করো জ্ঞান হীনে  গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। অভিমান প্রভাব বিনাশক হে। গতিহীন জনে তুমি রক্ষক হে। চিত শঙ্কিত বঞ্চিত ভক্তি ধনে। গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। গুরুদেব কৃপা করো জ্ঞান হীনে  গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। তব নাম সদা শুভ স...

আমার সোনার বাংলা

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি ॥ ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে, মরি হায়, হায় রে-- ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি ॥ কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো-- কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে। মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো, মরি হায়, হায় রে-- মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি ॥ তোমার এই খেলাঘরে শিশুকাল কাটিলে রে, তোমারি ধুলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানি। তুই দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে কী দীপ জ্বালিস ঘরে, মরি হায়, হায় রে-- তখন খেলাধুলা সকল ফেলে, ও মা, তোমার কোলে ছুটে আসি ॥ ধেনু-চরা তোমার মাঠে, পারে যাবার খেয়াঘাটে, সারা দিন পাখি-ডাকা ছায়ায়-ঢাকা তোমার পল্লীবাটে, তোমার ধানে-ভরা আঙিনাতে জীবনের দিন কাটে, মরি হায়, হায় রে-- ও মা...

আমি কোথায় পাব তারে

আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে হারায়ে সেই মানুষে, তার উদ্দেশে দেশ-বিদেশে আমি দেশ-বিদেশে বেড়াই ঘুরে কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে। লাগি সেই হৃদয় শশী, সদা প্রাণ হয় উদাসী পেলে মন হতো খুশি, দিবা-নিশি দেখিতাম নয়ন ভরে আমি প্রেমানলে মরছি জ্বলে, নিভাই কেমন করে মরি হায়, হায় রে।  আমি প্রেমানলে মরছি জ্বলে, নিভাই কেমন করে ও তার বিচ্ছেদে প্রাণ কেমন করে বিচ্ছেদে প্রাণ কেমন করে দেখ না তোরা হৃদয়ে এসে, দেখ না তোরা হৃদয়ে এসে কোথায় পাবো তারে, আমার মনের মানুষ যে রে। দিবো তার তুলনা কি, যার প্রেমে জগত সুখী হেরিলে জুড়ায় আঁখি, সামান্যে কি দেখিতে পারে তারে তারে যে দেখেছে সেই মজেছে ছাই দিয়ে সংসারে মরি হায়, হায় রে। তারে যে দেখেছে সেই মজেছে ছাই দিয়ে সংসারে ও সে না জানি কি কুহক জানে না জানি কুহক জানে অলক্ষ্যে মন চুরি করে, কটাক্ষে মন চুরি করে কোথায় পাবো তারে, আমার মনের মানুষ যে রে। কুল-মান সব গেল রে, তবু না পেলাম তারে প্রেমের লেশ নাই অন্তরে, তাইতে মোরে দেয় না দেখা সে রে ও তার বসত কোথা না জেনে তায় গগন ভেবে মরে ও সে মানুষের উদ্দিশ যদি জা...

জীবনে যত পূজা

জীবনে যত পূজা হল না সারা, জানি হে জানি তাও হয় নি হারা। যে ফুল না ফুটিতে ঝরেছে ধরণীতে যে নদী মরুপথে হারালো ধারা জানি হে জানি তাও হয় নি হারা॥ জীবনে আজো যাহা রয়েছে পিছে, জানি হে জানি তাও হয় নি মিছে। আমার অনাগত আমার অনাহত তোমার বীণা-তারে বাজিছে তারা-- জানি হে জানি তাও হয় নি হারা॥

বালা নাচো তো দেখি

সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি, বালা নাচো তো দেখি বালা নাচো তো দেখি বালা নাচো তো দেখি, সোহাগ চাঁদ বদনি ধ্বনি নাচো তো দেখি। নাচেন ভালো সুন্দরী এই, বাঁধেন ভালো চুল, হেলিয়া দুলিয়া পরে নাগকেশরের ফুল বালা নাগকেশরের ফুল। সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি। রুনুঝনু নূপুর বাজে, ঠুমুক ঠুমুক তালে নয়নে নয়ন মেলিয়া গেল, শরমের রঙ লাগে গালে।  যেমনি নাচে নাগর কানাই, তেমনি নাচে রাই নাচিয়া ভুলাও তো দেখি নাগর কানাই  একবার নাচিয়া ভুলাও তো দেখি নাগর কানাই।  

বালা নাচো চাইন দেখি

সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি, বালা নাচো চাইন দেখি, বালা নাচো চাইন দেখি, সোহাগ চাঁদ বদনি ধ্বনি নাচো তো দেখি। যেমনি নাচেন নাগর কানাই  তেমনি নাচেন রাই, যেমনি নাচেন নাগর কানাই  তেমনি নাচেন রাই, নাচিয়া ভুলাও চাই  নাগর কানাই।  নাচুইন বালা সুন্দরী এ পিন্দুইন বালা নেত,  হেলিয়া দুলিয়া ফরই, সুন্ধি জালির বেত। সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি।

সময় গেলে সাধন হবে না

সময় গেলে সাধন হবে না। দিন থাকিতে তিনের সাধন কেন করলে না।। জানো না মন খালে বিলে থাকে না মীন জল শুকালে। কি হবে আর বাঁধাল দিলে, মোহনা শুকনা।। অসময়ে কৃষি করে মিছামিছি খেটে মরে। গাছ যদিও হয় বীজের জোরে, ফল ধরে না।। অমাবস্যায় পূর্নিমা হয় মহাযোগ সেই দিনে উদয়। লালন বলে তাহার সময় দণ্ড রয় না।।