Skip to main content

Posts

Showing posts with the label Lopamudra Mitra

জীবন সাগর

জীবন সাগরে বাইছি তরী আমি একাকী ভাঙ্গা হাল ধরতে পারি, এই অসময়ে কোন বন্ধুর হাত ধরবে আমার হাত দেব পাড়ি। সুজন বন্ধু সে কোথায় আছে কেমন করে যে টানবে কাছে, ঝড় তুফানে যে ঢেউ এর খেলায় ভাসবে আমায় নিয়ে এই অবেলায়, ঝড়ের মাদল এই ঢেউ এর দোলা দুচোখ ভরে আমি দেখতে পারি, বন্ধু তুমি থেকো আমার পাশে হাতে হাত রেখে যেন চলতে পারি। জীবন দুলছে দুলছি আমি দুলছি তবুও আমি হাসতে জানি, এক থেকে হাজারটা বন্ধু পেলে হাজার কন্ঠে গান গাইতে পারি, এইতো সময় বন্ধু চেনার এসো সবাই মিলে জান কবুল করি, জীবন যতই কেন ভয় দেখাক সবাই মিললে তা সইতে পারি।

আমার মতে

কতবার তোর আয়না ভেঙেচুরে ফিরে তাকাই, আমার মতে তোর মতন কেউ নেই ! কতবার তোর কাঁচা আলোয় ভিজে গান শোনাই, আমার মতে তোর মতন কেউ নেই ! এই মৃত মহাদেশে রোদ্দুর বারবার , হয়তো নদীর কোনো রেশ, রাখতে পারিনি অবশেষ | অথবা খেলায় সব হাতগুলো হারবার পরেও খেলেছি এক দান , বুঝিনি কিসের এত টান ! কখনো চটি জামা ছেড়ে রেখে রাস্তায় এসে দাঁড়া ! তোর বাড়ির পথে যুক্তির সৈন্য, যতটা লুকিয়ে কবিতায় , তারও বেশি ধরা পড়ে যায় | তোর উঠোন জুড়ে বিশাল অঙ্ক , কষতে বারণ ছিল তাই, কিছুই বোঝা গেলনা প্রায় !

তোমার জন্য

তোমার জন্য মেঘলা দুপুর, অসময়ে বর্ষণ তোমার জন্য ক্ষনে দেখা আলো বিকেলের আয়োজন তোমার জন্য সুর খুঁজে পায় আমার একলা গান এ মরুভূমিতে তোমার জন্য আমার পুষ্পস্নান ডেকে যাই তোমাকে, শুধু বার বার ডেকে যাই.. বিধুর আকাশে সন্ধ্যা তারাটি তোমাকে ভেবে সাজাই ।। তোমার জন্য মিছিলে মিছিলে স্লোগানের উঠা পড়া তোমার জন্য ভোরের আকাশ শিউলি গন্ধে ভরা ।। তোমাকে ভেবে এ জীবনে লাগে ঝড়ের ভীষণ টান এ মরুভূমিতে তোমার জন্য আমার পুষ্পস্নান ডেকে যাই তোমাকে, শুধু বার বার ডেকে যাই শারদ আলোতে আগমনী গানে তোমাকেই খুঁজে পাই ।। তোমার জন্য তুচ্ছ করেছি অপমান অভিমান তোমার জন্য বেপরোয়া বুকে ভালবাসা পাই প্রান ।। তোমার জন্য ভরা বাহে ধান নবান্নে অঘ্রাণ এ মরুভূমিতে তোমার জন্য আমার পুষ্পস্নান ডেকে যাই তোমাকে, শুধু বার বার ডেকে যাই বার বার এসে হে জন্মভূমি তোমাকে যেন পাই ।। বার বার এসে হে জন্মভূমি তোমাকে যেন পাই

মনে পড়ে সেই

মনে পড়ে সেই সুপুরি গাছের সারি তারপাশে মৃদু জ্যোত্‌স্না-মাখানো গ্রাম, মাটির দেয়ালে গাঁথা আমাদের বাড়ি ছোট ছোট সুখে সিদ্ধ মনোস্কাম। পড়শি নদীটি ধনুকের মত বাঁকা উরু-ডোবা জলে সারাদিন খুনসুটি, বাঁশের সাঁকোটি শিশু শিল্পীর আঁকা হেলানো বটের গায়ে দোল খায় ছুটি এপারে-ওপারে ঢিল ছুঁড়ে ডাকাডাকি ও দিকের গ্রামে রোদ্দুর কিছু বেশি, ছায়া ঠোঁটে নিয়ে উড়ে যায় কটি পাখি ভরা নৌকায় গান গায় ভিনদেশী। আমার বন্ধু আজানের সুরে জাগে আমার দুচোখে তখনো স্বপ্নলতা, ভোরের কুসুম ওপারে ফুটেছে আগে এপারে শিশিরপতনের নীরবতা। আমার বন্ধু বহু ঝগড়ার সাথি কথায় কথায় এই ভাব এই আড়ি, মার কাছে গিয়ে পাশাপাশি হাত পাতি গাব গাছে উঠে সে হাতেই কাড়াকাড়ি। আমার বন্ধু দুনিয়াদারির রাজা মিথ্যে কথায়  জগৎ  সভায় সেরা, দোষ না করেও পিঠ পেতে নেয় সাজা আমি দেখি তার সহাস্য মুখে ফেরা। বন্ধু হারালে দুনিয়াটা খাঁ খাঁ করে ভেঙে যায় গ্রাম, নদীও শুকনো ধূ ধূ, খেলার বয়েস পেরোলেও একা ঘরে বারবার দেখি বন্ধুরই মুখ শুধু। সাঁকোটির কথা মনে আছে, আনোয়ার ? এত কিছু গেল, সাঁকোটি এখনো আছে, এপার ওপার স্মৃতিময় একাকার সাঁকোটি দুলছে...

নিভন্ত এই চুল্লি

নিভন্ত এই চুল্লিতে মা একটু আগুন দে, আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি, বাঁচার আনন্দে। নোটন নোটন পায়রাগুলি খাঁচাতে বন্দী, দু’এক মুঠো ভাত পেলে তা ওড়াতে মন দি। হায় তোকে ভাত দিই  কী করে যে ভাত দিই হায় হায় তোকে ভাত দেব কী দিয়ে যে ভাত দেব হায়। নিভন্ত এই চুল্লী তবে একটু আগুন দে, হাড়ের শিরায় শিখার মাতন মরার আনন্দে। দুপারে দুই রুই কাতলার মারণী ফন্দী, বাঁচার আশায় হাত-হাতিয়ার, মৃত্যুতে মন দি। বর্গী না টর্গী না, যমকে কে সামলায় ! ধার-চকচকে থাবা ঐ দেখছ না হামলায় ? আরে যাস্ নে ও হামলায়, যাস্ নে॥ কান্না কন্যার মায়ের ধমনীতে আকুল ঢেউ তোলে, জ্বলে না, মায়ের কান্নায় মেয়ের রক্তের উষ্ণ হাহাকার মরে না, চলল মেয়ে রণে চলল। বাজে না ডম্বরু, অস্ত্র ঝন্ ঝন্ করে না, জানল না কেউ চলল মেয়ে রণে চলল। পেশীর দৃঢ় ব্যাথা, মুঠোর দৃঢ় কথা, চোখের দৃঢ় জ্বালা সঙ্গে নিয়ে, চলল মেয়ে রণে চলল। নেকড়ে-ওজর মৃত্যু এল, মৃত্যুরই গান গা, মায়ের চোখে বাপের চোখে, দু-তিনটে গঙ্গা। দূর্বাতে তার রক্ত লেগে, সহস্র সঙ্গী, জাগে ধক্ ধক্, যজ্ঞে ঢালে, সহস্র মণ ঘি। যমুনাবতী সরস্বতী, কাল যমুনার বিয়ে, যমুনা তার বাসর রচে বারুদ ...

তারা ঢাকা মেঘ

তারা ঢাকা মেঘ, মেঘে ঢাকা তারা, পাশের বাড়িতে উঠিল তারা, ঠেলা গাড়ি ভরা মাল-পত্তর, কত অ্যাডভান্স? মাসে কত ভাড়া? একতলা বাড়ি, কলোনীর পাড়া, বাবা ভোর বেলা ডিউটিতে গেলে,  বাড়িতে মায়ের কোমল পাহারা। একজন বাঁধে লম্বা বিনুনি, অন্যটি তার চুল খুলে সারা, সকালে যখন কলেজে বেরোয়ে, চনমন করে রোদ-রাস্তারা, বুকে বই ধরা, মাটিতেই চোখ, ঠিক পাশে এসে ঝলকে তাকানো, হাতের মুঠোয় ছোট্ট রুমাল, কখনো বা মুঠো হাসি আটকান, কাকে দেখে হাসি কার প্রতি  যায়? কার মুখোমুখি কে চোখ নামায়? এভাবে আমাকে, ওভাবে আমায়, চুপচাপ চিঠি ছিড়ে ফেলা সারা। মুখ দেখা আজ বন্ধ করেছে, প্রানের বন্ধু কাল ছিল যারা, দল বেধেঁ আর বসছে না কেউ, একা পথ চায় যতেক বেচারা। শেষে একদিন কাউকে না বলে, পাড়া ছেড়ে দিয়ে উঠে গেছে তারা, টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে, আকাশে তখন বিকেল কি সারা, চুপচাপ বসে রবে রাস্তারা, দেখে একে একে সবাই ফিরছে, ছিল আড্ডার সদস্য যারা, কেউ নিশ্চুপে আগুন টা চায়, কেউ অযথায় কথা খুঁজে পায়। কত অ্যাডভান্স ? বাড়াচ্ছে ভাড়া? টিপটিপ করা বৃষ্টি থামছে, ছোট ছোট বাড়ি একতলা পাড়া, সন্ধ্যের মুখে একলা দেখছে, ডুবছে উঠছে, আক...

মালতীবালা বালিকা বিদ্যালয়

বেণীমাধব, বেণীমাধব, তোমার বাড়ি যাব বেণীমাধব তুমি কি আর আমার কথা ভাব ? বেণীমাধব মোহন বাঁশি তমাল তরু মূলে বাজিয়েছিলে, আমি তখন মালতী স্কুলে। ডেস্কে বসে অঙ্ক করি, ছোট্ট ক্লাস ঘর বাইরে দিদিমণির পাশে দিদিমণির বর। আমি তখন নবম শ্রেণি, আমি তখন শাড়ি, আলাপ হলো, বেণীমাধব, সুলেখাদের বাড়ি। বেণীমাধব, বেণীমাধব, লেখাপড়ায় ভাল শহর থেকে বেড়াতে এলে, আমার রঙ কালো। তোমায় দেখে একদৌড়ে পালিয়ে গেছি ঘরে বেণীমাধব, আমার বাবা দোকানে কাজ করে। কুঞ্জে অলি গুঞ্জে তবু ফুটেছে মঞ্জরী সন্ধ্যা বেলা পড়তে বসে অঙ্কে ভুল করি। আমি তখন নবম শ্রেণি, আমি তখন ষোলো ব্রিজের ধারে, বেণীমাধব, লুকিয়ে দেখা হলো। বেণীমাধব, বেণীমাধব, এতদিনের পরে সত্যি বল সেসব কথা এখনও মনে পড়ে? সেসব কথা বলেছ তুমি তোমার প্রেমিকাকে? আমি কেবল একটিদিন তোমার পাশে তাকে, দেখেছিলাম আলোর নীচে, অপূর্ব সে আলো। স্বীকার করি দুজনকেই মানিয়েছিল ভালো। জুড়িয়ে দিল চোখ আমার, পুড়িয়ে দিল চোখ বাড়িতে এসে বলেছিলাম – ওদের ভালো হোক। রাতে এখন ঘুমোতে যাই – একতলার ঘরে মেঝের ’পরে বিছানা পাতা, জোৎস্না এসে পড়ে। আমার পরে যে বোন ছিল, চোরাপথের বাঁক...