Skip to main content

Posts

Showing posts with the label

সময় গেলে সাধন হবে না

সময় গেলে সাধন হবে না। দিন থাকিতে তিনের সাধন কেন করলে না।। জানো না মন খালে বিলে থাকে না মীন জল শুকালে। কি হবে আর বাঁধাল দিলে, মোহনা শুকনা।। অসময়ে কৃষি করে মিছামিছি খেটে মরে। গাছ যদিও হয় বীজের জোরে, ফল ধরে না।। অমাবস্যায় পূর্নিমা হয় মহাযোগ সেই দিনে উদয়। লালন বলে তাহার সময় দণ্ড রয় না।।

সফল করো হে প্রভু আজি সভা

সফল করো হে প্রভু আজি সভা, এ রজনী হোক মহোৎসবা ॥ বাহির অন্তর ভুবনচরাচর মঙ্গলডোরে বাঁধি এক করো-- শুষ্ক হৃদয় করো প্রেমে সরসতর, শূন্য নয়নে আনো পুণ্যপ্রভা ॥ অভয়দ্বার তব করো হে অবারিত, অমৃত-উৎস তব করো উৎসারিত, গগনে গগনে করো প্রসারিত অতিবিচিত্র তব নিত্যশোভা। সব ভকতে তব আনো এ পরিষদে, বিমুখ চিত্ত যত করো নত তব পদে, রাজ-অধীশ্বর, তব চিরসম্পদ সব সম্পদ করো হতগরবা ॥

সেই ফুলের দল

রাবেয়া কি রুখসানা, ঠিক তো মনে পড়েনা অস্থির এ ভাবনা, শুধু করে আনাগোনা, ফেলে আসা দিন তার মিছে মনে হয়, নামে কিবা আসে যায়। সোহাগে আদরে জানি রেখেছিল কেউ এই নাম... আব্বা না আপা নাকি, কারো মনে পড়ে তা-কি, তোমরা তা জান নাকি, সময় দিয়েছে ফাঁকি, অভিমানে সে মেয়েটি গেছে হারিয়ে, বুকে ভরসা নিয়ে। সীমান্ত পেরিয়ে সে এসেছিল ছেড়ে তার গ্রাম... জানি সে কোথায়, এই শহরের কোন বাগানে সে হয়ে আছে ফুল, প্রতি সন্ধ্যায়, পাঁপড়ি মেলে দিয়ে সে আবার ভোরে ঝরা বকুল... এই মেয়েটির মত, আরেকটি মেয়ে সে-ত সন্ধ্যাপ্রদীপ দিত, যত্নে গান শোনাত, হালকা পায়ে বেড়াত, বেণী দুলিয়ে, কে যে নিল ভুলিয়ে। খেলার সাথীরা তার খুঁজতে আসেনা আর রোজ... লক্ষী নামের মেয়ে, আজও তার পথ চেয়ে ফেলে আসা তার গাঁয়ে, মা কাঁদে মুখ লুকিয়ে, সন্ধ্যেবেলায় শাঁখ বাজেনাতো আর, এতে আছে কী বলার। আজও কেউ জানেনা তো কোথায় সে হয়েছে নিখোঁজ... লক্ষী রুখসানারা, আরও যত ঘরছাড়া ত্রস্ত দিশেহারা, তখনই যাদুকরেরা, নিমেষে বানিয়ে দেয় বাগানের ফুল, ঠিক নির্ভুল। এভাবে মেয়েরা সব একে একে ফুল হয়ে যায়... নতুন বাগানে এসে, নিজেকে না ভালবেসে ফুলের দলেরা শেষে, কথা বলে হেসে হ...

সুখহীন নিশিদিন পরাধীন হয়ে

সুখহীন নিশিদিন পরাধীন হয়ে ভ্রমিছ দীনপ্রাণে। সতত হায় ভাবনা শত শত,   নিয়ত ভীত পীড়িত-- শির নত কত অপমানে ॥ জানো না রে অধ-ঊর্ধ্বে বাহির-অন্তরে ঘেরি তোরে নিত্য বাজে সেই অভয়-আশ্রয়। তোলো আনত শির, ত্যজো রে ভয়ভার, সতত সরলচিতে চাহো তাঁরি প্রেমমুখপানে ॥

সোনা সোনা সোনা

সোনা সোনা সোনা, লোকে বলে সোনা সোনা নয় তত খাঁটি, বলো যত খাঁটি, তার চেয়ে খাঁটি বাংলাদেশের মাটি রে আমার জন্মভূমির মাটি। ধন জন মন যত ধন দুনিয়াতে হয় কি তুলনা বাংলার কারো সাথে কত মার ধন মানিক রতন কত জ্ঞানী গুণী কত মহাজন এনেছি আলোর সূর্য এখানে আঁধারের পথ পাতি রে আমার বাংলাদেশের মাটি আমার জন্মভূমির মাটি। এই মাটির তলে ঘুমায়েছে অবিরাম রফিক, শফিক, বরকত কত নাম কত তিতুমীর, কত ঈশা খান দিয়েছে জীবন, দেয় নি তো মান। রক্তশয্যা পাতিয়া এখানে ঘুমায়েছে পরিপাটি রে আমার বাংলাদেশের মাটি আমার জন্মভূমির মাটি।

সৎপাত্র

শুনতে পেলাম পোস্তা গিয়ে- তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে? গঙ্গারামকে পাত্র পেলে? জানতে চাও সে কেমন ছেলে? মন্দ নয় সে পাত্র ভাল- রঙ যদিও বেজায় কালো; তার উপরে মুখের গঠন অনেকটা ঠিক পেঁচার মতন। বিদ্যে বুদ্ধি? বলছি মশাই- ধন্যি ছেলের অধ্যাবসায়! উনিশটিবার ম্যাট্রিকে সে ঘায়েল হয়ে থামল শেষে। বিষয় আশায়? গরীব বেজায়- কষ্টে- সৃষ্টে দিন কেটে যায়। মানুষ তো নয় ভাই গুলো তার- একটি পাগল একটি গোঁয়ার; আরেকটি সে তৈরি ছেলে, জাল করে নোট গেছেন জেলে। কনিষ্ঠটি তবলা বাজায় যাত্রা দলে পাঁচ টাকা পায়। গঙ্গারাম তো কেবল ভোগে পিলের ‍‍‍‌‍জ়র আর পাণ্ড রোগে। কিন্তু তারা উচ্চ ঘর, কংস রাজার বংশধর! শ্যাম লাহিড়ী বনগ্রামের কি যেন হয় গঙ্গারামের।- যাহোক এবার পাত্র পেলে, এমন কি আর মন্দ ছেলে?

স্তব্ধতার গান

আজ আমি ফিরে এসেছি তোমার পাশে বসেছি বলো তোমার কথা শুনবো আজ শুনবো বলে তাই রাখিনি কাজ তোমার কথাহারা গান যার ঠিকানা জানা নেই- জানা নেই স্তব্দতার গান শুনো। প্রতিটি ঘরে ঘরে আর দেয়ালে প্রতি রাস্তার দেখেছি কথা বলে দার্শনিক শুনেছি কথা ভরা মাঙ্গলিক মানুষ মানুষের হাত ধরে মুখর হতে চায় প্রাণ ভরে তবু সে মুখরতার বুকে বাসা বাধে স্তব্ধতা – নীরবতা স্তব্ধতার গান শুনো। মানুষ কথা বলে যায় কথার কথা বলে যায় কথা বলে কথা না শুনেই কথা শুনে কথা না শুনেই কথার মানে থাকে না থাকে না তার কোন দাম- কোন দাম স্তব্ধতার গান শুনো। আমার চোখে রাখো চোখ কথার অবসান হোক এখন আর কোন শব্দ নয় এখন আর কোন কাব্য নয় এখন তুমি আমি আর কোন কথায় বাধা নেই – বাধা নেই স্তব্ধতার গান শুনো।

সোনার তরী

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।  রাশি রাশি ভারা ভারা ধান কাটা হল সারা, ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা। কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা। একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা, চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা। পরপারে দেখি আঁকা তরুছায়ামসীমাখা গ্রামখানি মেঘে ঢাকা প্রভাতবেলা-- এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা। গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে, দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে। ভরা-পালে চলে যায়, কোনো দিকে নাহি চায়, ঢেউগুলি নিরুপায় ভাঙে দু-ধারে-- দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে। ওগো, তুমি কোথা যাও কোন্‌ বিদেশে, বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে। যেয়ো যেথা যেতে চাও, যারে খুশি তারে দাও, শুধু তুমি নিয়ে যাও ক্ষণিক হেসে আমার সোনার ধান কূলেতে এসে। যত চাও তত লও তরণী-'পরে। আর আছে?-- আর নাই, দিয়েছি ভরে। এতকাল নদীকূলে যাহা লয়ে ছিনু ভুলে সকলি দিলাম তুলে থরে বিথরে-- এখন আমারে লহ করুণা করে। ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই-- ছোটো সে তরী আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি। শ্রাবণগগন ঘিরে ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে, শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি-- যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।

সিগারেট

আমরা সিগারেট। তোমরা আমাদের বাঁচতে দাও না কেন? আমাদের কেন নিঃশেষ করো পুড়িয়ে? কেন এত স্বল্প-স্থায়ী আমাদের আয়ু? মানবতার কোন্ দোহাই তোমরা পাড়বে? আমাদের দাম বড় কম এই পৃথিবীতে। তাই কি তোমরা আমাদের শোষণ করো? বিলাসের সামগ্রী হিসাবে ফেলো পুড়িয়ে? তোমাদের শোষণের টানে আমরা ছাই হই: তোমরা নিবিড় হও আরামের উত্তাপে। তোমাদের আরামঃ আমাদের মৃত্যু। এমনি ক'রে চলবে আর কত কাল? আর কতকাল আমরা এমনি নিঃশব্দে ডাকব আয়ু-হরণকারী তিল তিল অপঘাতকে? দিন আর রাত্রি - রাত্রি আর দিন; তোমরা আমাদের শোষণ করছ সর্বক্ষণ আমাদের বিশ্রাম নেই, মজুরি নেই নেই কোনো অল্প-মাত্রার ছুটি। তাই, আর নয়; আর আমরা বন্দী থাকব না কৌটোয় আর প্যাকেটে; আঙুলে আর পকেটে সোনা-বাঁধানো 'কেসে' আমাদের নিঃশ্বাস হবে না রুদ্ধ। আমরা বেরিয়ে পড়ব, সবাই একজোটে, একত্রে- তারপর তোমাদের অসতর্ক মুহূর্তে জ্বলন্ত আমরা ছিট্‌কে পড়ব তোমাদের হাত থেকে বিছানায় অথবা কাপড়ে; নিঃশব্দে হঠাৎ জ্বলে উঠে বাড়িসুদ্ধ পুড়িয়ে মারব তোমাদের যেমন করে তোমরা আমাদের পুড়িয়ে মেরেছ এতকাল।।