Skip to main content

Posts

Showing posts with the label

আমার সোনার বাংলা

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি ॥ ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে, মরি হায়, হায় রে-- ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি ॥ কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো-- কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে। মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো, মরি হায়, হায় রে-- মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি ॥ তোমার এই খেলাঘরে শিশুকাল কাটিলে রে, তোমারি ধুলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানি। তুই দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে কী দীপ জ্বালিস ঘরে, মরি হায়, হায় রে-- তখন খেলাধুলা সকল ফেলে, ও মা, তোমার কোলে ছুটে আসি ॥ ধেনু-চরা তোমার মাঠে, পারে যাবার খেয়াঘাটে, সারা দিন পাখি-ডাকা ছায়ায়-ঢাকা তোমার পল্লীবাটে, তোমার ধানে-ভরা আঙিনাতে জীবনের দিন কাটে, মরি হায়, হায় রে-- ও মা...

আমি কোথায় পাব তারে

আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে হারায়ে সেই মানুষে, তার উদ্দেশে দেশ-বিদেশে আমি দেশ-বিদেশে বেড়াই ঘুরে কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে। লাগি সেই হৃদয় শশী, সদা প্রাণ হয় উদাসী পেলে মন হতো খুশি, দিবা-নিশি দেখিতাম নয়ন ভরে আমি প্রেমানলে মরছি জ্বলে, নিভাই কেমন করে মরি হায়, হায় রে।  আমি প্রেমানলে মরছি জ্বলে, নিভাই কেমন করে ও তার বিচ্ছেদে প্রাণ কেমন করে বিচ্ছেদে প্রাণ কেমন করে দেখ না তোরা হৃদয়ে এসে, দেখ না তোরা হৃদয়ে এসে কোথায় পাবো তারে, আমার মনের মানুষ যে রে। দিবো তার তুলনা কি, যার প্রেমে জগত সুখী হেরিলে জুড়ায় আঁখি, সামান্যে কি দেখিতে পারে তারে তারে যে দেখেছে সেই মজেছে ছাই দিয়ে সংসারে মরি হায়, হায় রে। তারে যে দেখেছে সেই মজেছে ছাই দিয়ে সংসারে ও সে না জানি কি কুহক জানে না জানি কুহক জানে অলক্ষ্যে মন চুরি করে, কটাক্ষে মন চুরি করে কোথায় পাবো তারে, আমার মনের মানুষ যে রে। কুল-মান সব গেল রে, তবু না পেলাম তারে প্রেমের লেশ নাই অন্তরে, তাইতে মোরে দেয় না দেখা সে রে ও তার বসত কোথা না জেনে তায় গগন ভেবে মরে ও সে মানুষের উদ্দিশ যদি জা...

আনন্দধারা বহিছে ভুবনে

আনন্দধারা বহিছে ভুবনে, দিনরজনী কত অমৃতরস উথলি যায় অনন্ত গগনে ॥ পান করি রবে শশী অঞ্জলি ভরিয়া-- সদা দীপ্ত রহে অক্ষয় জ্যোতি-- নিত্য পূর্ণ ধরা জীবনে কিরণে ॥ বসিয়া আছ কেন আপন-মনে, স্বার্থনিমগন কী কারণে? চারি দিকে দেখো চাহি হৃদয় প্রসারি, ক্ষুদ্র দুঃখ সব তুচ্ছ মানি প্রেম ভরিয়া লহো শূন্য জীবনে ॥

আমি চাই

আমি চাই সাঁওতাল তার ভাষায় বলবে রাষ্ট্রপুঞ্জ আমি চাই মহল ফুটবে সৌখিনতার গোলাপ কুঞ্জে। আমি চাই নেপালি ছেলেটা গিটার হাতে আমি চাই তার ভাষাতেই গাইতে আসবে কলকাতাতে। আমি চাই ঝাড়খণ্ডের তীর ধনুকে আমি চাই ঝুমুর বাজবে ঝুমুর বাজবে তোমার বুকে। আমি চাই কাশ্মীরে আর শুনবে না কেউ গুলির শব্দ আমি চাই মানুষের হাতে রাজনীতি হবে ভীষণ জব্দ। আমি চাই হিন্দু নেতার সালমা খাতুন পুত্র বধূ আমি চাই ধর্ম বলতে মানুষ বুঝবে মানুষ শুধু, আমি চাই বিজেপি নেতার সালমা খাতুন পুত্র বধূ আমি চাই ধর্ম বলতে মানুষ বুঝবে মানুষ শুধু। আমি চাই গাছ কাতা হলে শোক সভা হবে বিধান সভায় আমি চাই প্রতিবাদ হবে রক্ত পলাশে রক্ত জবায়। আমি চাই পুকুর বাঁচালে আকাশ ভাসবে চোখের জ্বলে আমি চাই সব্বাই জানও দিন বদলের পদ্য বলে। আমি চাই মন্ত্রীরা প্রেম করুন সকলে নিয়ম করে আমি চাই বক্তৃতা নয় কবিতা বলুন কণ্ঠ ধরে। যদি বল চাইছি নেহাত…যদি বল চাইছি নেহাত চাইছি নেহাত স্বর্গ রাজ্য আমি চাই একদিন হবে একদিন হবে এটাই গ্রাহ্য।

আমার ভালোবাসার রাজপ্রাসাদে

আমার ভালোবাসার রাজপ্রাসাদে নিশুতি রাত গুমরে কাঁদে, মনের ময়ুর মরেছে ঐ ময়ুর মহলেই, দেখি মুকুটটা তো পড়ে আছে রাজাই শুধু নেই, আমার ভালোবাসার রাজপ্রাসাদে... দরবারে তার ছিলো আমার সোনার সিংহাসন আমি হাজার হাতের সেলাম পেলাম পেলাম না তো মন, আজ মখমলের ঐ পর্দাগুলো ওড়ায় শুধু স্মৃতির ধূলো ফুলবাগানের বাতাস এসে আছড়ে পড়ে যেই, দেখি মুকুটটা তো পড়ে আছে রাজাই শুধু নেই, আমার ভালোবাসার রাজপ্রাসাদে... আমার নাচঘরে যেই পাগল হত নূপুর তোমার পায়, আমি ইরান দেশের গোলাপ ছুঁড়ে দিতাম তোমার গায়, তুমি শ্বেত পাথরের গেলাস ভরে অনেক শুধা দিতে ভরে, আমি বিষও পেলাম তোমার দেয়া ঐ পেয়ালাতেই, দেখি মুকুটটা তো পড়ে আছে রাজাই শুধু নেই, আমার ভালোবাসার রাজপ্রাসাদে।

আমার বলার কিছু ছিল না

আমার বলার কিছু ছিল না না-গো আমার বলার কিছু ছিল না, চেয়ে চেয়ে দেখলাম তুমি চলে চলে তুমি চলে গেলে চেয়ে চেয়ে দেখলাম, আমার বলার কিছু ছিল না। সব কিছু নিয়ে গেলে যা দিয়েছিলে আনন্দ হাসি গান সব তুমি নিলে।। যাবার বেলায় শুধু নিজেরই অজান্তে স্মৃতি টাই গেলে তুমি ফেলে, তুমি চলে গেলে আমার বলার কিছু ছিল না না-গো আমার বলার কিছু ছিল না। দু’হাতে তোমার ওগো এতকিছু ধরে গেল ধরলো না শুধু এই স্মৃতি টা, রয়ে গেল শেষ দিন রয়ে গেলো সেদিনের প্রথম দেখার সেই ইতিটা। কোথা থেকে কখন যে কি হয়ে গেল সাজানো ফুলের বনে ঝড় বয়ে গেল, সে ঝড় থামার পরে পৃথিবী আঁধার হলো তবু দেখি দ্বীপ গেছো জ্বেলে, তুমি চলে গেলে আমার বলার কিছু ছিল না, চেয়ে চেয়ে দেখলাম তুমি চলে চলে তুমি চলে গেলে চেয়ে চেয়ে দেখলাম, আমার বলার কিছু ছিল না, না-গো আমার বলার কিছু ছিল না।

আকাশে ছড়ানো মেঘের কাছাকাছি

আকাশে ছড়ানো মেঘের কাছাকাছি  দেখা যায় তোমাদের বাড়ি, তার নীল দেওয়াল যেন স্বপ্ন বেলোয়ারী  তার কাঁচ দেওয়াল যেন স্বপ্ন বেলোয়ারী। আকাশে ছড়ানো মেঘের কাছাকাছি দেখা যায় তোমাদের বাড়ি। চিলেকোঠায় বসা বাদামী বেড়াল বোনে শূণ্যে মায়াজাল, ছাইরঙা প্যাঁচা সে চোখ টিপে বসে আছে কত না বছরকাল। কালো দরজা খুলে বাইরে তুমি এলে বাগানের গাছে হাসি ছড়াবে বুনোফুলে, এই বাড়ির নেই ঠিকানা, শুধু অজানা লাল সুরকির পথ শূণ্যে দেয় পাড়ি, সেই বাড়ির নেই ঠিকানা, শুধু অজানা লাল সুরকির পথ শূণ্যে দেয় পাড়ি, বাঁকানো সিঁড়ির পথে, সেখানে নেমে আসে চাঁদের আলো, কাওকে চেনো না তুমি, তোমাকে চেনে না কেউ সেই তো ভালো। সেথা একলা তুমি গান গেয়ে ঘুরে ফিরে, তোমার এলোচুল ঐ বাতাসে শুধু ওড়ে। সেই বাড়ির নেই ঠিকানা, শুধু অজানা লাল সুরকির পথ শূণ্যে দেয় পাড়ি, আকাশে ছড়ানো মেঘের কাছাকাছি, দেখা যায় তোমাদের বাড়ি৷

আজ থেকে

আজ থেকে রাত করে শোবো না, রোজ রোজ হাত মুখ ধোবো না। খুলব না চিঠি নীল খামটি, কপালের ভাঁজে জমে ঘাম টি। চোখ মেলে দেখব না দুনিয়া, খাঁচা খুলে ছেড়ে দেব মুনিয়া। শুনবো না একঘেঁয়ে রেডিও, ঘুম পেলে মশারিতে সেধিও। নাকফুল ঝিকমিক, ঘোর লাগা চারদিক, রাতভর আড়মোড়া ভাঙব। বৃষ্টির রিমঝিম, মাথাব্যাথা ঝিমঝিম, দুই গাল লাল রঙে রাঙব। আজ থেকে ঘুরবো না বাইকে, তোর কথা বলে দেব মাইকে। আজ আমি প্রেসিডেন্ট ক্যাস্ট্রো, ছেড়া তবু পরনের বস্ত্র। আজ আমি বাড়ি ফিরে যাব না, অকারণে গাল ছুঁয়ে দেব না। আজ থেকে নেই কোন কষ্ট, আজ থেকে আমি পথ ভ্রষ্ট। মুঠো ভরা গল্প,সুখ তাতে অল্প, মানিব্যাগে ব্যাথা গুলো রাখব। জ্বলজ্বলে জ্যোছনা, চোখ দুটো মুছোনা, চল আজ রোদ গায়ে মাখব। আজ আমার দিন গেছে থমকে, সুতো কাটা ঘুড়ি গেল চমকে। জোনাকির ঝাঁক আজ খুঁজিনি, তোমারি চোখের ভাষা বুঝিনি। চাঁদটাকে খুলে রেখে পকেটে, ঘর বাঁধি দ্রুত গতি রকেটে। আজ কোন বাঁধা নেই মনেতে, ছুঁতো খুঁজে হাত দুটো ধরতে। আধফোটা ফুলটা, শোধরানো ভুলটা, তোমার স্পর্শ পেয়ে শুদ্ধ। ফুটপাতে রোদ্দুর, চোখ যায় যতদূর, ফিরবার পথ তবু রুদ্ধ..

আমার মতে

কতবার তোর আয়না ভেঙেচুরে ফিরে তাকাই, আমার মতে তোর মতন কেউ নেই ! কতবার তোর কাঁচা আলোয় ভিজে গান শোনাই, আমার মতে তোর মতন কেউ নেই ! এই মৃত মহাদেশে রোদ্দুর বারবার , হয়তো নদীর কোনো রেশ, রাখতে পারিনি অবশেষ | অথবা খেলায় সব হাতগুলো হারবার পরেও খেলেছি এক দান , বুঝিনি কিসের এত টান ! কখনো চটি জামা ছেড়ে রেখে রাস্তায় এসে দাঁড়া ! তোর বাড়ির পথে যুক্তির সৈন্য, যতটা লুকিয়ে কবিতায় , তারও বেশি ধরা পড়ে যায় | তোর উঠোন জুড়ে বিশাল অঙ্ক , কষতে বারণ ছিল তাই, কিছুই বোঝা গেলনা প্রায় !

আগুন দেখেছি আমি

আগুন দেখেছি আমি কত জানলায় কত জানলায় তার মুখের আদল কত জানলায় ঝরে অকাল বাদল। কত জানলার কাছে কত চেনা নাম কত দেখা হাসিমুখ ভাসে অবিরাম কত জানলার কাছে একলা মানুষ একলা পৃথিবী তার যেন মহাকাল কত জানলায় আসে একার সকাল। কত জানলার কাছে রাখা পোস্টার কত কথা কত ক্ষিদে কত চিৎকার কত জানলার কাছে কাতারে কাতার মানুষ জমেছে, দাবি গরাদ ভাঙার ভাঙে যেন জানলার গরাদ সবার।

আমার কিছু কথা ছিলো

আমার কিছু কথা ছিলো তোমায় বলার কেবল তোমায় যেই না আমি ঠোঁট নেড়েছি সেই কথাটা তলিয়ে গেল এ সময়ে শব্দ তলায়। কিছুই তো আর যায়না শোনা কার কথা কে বুঝবে বলো বুঝতে হলে কথার মানে চেনা পথের বাইরে চলো মন, তোমার বুকের আগল খোল। এখন নাকি শব্দগুলো এক মূহুর্তে সাগর পেড়োয় এখন নাকি যন্ত্রগুলো এপার থেকে আমার কথা তোমার পারে পৌছিয়ে দেয়। তবু কিছুই যায়না বলা শব্দ খেলায় কেবল ফাঁকি কথার পিঠে কথা সাজাই আমরা এখন একলা থাকি। তোমার আমার ক্লান্ত দেহ শব্দে কথায় ভারাক্রান্ত কত রকম কথা বলা বলতে বলতে চলতে চলতে পৌছে গেছি এ কোন প্রান্ত। হয়তো তুমি পাশেই আছো তবু তোমায় ছুঁতে কি পাই তোমার বুকে ব্যথা ছিলো কেমন করে কথা দিয়ে সেই ব্যথাতে আঙুল বুলাই। বলতে হলে নতুন কথা চেনা পথের বাইরে চলো অন্ধকারে যায়না দেখা তবু তুমি হাতড়ে চলো তোমার বুকের আগল খোলো। মন রে আমার কিছু কথা ছিলো

আমাকে আমার মত থাকতে দাও

আমাকে আমার মত থাকতে দাও আমি নিজেকে নিজের মত গুছিয়ে নিয়েছি, যেটা ছিলনা ছিলনা সেটা না পাওয়ায় থাক সব পেলে নষ্ট জীবন। তোমার ঐ দুনিয়ার ঝাপসা আলোয় কিছু সন্ধ্যের গুড়ো হাওয়া কাঁচের মত, যদি উড়ে যেতে চাও তবে গা ভাসিয়ে দাও দুরবিন চোখ রাখবো না না না। এই জাহাজ মাস্তুল ছারখার, তবু গল্প লিখছি বাঁচবার। আমি রাখতে চাই না আর তার, কোন রাত-দুপুরের আবদার। তাই চেষ্টা করছি বার বার সাঁতরে পাড় খোঁজার। কখনো আকাশ বেয়ে চুপ করে যদি নেমে আসে ভালবাসা খুব ভোরে, চোখ ভাঙ্গা ঘুমে তুমি খুঁজো না আমায় আসে পাশে আমি আর নেই। আমার জন্য আলো জ্বেলো নাকো কেউ আমি মানুষের সমুদ্রে গুনেছি ঢেউ এই স্টেশন চত্ত্বরে হারিয়ে গিয়েছি শেষ ট্রেনে ঘরে ফিরবো না না না। তোমার রক্তে আছে স্বপ্ন যত, তারা ছুটছে রাত্রি-দিন নিজের মত, কখনও সময় পেলে একটু ভেবো- আঙ্গুলের ফাঁকে আমি কই? হিসাবের ভিড়ে আমি চাই না ছুঁতে যত শুকনো পেঁয়াজকলি ফ্রিজের শীতে, আমি ওবেলার ডাল-ভাতে ফুরিয়ে গেছি গেলাসের জলে ভাসবো না না না।

আমাদের জন্য

গড়িয়াহাটার মোড়, মিনি মিনি বাস বাস, বাসের টারমিনাসে, মন মরা সারি সারি মুখ চোখ নাক হাত, রোগা রোগা চেহারার কনডাক্টার সব আমাদেরই জন্য, সব আমাদেরই জন্য। চৌরঙ্গীর আলো এবং লোড শেডিং, পার্ক স্ট্রীট জমকালো, কাগজে হেডিং। আমাদেরই জন্য, সব আমাদেরই জন্য। বেদম ট্র্যাফিক জ্যাম, ঠান্ডা স্যালামি হ্যাম, চকলেট, ক্যাডবেরি, মাদার ডেয়ারী, আমাদেরই জন্য, সব আমাদেরই জন্য। বাজারের দরাদরি, রুটি ভাত তরকারি, সা নি ধা পা মা গা রে সা মাদার টেরেসা, আমাদেরই জন্য, সব আমাদেরই জন্য। কুঁয়াশা কুয়াশা কাদা, ভোর বেলা গলা সাধা, সারেগা রেগামা গামা গামাপা মাপাধা পাধা পাধানি ধানিসা– আমাদেরই জন্য, সব আমাদেরই জন্য। ফুটবোর্ডে ঝুলে যাওয়া, অথবা লেডিজ সীট- তাক্ করে উদাসীন, আকাশ কুসুম টিক্ টিক্- টিকিট কাটতে গিয়ে ব্যাজার মানুষ, খুচ্-খুচরো পয়সা নেই আমাদেরই জন্য, নেই আমাদেরই জন্য। সা গা পা ধানি ধানি পাধানি, সানিধা নিধা পাগা সাগা পাধানি, বছরে তিরিশবার চিত্রাঙ্গদা আর শ্যামা শাপ-মোচনের অশ্রু মোচন, আমাদেরই জন্য। গাজনের ছয়লাপ, আধুনিক কিং খাপ, কিং সাইজ ভজনের শিবের গাজন, আমাদেরই জন্য। সংস্কৃতির ঢাক...

আজ রাতে কোন রূপকথা নেই

চাঁদ মামা আজ বড্ড একা বড় হয়েছি আমি, রোজ রাতে আর হয়না কথা, হয়না নেওয়া হামি।। রোজ রাতে আর চাদের বুড়ি কাটেনা চরকা রোজ, ও বুড়ি তুই আছিস কেমন? হয়না নেয়া খোঁজ। কোথায় গেল সেই রূপকথার রাত হাজার গল্প শোনা রাজার কুমার কোটালকুমার পক্ষীরাজ সে ঘোড়া, কেড়ে নিলো কে সে আজব সময় আমার কাজলা দিদি কে রে তুই কোন দৈত্য দানব সব যে কেড়ে নিলি.. কে রে তুই? কে রে তুই?? সব সহজ শৈশব কে বদলে দিলি কিছু যান্ত্রিক বর্জ্যে তুই কে রে তুই?? যত বিষাক্ত প্রলোভনে আমায় ঠেলে দিলি কোন এক ভুল স্রোতে.. আলাদিন আর যাদুর জিন আমায় ডাকছে শোনো, ব্যস্ত আমি ভীষণ রকম সময় তো নেই কোন। আলিবাবার দরজা খোলা চল্লিশ চোর এলে সিন্দাবাদটা একলা বসে আছে সাগর তীরে, সময়টা আজ কেমন যেন বড় হয়ে গেছি আমি তারা গুলো আজ ও মেঘের আড়াল কোথায় গিয়ে নামি..

আমি চিনি গো চিনি

আমি চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী। তুমি থাক সিন্ধুপারে ওগো বিদেশিনী॥ তোমায় দেখেছি শারদপ্রাতে, তোমায় দেখেছি মাধবী রাতে, তোমায় দেখেছি হৃদি-মাঝারে ওগো বিদেশিনী। আমি আকাশে পাতিয়া কান শুনেছি শুনেছি তোমারি গান, আমি তোমারে সঁপেছি প্রাণ ওগো বিদেশিনী। ভুবন ভ্রমিয়া শেষে আমি এসেছি নূতন দেশে, আমি অতিথি তোমারি দ্বারে ওগো বিদেশিনী॥

আমি তোমার প্রেমে

আমি তোমার প্রেমে হব সবার কলঙ্কভাগী। আমি সকল দাগে হব দাগি॥ তোমার পথের কাঁটা করব চয়ন, যেথা তোমার ধুলার শয়ন সেথা আঁচল পাতব আমার-- তোমার রাগে অনুরাগী॥ আমি শুচি-আসন টেনে টেনে বেড়াব না বিধান মেনে, যে পঙ্কে ওই চরণ পড়ে তাহারি ছাপ বক্ষে মাগি॥

আমি জেনে শুনে

আমি, জেনে শুনে বিষ করেছি পান। প্রাণের আশা ছেড়ে সঁপেছি প্রাণ। যতই দেখি তারে ততই দহি, আপন মনোজ্বালা নীরবে সহি, তবু পারি নে দূরে যেতে, মরিতে আসি, লই গো বুক পেতে অনল-বাণ। যতই হাসি দিয়ে দহন করে, ততই বাড়ে তৃষা প্রেমের তরে, প্রেম-অমৃত-ধারা ততই যাচি, যতই করে প্রাণে অশনি দান।

আমারে তুমি অশেষ করেছ

আমারে তুমি অশেষ করেছ, এমনি লীলা তব– ফুরায়ে ফেলে আবার ভরেছ জীবন নব নব।। কত-যে গিরি কত-যে নদী -তীরে বেড়ালে বহি ছোটো এ বাঁশিটিরে, কত-যে তান বাজালে ফিরে ফিরে কাহারে তাহা কব।। তোমারি ওই অমৃতপরশে আমার হিয়াখানি হারালো সীমা বিপুল হরষে, উথলি উঠে বাণী। আমার শুধু একটি মুঠি ভরি দিতেছ দান দিবস-বিভাবরী– হল না সারা, কত-না যুগ ধরি কেবলই আমি লব।।

আমার সোনার হরিণ চাই

তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই। মনোহরণ চপলচরণ সোনার হরিণ চাই॥ সে-যে চমকে বেড়ায় দৃষ্টি এড়ায়, যায় না তারে বাঁধা। সে-যে নাগাল পেলে পালায় ঠেলে, লাগায় চোখে ধাঁদা। আমি ছুটব পিছে মিছে মিছে পাই বা নাহি পাই-- আামি আপন-মনে মাঠে বনে উধাও হয়ে ধাই॥ তোরা পাবার জিনিস হাতে কিনিস, রাখিস ঘরে ভরে-- যারে যায় না পাওয়া তারি হাওয়া লাগল কেন মোরে। আমার যা ছিল তা গেল ঘুচে যা নেই তার ঝোঁকে-- আমার ফুরোয় পুঁজি, ভাবিস, বুঝি মরি তারি শোকে? আমি আছি সুখে হাস্যমুখে, দুঃখ আমার নাই। আমি আপন-মনে মাঠে বনে উধাও হয়ে ধাই॥

আমার প্রাণের মানুষ

আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে তাই হেরি তায় সকল খানে॥ আছে সে নয়নতারায় আলোকধারায়, তাই না হারায়-- ওগো তাই দেখি তায় যেথায় সেথায় তাকাই আমি যে দিক-পানে॥ আমি তার মুখের কথা শুনব ব'লে গেলাম কোথা, শোনা হল না, হল না-- আজ ফিরে এসে নিজের দেশে এই-যে শুনি শুনি তাহার বাণী আপন গানে॥ কে তোরা খুঁজিস তারে কাঙাল-বেশে দ্বারে দ্বারে, দেখা মেলে না মেলে না,-- ও তোরা আয় রে ধেয়ে দেখ্‌ রে চেয়ে আমার বুকে -- ওরে দেখ্‌ রে আমার দুই নয়ানে॥