Skip to main content

Posts

Showing posts with the label

কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ

কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কে বুঝবে অন্তরের জ্বালা কে বুঝবে অন্তরের জ্বালা,  কে মোছাইবে আঁখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি ?  যেই দেশেতে আছে আমার বন্ধু চাঁদ কালা,  সেই দেশেতে যাব নিয়ে ফুলেরও মালা।  নগর গাঁয়ে ঘুরবো আমি,  নগর গাঁয়ে ঘুরবো আমি,  যোগিনী বেশ ধরি, কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  তোমরা যদি দেখে থাক, খবর দিও তারে, নইলে আমি প্রাণ ত্যাজিব, যমুনার জলে, তোমরা যদি দেখে থাক, খবর দিও তারে, নইলে আমি প্রাণ ত্যাজিব, যমুনার জলে, কালা আমায় করে গেল, অসহায় একাকী  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কালাচাঁদ কে হারায়ে হইলাম যোগিনী,  কত দিবা নিশি গেল, কেমনে জুড়াই প্রাণে?  লালন বলে যুগল চরণ,  আমার ভাগ্যে হবে কি,  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কে বুঝবে অন্তরের ব্যাথা কে মুছাবে আঁখি? কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ ...

কেমনে চিনিব তোমারে

মুর্শিদ ধন-হে, কেমনে চিনিব তোমারে দেখা দেও না কাছে নেও না আর কত থাকি দূরে দেখা দেও না কাছে নেও না আর কত থাকি দূরে কেমনে চিনিব তোমারে মুর্শিদ ধন-হে, কেমনে চিনিব তোমারে।  মায়াজালে বন্দী হইয়া আর কত কাল থাকিব মনে ভাবি সব ছাড়িয়া তোমারে খুঁজে নিব মায়াজালে বন্দী হইয়া আর কত কাল থাকিব মনে ভাবি সব ছাড়িয়া তোমারে খুঁজে নিব আশা করি আলো পাব ডুবে যাই অন্ধকারে আশা করি আলো পাব ডুবে যাই অন্ধকারে কেমনে চিনিব তোমারে মুর্শিদ ধন-হে, কেমনে চিনিব তোমারে।  তন্ত্রমন্ত্র করে দেখি তার ভিতরে তুমি নাই শাস্ত্রগ্রন্থ পড়ি যত আরো দূরে সরে যাই তন্ত্রমন্ত্র করে দেখি তার ভিতরে তুমি নাই শাস্ত্রগ্রন্থ পড়ি যত আরো দূরে সরে যাই কোন সাগরে খেলতে চলাই ভাবতেছি তাই অন্তরে কোন সাগরে খেলতে চলাই ভাবতেছি তাই অন্তরে কেমনে চিনিব তোমারে মুর্শিদ ধন-হে, কেমনে চিনিব তোমারে।  বাউল আবদুল করিম বলে দয়া করো আমারে নত শিরে করো জুড়ে বলি তোমার দরবারে বাউল আবদুল করিম বলে দয়া করো আমারে নত শিরে করো জুড়ে বলি তোমার দরবারে ভক্তের অধীন হও চিরদিন তাকো ভক্তের অন্তরে তুমি ভক্তের অধীন হও চিরদিন তাকো ভক্তের অন্তরে কেমনে চিনিব তোমারে মুর্শিদ ...

কী গাব আমি

কী গাব আমি, কী শুনাব, আজি আনন্দধামে।  পুরবাসী জনে এনেছি ডেকে তোমার অমৃতনামে ॥ কেমনে বর্ণিব তোমার রচনা, কেমনে রটিব তোমার করুণা, কেমনে গলাব হৃদয় প্রাণ তোমার মধুর প্রেমে ॥ তব নাম লয়ে চন্দ্র তারা অসীম শূন্যে ধাইছে-- রবি হতে গ্রহে ঝরিছে প্রেম, গ্রহ হতে গ্রহে ছাইছে। অসীম আকাশ নীলশতদল তোমার কিরণে সদা ঢলঢল, তোমার অমৃতসাগর-মাঝারে ভাসিছে অবিরামে ॥

কালো জলে

কালো জলে কুচলা তলে ডুবল সনাতন আজ সারা না, কাল সারা না, পাই যে দরসন। লদীধারে চাষে বঁধু মিছাই কর আস ঝিরিহিরি বাঁকা লদি বইছে বারমাস। চিংড়ী মাছের ভিতর করা, তায় ঢালেছি ঘি নিজের হাতে ভাগ ছাড়েছি, ভাবলে হবে কি? চালর চুলা লম্বা কোঁচা খুলি খুলি যায় দেখি সামের বিবেচনা কার ঘরে সামায়। মেদনিপুরের আয়না-চিরন, বাঁকুড়ার ঐ ফিতা যতন করে বাঁধলি মাথা তাও যে বাঁকা সিঁথা। পেছপারিয়া রাজকুমারী গলায় চন্দ্রহার দিনেদিনে বাইড়ছে তুমার চুলেরই বাহার। কলি কলি ফুল ফুটেছে নীলকালো আর সাদা কোঁড় ফুলেতে কিষ্ট আছেন কোঁড় ফুলেতে রাধা। কালো জলে কুচলা তলে ডুবল সনাতন আজ সারা না, কাল সারা না পাই যে দরসন।

কাজলা দিদি

বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই, মাগো আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই? পুকুর ধারে লেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না একলা জেগে রই- মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই? সেদিন হতে কেন মা আর দিদিরে না ডাকো;- দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো? খাবার খেতে আসি যখন, দিদি বলে ডাকি তখন, ওঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো? আমি ডাকি তুমি কেন চুপটি করে থাকো? বল মা দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে? কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল-বিয়ে হবে! দিদির মত ফাঁকি দিয়ে, আমিও যদি লুকাই গিয়ে তুমি তখন একলা ঘরে কেমন করে রবে, আমিও নাই-দিদিও নাই- কেমন মজা হবে। ভুঁই চাপাতে ভরে গেছে শিউলি গাছের তল, মাড়াস্ নে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল। ডালিম গাছের ফাঁকে ফাঁকে বুলবুলিটি লুকিয়ে থাকে, উড়িয়ে তুমি দিও না মা, ছিঁড়তে গিয়ে ফল,- দিদি এসে শুনবে যখন, বলবি কি মা বল! বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই- এমন সময় মাগো আমার কাজলা দিদি কই? লেবুর ধারে পুকুর পাড়ে ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোপে ঝাড়ে’ ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, তাইতে জেগে রই রাত্রি হলো মাগো আমার কাজলা দিদি কই?

কথা দিয়া বন্ধু

কথা দিয়া বন্ধু ফিরা না আইলা এ কেমন কথা হায় কি দশা কানে বাজে তোমার কথা বুকে বাজে তাই ব্যথা কানের কথা বুকের ব্যথা হইয়া আমার প্রাণে জাগায় যে হতাশা হায়! হায়! সব হারাইয়া কান্দি তো আশার ছলনায় ভুইল্যা গিয়া আজি পথে বসিলাম গো কবে তুমি ফিরা আসিবা বন্ধু রইলাম তার আশায় হায় দুরাশা ভাইবা হইলাম আকুল আর শুকায় যে মালার ফুল সঙ্গে শুকাইলো মোর প্রাণটা আর মনটা করি সব কাজে বিষম ভুল হায় সব হারাইয়া…

কবে যাব পাহাড়ে

কবে পাব তাহার দেখা, আহারে আহারে কবে শাল মহুয়ার, কনক চাঁপার মালা দেব তাহারে, আহারে আহারে। কবে যাব পাহাড়ে, আহারে।। আমি গায় মাখিয়া রাঙ্গামাটি নাচবো ধি তান প্রহরে খুজবো সবুজ বন ফুলে, খুজে না পাই যাহারে। মাতাল মনের জারুল ঢঙ্গে, সন্ধ্যা শিমুল অস্ত রঙ্গে সে ঝর্না ছড়ায় রুপালি চাঁদ, নাচলো নূপুর পাহাড়ে, আহারে। আমি নিশি শেষে শীত কুয়াশার জড়িয়ে চাদর তাহারে শিশির ধুলায় বুনো পায়ে আনবো মেখে শহরে। বলবো পাখি- পলাশ দেব, খোপায় হলুদ গাঁদা দেব। জড়িয়ে রাখিস সারা জীবন, যেমন ছিলি পাহাড়ে, আহারে আহারে, আহারে আহারে। কবে যাব পাহাড়ে –আহারে আহারে কবে শাল মহুয়ার, কনক চাঁপার মালা দেব তাহারে, আহারে আহারে।

কালো যমুনা

কালো যমুনাতে যাও গো রাধে কাহারও টানে যার লাগি অঙ্গ জ্বলে সে কি জানে? না বোঝে অবুঝ রাধা , কী বাঁধনে অন্তর বাঁধা কী বাশি বাজিলে অঙ্গ রয় না শয়ানে তুমি মনে মনে মন বাঁধিলা কী মায়ার বানে যার লাগি অঙ্গ জ্বলে সে কি জানে? এমন বিধান এই দুনিয়ার, হয় না হিসাব দুঃখ ব্যথার যাহার বেদন সেই গো জানে, না বোঝে কেউ আর। না বুঝিলা নিঠুর কালা, রাইকিশোরির অন্তর-জ্বালা কোন দরিয়ায় ঢেউ উঠাইলা বাঁশির গানে, তুমি ভালো বোঝো, মন্দ বোঝো তুমি স্বর্গ বোঝো, নরক বোঝো, তুমি সবই বোঝো, আর বোঝো না কী এই পরানে যার লাগি অঙ্গ জ্বলে সে কি জানে?

কাজল নদীর জলে

কাজল নদীর জলে ভরা ঢেউ ছলছলে প্রদীপ ভাসাও কারে স্মরিয়া, সোনার বরনি মেয়ে বল কার পথ চেয়ে আঁখি দুটি ওঠে জলে ভরিয়া। সাঁঝের আকাশে এত রঙ কে গো ছড়ালো মনের বীণায় এত সূর কে গো ঝরালো কারে মালা দেবে বলে অঝোরে বকুল পড়ে ঝরিয়া সোনার বরনি মেয়ে বল কার পথ চেয়ে আঁখি দুটি ওঠে জলে ভরিয়া। মনের ভ্রমর বুঝি গুঞ্জরে অনুক্ষন স্মৃতির কমল ঘিরে ঘিরে যে পাখী হারায় নীড় সুদূর আকাশে সেকি আসে কভূ ফিরে শিউলি ঝরানো আজি সন্ধ্যারও বাতাসে কে গো সাড়া দিয়ে যায় স্বপ্নেরও আভাসে কার লাগি দুলে ওঠে ক্ষনে ক্ষনে থর থর কেঁপে ওঠে এ হিয়া সোনার বরনি মেয়ে বল কার পথ চেয়ে আঁখি দুটি ওঠে জলে ভরিয়া।

কখন

কখন তোমার দেখা পাবো চোখের পাতায় চুমু খাবো, চোখের তারায় জিজ্ঞাসা : বলো কাকে বলে ভালোবাসা ? প্রশ্নোত্তরে যাবে দিন আশ্বিন থেকে আশ্বিন, পলাতক মেঘে জিজ্ঞাসা : বলো কাকে বলে ভালোবাসা ? ক্লিপটাকে টান মেরে খুলে মুখ দেবো একরাশ চুলে, নরম গন্ধে জিজ্ঞাসা : বলো কাকে বলে ভালোবাসা ? কতো আর তুমি দেবে বাধা একুশ শতকে তুমি রাধা, বাঁশি শুনে আজও জিজ্ঞাসা : বলো কাকে বলে ভালোবাসা ?

কখনও সময় আসে

কখনও সময় আসে জীবন মুচকি হাসে ঠিক যেন প’ড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা অনেক দিনের পর মিলে যাবে অবসর আশা রাখি পেয়ে যাবো বাকি দু-আনা। আশা নিয়ে ঘর করি আশায় পকেট ভ’রি প’ড়ে গেছে কোন্ ফাঁকে চেনা আধুলি হিসেব মেলানো ভার আয়-ব্যয় একাকার চ’লে গেল সারাদিন এল গোধূলি। সন্ধে নেবে লুটে অনেকটা চেটেপুটে অন্ধকারের তবু আছে সীমানা সীমানা পেরোতে চাই জীবনের গান গাই আশা রাখি পেয়ে যাবো বাকি দু-আনা।

কার দেশ

বাংলার ধনুকের ছিলায় ছিলায় যতো টান তীরের ফলায় তবু বিষ নয়, লালনের গান সে গানে বিদ্ধ বুক, রক্তে অশ্রু ছলোছলো এ যদি আমার দেশ না হয় তো, কার দেশ বলো? 'শ্যামলে শ্যামল তুমি নীলিমায় নীল' রবি গানে যে নদীর কুল নেই, সে স্রোতে বৈঠা যারা টানে আব্বাসউদ্দীন দরিয়ায় ধরেছেন সুর শাশ্বত বেহুলার ভালোবাসা, সিঁথির সিঁদুর ভাষাশহীদের খুনে শিশির ও আরো লাল হলো এ যদি আমার দেশ না হয় তো, কার দেশ বলো? স্মৃতিতে এখনো শুনি বঙ্গবন্ধুর আহ্বান পূবের আকাশ ছুঁয়ে শান্তিতে ভোরের আজান একুশের হাত ধরে চেতনার হয় হাতেখড়ি বাংলা দেখলে আমি এখনো 'বাংলাদেশ' পড়ি মুক্তিযুদ্ধ ডাকে আগামীর দিকে হেঁটে চলো এ যদি আমার দেশ না হয় তো, কার দেশ বলো?

কত দিন দেখিনি তোমায়

কত দিন দেখিনি তোমায় তবু মনে পরে তব মুখ খানি স্মৃতির মুখুরে মম , আজো তবু ছায়া পরে রানী কতদিন ..... কতদিন দেখিনি তোমায় কত দিন তুমি নাই কাছে তবু হৃদয়ের তৃষা জেগে আছে কত দিন তুমি নাই কাছে তবু হৃদয়ের তৃষা জেগে আছে, জেগে আছে, প্রিয় যবে দুরে চলে যায় সে যে আরো প্রিয় হয় জানি কতদিন , কত দিন দেখিনি তোমায় হয়ত তোমায় দেশে আজ এসেছে মাধবী রাতি তুমি জোছনায় জাগিয়েছো নিশি সাথে লয়ে নুতনো সাথী হেথা মোর দ্বীপ নেভা রাতে নিধ নাহি দুটি আঁখি পাতে প্রেম সে যে মরিচীকা হায় এ জীবনে এই শুধু মানি কত দিন দেখিনি তোমায় তবু মনে পরে তব মুখ খানি....