Skip to main content

Posts

Showing posts with the label

দিশেহারা

দিশেহারা যে মোর মন, কিসে সার্থক এ জীবন? খুঁজে ফিরি কোথা নেব ঠাঁই। চারিদিকে সবাই মোর, কেউ ভালো কেউ মন্দ ঘোর, আপন মাঠ চেঁচেঁ সেথা বেড়াই। মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই, এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই! মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই, এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই! কেউ বা মাথায় কেউ পিঠে, আমার বোলায় হাত মিঠে, দিয়ে যায় কতনা বাহবাই। কারু সন্দেহ অতি, শেষে হল এই গতি! গেল কি বিফলে জীবনটাই? মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই, এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই! মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই, এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই! পাগল হয়ে যে আমি দামী হই আরো দামী কত দাম জানিনা আমার চাই। নেবে কে কিনে আমায় তাতে কি-বা আসে যায় থেমে যেতে ভরসা না পাই। মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই, এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই! মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই, এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই! ছিল বন্ধু এক আমার পেলেম হঠাৎ দেখা তার, ভবঘুরে চালাচুলো নাই। তবু খুশীর হাসির রেশ ঠোঁটে হয়না যে তার শেষ কি তার দাম সে করেইনি যাচাই। মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই, এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই! মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই, এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই! শোনো যদি কোনোদিন আমি হঠাৎ ভাবনাহীন রাখিনি কোনো যে ঠিকানা...

দুপুরের খামোকা খেয়াল

দুপুরের খামোকা খেয়াল ভাঙা তাক পুরনো দেয়াল, খুঁজে পাওয়া বই জানতে চায় বান্ধবী আছে কে কোথায়, ধূলো লাগা চেনা বই সব হাতড়ায় কেনা শৈশব, ধূলো লাগা চেনা বই সব ভালবাসে কে না শৈশব, এক আকাশ ভর্তি অভিমান কোনদিন গাইবো না যে গান। খুঁজে পাওয়া বই, রাত জাগা চোখ আমি পড়বই, যন্ত্রণা হোক। কখনোই পাত্তা দাওনি যাকে গোপনীয় আজও বইয়ের ফাঁকে ভালবাসা বিবর্ণ পালকে... ভাল থেকো শুভ জন্মদিন লেখাগুলো আজও অমলীন, বেখেয়ালে খুঁজে পাওয়া বই ভাল আর থাকতে দিচ্ছে কই, বৃষ্টির জলে ধোয়া ছাদ ভুল করে ছুঁয়ে দেওয়া হাত, এখনো কি ভুল করে তুই একা একা ভাববো না কিছুই, শুধু আদরের ছিল অঙ্গীকার যদি একটুও, আর একটিবার। একদিন গোধূলী আলোকে খেলেছিল উদাসী বালকে সেদিনের সোনালী পালকে...

দিনগুলি মোর

দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না-- সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি। কান্নাহাসির বাঁধন তারা সইল না-- সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি॥ আমার প্রাণের গানের ভাষা শিখবে তারা ছিল আশা-- উড়ে গেল, সকল কথা কইল না-- সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি॥ স্বপন দেখি, যেন তারা কার আশে ফেরে আমার ভাঙা খাঁচার চার পাশে-- সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি। এত বেদন হয় কি ফাঁকি। ওরা কি সব ছায়ার পাখি। আকাশ-পারে কিছুই কি গো বইল না-- সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি॥

দশ ফুট বাই দশ ফুট

তক্তোপোষ বা মেঝেতে বিছানা, দড়িতে লুঙ্গি শাড়ি তিনখানা, তারি এক পাশে পড়ে আধখানা, বেওয়ারিশ বাসি বিস্কুট। দরজায় আছে নম্বর লেখা, তাই দেখে দেখে ঠিকানাটা শেখা। যদিও বাসার আসল ঠিকানা, দশ ফুট বাই দশ ফুট। জনা চারেকের বাসা এই ঘরে, পাঁচ জন হবে কিছুদিন পরে, ঘ্যাঁশা ঘ্যাঁশি করে গায়ে গায়ে শুধু কুট্ কুট্। খাওয়া বসা ঘুম একই যায়গায়, ছেলে মেয়ে দেখে আধো তন্দ্রায়, বয়স্ক দুই দেহ মিলে যায়, আঁধার ঘনালে ঘুট্ ঘুট্। রান্নাঘরটা খোঁড়া অজুহাত, ঘরণী সেখানে ছড়িয়েছে ভাত। আরশোলাদের খুলেছে বরাত, রাতে ইঁদুরের খুট্ খুট্। ছেলে বড় হয়ে বেকারীর গ্লানি, মেয়ে করে প্রেম বৃথা হয়রানি। প্রেমিকের আছে টো টো কোম্পানি, শনিবার তারা দেয় ছুট্। ছুটবে কোথায় প্রেম তাল কানা, গোপনীয়তার নেই মালিকানা। এই প্রেমিকেরও আসল ঠিকানা, দশ ফুট্ বাই দশ ফুট্।।

দুয়োরানী

ইচ্ছে করে মা, যদি তুই হতিস দুয়োরানী! ছেড়ে দিতে এমনি কি ভয় তোমার এ ঘরখানি। ঐখানে ঐ পুকুরপারে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে ও যেন ঘোর বনের মধ্যে কেউ কোত্থাও নেই। ঐখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব মোরা ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি ধনুক নিয়ে হাতে। আঁচলেতে খই নিয়ে তুই যেই দাঁড়াবি দ্বারে অমনি যত বনের হরিণ আসবে সারে সারে। শিংগুলি সব আঁকাবাঁকা, গায়েতে দাগ চাকা চাকা, লুটিয়ে তারা পড়বে ভুঁয়ে পায়ের কাছে এসে। ওরা সবাই আমায় বোঝে, করবে না ভয় একটুও যে, হাত বুলিয়ে দেব গায়ে, বসবে কাছে ঘেঁষে। ফলসা-বনে গাছে গাছে ফল ধরে মেঘ করে আছে, ঐখানেতে ময়ূর এসে নাচ দেখিয়ে যাবে। শালিখরা সব মিছিমিছি লাগিয়ে দেবে কিচিমিচি, কাঠবেড়ালি লেজটি তুলে হাত থেকে ধান খাবে। দিন ফুরোবে, সাঁজের আঁধার নামবে তালের গাছে। তখন এসে ঘরের কোণে বসব কোলের কাছে। থাকবে না তোর কাজ কিছু তো, রইবে না তোর কোনো ছুতো, রূপ-কথা ত...

দুষ্টু

তোমার কাছে আমিই দুষ্টু ভালো যে আর সবাই। মিত্তিরদের কালু নিলু ভারি ঠাণ্ডা ক-ভাই! যতীশ ভালো, সতীশ ভালো, ন্যাড়া নবীন ভালো, তুমি বল ওরাই কেমন ঘর করে রয় আলো। মাখন বাবুর দুটি ছেলে দুষ্টু তো নয় কেউ-- গেটে তাদের কুকুর বাঁধা কর্তেছে ঘেউ ঘেউ। পাঁচকড়ি ঘোষ লক্ষ্মী ছেলে, দত্তপাড়ার গবাই, তোমার কাছে আমিই দুষ্টু ভালো যে আর সবাই। তোমার কথা আমি যেন শুনি নে কক্‌খনোই, জামাকাপড় যেন আমার সাফ থাকে না কোনোই! খেলা করতে বেলা করি, বৃষ্টিতে যাই ভিজে, দুষ্টুপনা আরো আছে অমনি কত কী যে! বাবা আমার চেয়ে ভালো? সত্যি বলো তুমি, তোমার কাছে করেন নি কি একটুও দুষ্টুমি? যা বল সব শোনেন তিনি, কিচ্ছু ভোলেন নাকো? খেলা ছেড়ে আসেন চলে যেমনি তুমি ডাক?

দুই বিঘা জমি

শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই আর সবই গেছে ঋণে । বাবু বলিলেন , ' বুঝেছ উপেন , এ জমি লইব কিনে । ' কহিলাম আমি , ' তুমি ভূস্বামী , ভূমির অন্ত নাই । চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো - জোর মরিবার মতো ঠাঁই । ' শুনি রাজা কহে , ' বাপু , জানো তো হে , করেছি বাগানখানা পেলে দুই বিঘে প্রস্থ ও দিঘে সমান হইবে টানা — ওটা দিতে হবে । ' কহিলাম তবে বক্ষে জুড়িয়া পাণি সজল চক্ষে , ' করুণ রক্ষে গরিবের ভিটেখানি । সপ্ত পুরুষ যেথায় মানুষ সে মাটি সোনার বাড়া , দৈন্যের দায়ে বেচিব সে মায়ে এমনি লক্ষ্মীছাড়া ! ' আঁখি করি লাল রাজা ক্ষণকাল রহিল মৌনভাবে , কহিলেন শেষে ক্রূর হাসি হেসে , ' আচ্ছা , সে দেখা যাবে । ' পরে মাস দেড়ে ভিটে মাটি ছেড়ে বাহির হইনু পথে — করিল ডিক্রি , সকলই বিক্রি মিথ্যা দেনার খতে । এ জগতে , হায় , সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি — রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি । মনে ভাবিলাম মোরে ভগবান রাখিবে না মোহগর্তে , তাই লিখি দিল বিশ্বনিখিল দু বিঘার পরিবর্তে । সন্ন্যাসীবেশে ফিরি দেশে দেশে হইয়া সাধুর শিষ্য কত হেরিলাম মনোহর ধাম , কত মনোরম দৃশ্য ! ভূধরে ...

দুরন্ত আশা

মর্মে যবে মত্ত আশা সর্পসম ফোঁসে, অদৃষ্টের বন্ধনেতে দাপিয়া বৃথা রোষে, তখনো ভালোমানুষ সেজে বাঁধানো হুঁকা যতনে মেজে মলিন তাস সজোরে ভেঁজে খেলিতে হবে কষে! অন্নপায়ী বঙ্গবাসী স্তন্যপায়ী জীব জন-দশেকে জটলা করি তক্তপোশে ব'সে। ভদ্র মোরা, শান্ত বড়ো, পোষ-মানা এ প্রাণ বোতাম-আঁটা জামার নীচে শান্তিতে শয়ান। দেখা হলেই মিষ্ট অতি মুখের ভাব শিষ্ট অতি, অলস দেহ ক্লিষ্টগতি— গৃহের প্রতি টান। তৈল-ঢালা স্নিগ্ধ তনু নিদ্রারসে ভরা, মাথায় ছোটো বহরে বড়ো বাঙালি সন্তান। ইহার চেয়ে হতেম যদি আরব বেদুয়িন! চরণতলে বিশাল মরু দিগন্তে বিলীন। ছুটেছে ঘোড়া, উড়েছে বালি, জীবনস্রোত আকাশে ঢালি হৃদয়তলে বহ্নি জ্বালি চলেছি নিশিদিন। বর্শা হাতে, ভর্‌সা প্রাণে, সদাই নিরুদ্দেশ, মরুর ঝড় যেমন বহে সকল বাধাহীন। বিপদ-মাঝে ঝাঁপায়ে প'ড়ে শোণিত উঠে ফুটে, সকল দেহে সকল মনে জীবন জেগে উঠে— অন্ধকারে সূর্যালোতে সন্তরিয়া মৃত্যুস্রোতে নৃত্যময় চিত্ত হতে মত্ত হাসি টুটে। বিশ্বমাঝে মহান যাহা সঙ্গী পরানের, ঝঞ্ঝামাঝে ধায় সে প্রাণ সিন্ধুমাঝে লুটে। নিমেষতরে ইচ্ছা করে বিকট উল্লাসে সকল ...