Skip to main content

Posts

Showing posts with the label Moheener Ghoraguli

কথা দিয়া বন্ধু

কথা দিয়া বন্ধু ফিরা না আইলা এ কেমন কথা হায় কি দশা কানে বাজে তোমার কথা বুকে বাজে তাই ব্যথা কানের কথা বুকের ব্যথা হইয়া আমার প্রাণে জাগায় যে হতাশা হায়! হায়! সব হারাইয়া কান্দি তো আশার ছলনায় ভুইল্যা গিয়া আজি পথে বসিলাম গো কবে তুমি ফিরা আসিবা বন্ধু রইলাম তার আশায় হায় দুরাশা ভাইবা হইলাম আকুল আর শুকায় যে মালার ফুল সঙ্গে শুকাইলো মোর প্রাণটা আর মনটা করি সব কাজে বিষম ভুল হায় সব হারাইয়া…

তোমায় দিলাম

শহরের উষ্ণতম দিনে পিচ গলা রোদ্দুরে বৃষ্টির বিশ্বাস তোমায় দিলাম আজ। আর কিই বা দিতে পারি পুরনো মিছিলে পুরনো ট্রামেদের সারি ফুটপাত ঘেঁষা বেলুন গাড়ি সুতো বাঁধা যত লাল আর সাদা ওরাই আমার থতমত এই শহরের রডোডেনড্রন তোমায় দিলাম আজ। কি আছে আর গভীর রাতের নিয়ন আলোয় আলোকিত যত রেস্তোঁরা আর সবথেকে উঁচু ফ্ল্যাটবাড়িটার সবথেকে উঁচু ছাদ তোমায় দিলাম আজ। পারব না দিতে ঘাসফুল আর ধানের গন্ধ স্নিগ্ধ যা কিছু দুহাত ভরে আজ ফুসফুস খোঁজে পোড়া ডিজেলের আজন্ম আশ্বাস তোমায় দিলাম আজ। শহরের কবিতা আর ছবি, সবই তোমায় দিলাম আজ।

দিশেহারা

দিশেহারা যে মোর মন, কিসে সার্থক এ জীবন? খুঁজে ফিরি কোথা নেব ঠাঁই। চারিদিকে সবাই মোর, কেউ ভালো কেউ মন্দ ঘোর, আপন মাঠ চেঁচেঁ সেথা বেড়াই। মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই, এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই! মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই, এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই! কেউ বা মাথায় কেউ পিঠে, আমার বোলায় হাত মিঠে, দিয়ে যায় কতনা বাহবাই। কারু সন্দেহ অতি, শেষে হল এই গতি! গেল কি বিফলে জীবনটাই? মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই, এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই! মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই, এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই! পাগল হয়ে যে আমি দামী হই আরো দামী কত দাম জানিনা আমার চাই। নেবে কে কিনে আমায় তাতে কি-বা আসে যায় থেমে যেতে ভরসা না পাই। মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই, এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই! মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই, এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই! ছিল বন্ধু এক আমার পেলেম হঠাৎ দেখা তার, ভবঘুরে চালাচুলো নাই। তবু খুশীর হাসির রেশ ঠোঁটে হয়না যে তার শেষ কি তার দাম সে করেইনি যাচাই। মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই, এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই! মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই, এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই! শোনো যদি কোনোদিন আমি হঠাৎ ভাবনাহীন রাখিনি কোনো যে ঠিকানা...

ময়মনসিংহ গীতিকা

নয়া বাড়ী লইয়ার বাইদ্যা লাগাইল বাইঙ্গন, সেই বাইঙ্গন তুলতে কইন্যা জুড়িল কাইন্দন গো জুড়িল কাইন্দন।। কাইন্দ না কাইন্দ না কইন্যা না কান্দিয়ো আর, সেই বাইঙ্গন বেইচ্যা দিয়াম তোমার গলায় হার গো তোমার গলার হার।। নয়া বাড়ী লইয়ার বাইদ্যা লাগাইলো কচু, সেই কচু বেচ্যা দিয়াম তোমার হাতের বাজু গো তোমার হাতের বাজু।। নয়া বাড়ী লইয়ার বাইদ্যা লাগাইলো কলা, সেই কলা বেইচ্যা দিয়াম তোমার গলার মালা গো তোমার গলার মালা।। নয়া বাড়ী লইয়ার বাইদ্যা বানলো চৌকারী, চৌদিকে মালঞ্চের বেড়া আয়না সারি সারি গো আয়না সারি সারি।। হাস মারলাম কইতর মারলাম মাইছ্যা মারলাম টিয়া। বালা কইরা রাইন্দো বেগুন কালাজিরা দিয়া গো কালাজিরা দিয়া।।

ভালবাসি তোমায়

জানাতে যত যাই কথায়, হারায় ততই মানে, ভালবাসি তোমায়, তাই জানাই গানে। জানাতে যত যাই কথায়, হারায় ততই মানে, ভালবাসি তোমায়, তাই জানাই গানে।। কেন এমন যে মনে হয়, কথা শুধুই কথা আর নয়, যেন উজার করে চায় দিতে আজ যা কিছু প্রানে। ভালবাসি তোমায়, তাই জানাই গানে। জানাতে যত যাই কথায়, হারায় ততই মানে, ভালবাসি তোমায়, তাই জানাই গানে।। কিছুতেই হয়না বলা আর, শত কথায়ও যা বলার, কিছুতেই হয়না বলা আর, শত কথায়ও যা বলার। বুঝি জানাতে চাই সব যারে মোর আপনি সে জানে, ভালবাসি তোমায়, তাই জানাই গানে। জানাতে যত যাই কথায়, হারায় ততই মানে, ভালবাসি তোমায়, তাই জানাই গানে।।

ঘরে ফেরার গান

আমি গাই ঘরে ফেরার গান, উতলা কেন এ প্রান? শুধু যে ডাকে, ফিরে আমাকে, বিদেশ বিভুয়ে পড়ে আছি, তবু ছাড়ে না, কেন ছাড়ে না পিছুটান? আমি তাই এখনো ক্লান্তিহীন, চলেছি রাত্রি-দিন। শুনে চমকে, যাই থমকে, কোথা হতে যেন ভেসে আসে সুর চেনা, খুব চেনা মন মাঝে অমলিন... ফিরব বললে ফেরা যায় নাকি? পেরিয়েছ দেশ-কাল, জাননা কি এসময়? এখনো সামনে পথ হাটা বাকি, চাইলেও দিতে পারবেনা ফাঁকি নিশ্চয়! ফিরব বললে ফেরা যায় নাকি? পেরিয়েছ দেশ-কাল, জাননা কি এসময়? এখনো সামনে পথ হাটা বাকি, চাইলেও দিতে পারবেনা ফাঁকি নিশ্চয়! আমি চাই ফিরে যেতে সেই গায়, বাধানো বটের ছায়। সেই নদীতে, হাওয়া ঝিরঝির। মনের গভীরে পড়ে থাকা যত স্মৃতি- বিস্মৃতি কখনো কি ভোলা যায়... আমি প্রায়ই, এখনো খুজিঁ সে দেশ, যার নেই অবশেষ। মরীচিকা হায়, স্বপ্ন দেখায়। শৈশবে আর ফেরা যাবে নাতো নেই পথ নেই, হারিয়ে গেছে সে দেশ। ফিরব বললে ফেরা যায় নাকি? পেরিয়েছ দেশ-কাল, জাননা কি এসময়? এখনো সামনে পথ হাটা বাকি, চাইলেও দিতে পারবেনা ফাঁকি নিশ্চয়! ফিরব বললে ফেরা যায় নাকি? পেরিয়েছ দেশ-কাল, জাননা কি এসময়? এখনো সামনে পথ হাটা বাকি, চাইলেও দিতে পারবেনা ফাঁ...

আকাশে ছড়ানো মেঘের কাছাকাছি

আকাশে ছড়ানো মেঘের কাছাকাছি  দেখা যায় তোমাদের বাড়ি, তার নীল দেওয়াল যেন স্বপ্ন বেলোয়ারী  তার কাঁচ দেওয়াল যেন স্বপ্ন বেলোয়ারী। আকাশে ছড়ানো মেঘের কাছাকাছি দেখা যায় তোমাদের বাড়ি। চিলেকোঠায় বসা বাদামী বেড়াল বোনে শূণ্যে মায়াজাল, ছাইরঙা প্যাঁচা সে চোখ টিপে বসে আছে কত না বছরকাল। কালো দরজা খুলে বাইরে তুমি এলে বাগানের গাছে হাসি ছড়াবে বুনোফুলে, এই বাড়ির নেই ঠিকানা, শুধু অজানা লাল সুরকির পথ শূণ্যে দেয় পাড়ি, সেই বাড়ির নেই ঠিকানা, শুধু অজানা লাল সুরকির পথ শূণ্যে দেয় পাড়ি, বাঁকানো সিঁড়ির পথে, সেখানে নেমে আসে চাঁদের আলো, কাওকে চেনো না তুমি, তোমাকে চেনে না কেউ সেই তো ভালো। সেথা একলা তুমি গান গেয়ে ঘুরে ফিরে, তোমার এলোচুল ঐ বাতাসে শুধু ওড়ে। সেই বাড়ির নেই ঠিকানা, শুধু অজানা লাল সুরকির পথ শূণ্যে দেয় পাড়ি, আকাশে ছড়ানো মেঘের কাছাকাছি, দেখা যায় তোমাদের বাড়ি৷

ভালোবাসি জ্যোৎস্নায়

ভালোবাসি জ্যোৎস্নায় কাশবনে ছুটতে ছায়াঘেরা মেঠোপথে ভালোবাসি হাঁটতে, দূর পাহাড়ের গায়ে গোধূলীর আলো মেখে কাছে ডাকে ধান ক্ষেত সবুজ দিগন্তে, তবু কিছুই যেন ভালো যে লাগে না কেন উদাসী পথের মাঝে মন পড়ে থাকে যেন, কোথায় রয়েছে ভাবি লুকিয়ে বিষাদ তবুও... ভালোলাগে ডিঙি নৌকায় চড়ে ভাসতে প্রজাপতি বুনোহাঁস ভালো লাগে দেখতে, জানলার কোণে বসে উদাসী বিকেল দেখে ভালোলাগে একমনে কবিতা পড়তে, তবু কিছুই যেন ভালো যে লাগে না কেন উদাসী পথের মাঝে মন পড়ে থাকে যেন, কোথায় রয়েছে ভাবি লুকিয়ে বিষাদ তবুও... যখন দেখি ওরা কাজ করে গ্রামে বন্দরে শুধুই ফসল ফলায় ঘাম ঝরায় মাঠে প্রান্তরে, তখন ভালো লাগেনা লাগেনা কোনো কিছুই... সুদিন কাছে এসো, ভালোবাসি একসাথে আজ সবকিছু।। ভালোবাসি পিকাসো বুনুয়েল দান্তে বিটলস ডিলান আর বেটোভেন শুনতে, রবিশঙ্কর আর আলি আকবর শুনে ভালোলাগে ভোরে কুয়াশায় ঘরে ফিরতে, তবু কিছুই যেন ভালো যে লাগে না কেন উদাসী পথের মাঝে মন পড়ে থাকে যেন, কোথায় রয়েছে ভাবি লুকিয়ে বিষাদ তবুও... যখন দেখি ওরা কাজ করে গ্রামে বন্দরে শুধুই ফসল ফলায় ঘাম ঝরায় মাঠে প্রান্তরে তখন ভালো লাগেনা ল...

বাঙালী করেছে ভগবান

ও মনো রে, বাঙালী করেছে ভগবান রে... আমি যদি জার্মান হতাম বোতল বোতল বিয়ার খেতাম, আবার কনসার্টে পিয়ানো শুনতাম দেখতিস আমার মান রে। আমি যদি ফ্রেঞ্চ হতাম চিজ রুটি আর ওয়াইন খেতাম, গায়ে পার্ফিউম মেখে করতাম সংস্কৃতির ভান রে। আমি যদি ইটালিয়ান হতাম পিৎজা কাপুচিনো খেতাম, ভূমধ্য সাগরে আবার করতাম আমি স্নান রে। আমি যদি বৃটিশ হতাম কাউন্টি লীগে চিকেন খেতাম, আবার রানীর থেকে নাইটহুড পেতাম করতাম হুইস্কি পান রে। আমি যদি স্প্যানীশ হতাম ফ্ল্যামিঙ্গো গিটার বাজাইতাম, বুল ফাইটিং করতাম দেখতি মাতাজলের জান রে। আমি যদি আমেরিকান হতাম দাদাগিরি খুব ফলাতাম, আবার স্যাংশানের ভয় দেখিয়ে মলে দিতাম কান রে। বঙ্গদেশে জন্ম হলো বাঙালী হয়ে থাকতে হলো, পেটে ভীষণ ক্ষিধা তবু মুখে বাউল গান রে। বাঙালী করেছে ভগবান রে...

সেই ফুলের দল

রাবেয়া কি রুখসানা, ঠিক তো মনে পড়েনা অস্থির এ ভাবনা, শুধু করে আনাগোনা, ফেলে আসা দিন তার মিছে মনে হয়, নামে কিবা আসে যায়। সোহাগে আদরে জানি রেখেছিল কেউ এই নাম... আব্বা না আপা নাকি, কারো মনে পড়ে তা-কি, তোমরা তা জান নাকি, সময় দিয়েছে ফাঁকি, অভিমানে সে মেয়েটি গেছে হারিয়ে, বুকে ভরসা নিয়ে। সীমান্ত পেরিয়ে সে এসেছিল ছেড়ে তার গ্রাম... জানি সে কোথায়, এই শহরের কোন বাগানে সে হয়ে আছে ফুল, প্রতি সন্ধ্যায়, পাঁপড়ি মেলে দিয়ে সে আবার ভোরে ঝরা বকুল... এই মেয়েটির মত, আরেকটি মেয়ে সে-ত সন্ধ্যাপ্রদীপ দিত, যত্নে গান শোনাত, হালকা পায়ে বেড়াত, বেণী দুলিয়ে, কে যে নিল ভুলিয়ে। খেলার সাথীরা তার খুঁজতে আসেনা আর রোজ... লক্ষী নামের মেয়ে, আজও তার পথ চেয়ে ফেলে আসা তার গাঁয়ে, মা কাঁদে মুখ লুকিয়ে, সন্ধ্যেবেলায় শাঁখ বাজেনাতো আর, এতে আছে কী বলার। আজও কেউ জানেনা তো কোথায় সে হয়েছে নিখোঁজ... লক্ষী রুখসানারা, আরও যত ঘরছাড়া ত্রস্ত দিশেহারা, তখনই যাদুকরেরা, নিমেষে বানিয়ে দেয় বাগানের ফুল, ঠিক নির্ভুল। এভাবে মেয়েরা সব একে একে ফুল হয়ে যায়... নতুন বাগানে এসে, নিজেকে না ভালবেসে ফুলের দলেরা শেষে, কথা বলে হেসে হ...