Skip to main content

Posts

Showing posts with the label

নীল অঞ্জনঘন পুঞ্জ

নীল অঞ্জনঘন পুঞ্জছায়ায় সম্‌বৃত অম্বর, হে গম্ভীর! বনলক্ষ্মীর কম্পিত কায় চঞ্চল অন্তর, ঝঙ্কৃত তার ঝিল্লির মঞ্জীর, হে গম্ভীর॥ বর্ষণগীত হল মুখরিত, মেঘমন্দ্রিত ছন্দে, কদম্ববন গভীর মগন, আনন্দঘন গন্ধে, নন্দিত তব উৎসবমন্দির, হে গম্ভীর॥ দহনশয়নে তপ্ত ধরণী পড়েছিল পিপাসার্তা, পাঠালে তাহারে ইন্দ্রলোকের অমৃতবারির বার্তা। মাটির কঠিন বাধা হল ক্ষীণ, দিকে দিকে হল দীর্ণ, নব অঙ্কুর-জয়পতাকায় ধরাতল সমাকীর্ণ, ছিন্ন হয়েছে বন্ধন বন্দীর, হে গম্ভীর॥

নবাব

নবাব নবাবী করে, নেতা নেতা-গিরি ট্রেনে ট্রেনে গান গায় বাউল ভিকিরী ।। দালাল তোয়াজ করে, দাদা গাজোয়ারি রিক্সায় শিস্‌ দেয় জোয়ান সওয়ারী। যুবকরা প্রেম করে, প্রৌঢ়রা ঘর। ঘরে ঘরে হানা দেয় বাজারের দর। মানুষ ভরসা খোঁজে দিনে আর রাতে ছেলে মেয়েগুলো যেন থাকে দুধে-ভাতে। খেলোয়াড় খ্যালে আর দেখোয়ার দ্যাখে এতো দ্যাখে, তবু লোকে পদে পদে ঠ্যাকে। লেখকেরা লেখে আর প্রকাশক ছাপে সাহিত্য মরে পূজো সংখ্যার চাপে। বেকার চাকরী খোঁজে, প্রমোটার প্লট ধর্মের ষাঁড় খোঁজে হিং-টিং-ছট। মানুষ ভরসা খোঁজে দিনে আর রাতে ছেলে মেয়েগুলো যেন থাকে দুধে-ভাতে। নাচিয়েরা নেচে নেয়,বাঁচিয়েরা বাঁচে বাঁচবে কি করে লোকে, নিভে যাওয়া আঁচে ? তবলিয়ে ঠেকা দায়,আঁকিয়েরা রঙ তালে তাল দিয়ে যায়, হ্যাঁ-হ্যাঁ বলা সং… থলি হাতে যায় লোকে অলিতে গলিতে জীবন আসলে বাঁধা পাকস্থলীতে। মানুষ ভরসা খোঁজে দিনে আর রাতে ছেলে মেয়েগুলো যেন থাকে দুধে-ভাতে। মানিয়েরা মেনে নেয় একধার থেকে কেউ কেউ যায় তবু প্রতিবাদ রেখে। নাইয়ে স্নান করে ,গাইয়েরা গান বাইয়েরা বেয়ে যান, খাইয়েরা খান। ছেলেরা আড্ডা দেয়,গয়লানি ঘোটে মিছি মিছি কালি দেয় যারা হিংসুটে মানুষ ভরস...

নিখোজ ঈশ্বর অথবা এক বন্ধুর খোজে

হয়তো আমি হারিয়েছি পথ হয়তো আমি একা প্রতিটি মোরে খুজছি তবু হয়তো হবে দেখা। হয়তো এখন গরম ভীষণ শার্টটা ভেজা ঘামে তবু হাতে শুকনো আছে স্বপ্নভরা খামে, হয়তো আজও মেঘ করেছে হবে না বৃষ্টি তবু.... এসো আমার শহর জুড়ে নেমে এসো প্রাণে এসো আমার রাস্তা জুড়ে অসহ্যকর জ্যামে, এসো তুমি ঐ ভিখারীর বাড়িয়ে দেওয়া হাতে ফুঠপাথে ঘুমিয়ে থাকা টোকাই ছেলের রাতে। হয়তো তুমি রাগ করো না তবুও তুমি একা ঠিক করেছো এই আমাকে আর দেবে না দেখা, হয়তো তুমি চাইছো ভীষণ আমায় ফাঁকি দিতে আমায় ভীষণ একা করে পথে ঠেলে দিতে, বেশ করেছ, হাঁটছি নাহয়  কয়েকটা দিন খুজে তবু তুমি এসো আবার পথিক বন্ধু সেজে।

না মানুষি বনে

সখি বল আমারে বল কে পরাইলো আমার চোখে কলঙ্ক কাজল, আমি যার কাছে যাই সে আমারে কতো মন্দ বলে আমার ইচ্ছা করে ডুইবা মরি নিজের চোখের জলে। আমি ঘর ছাড়িলাম বনে গেলাম, বনে মানুষ নাই না মানুষি বনে যদি তোমার দেখা পাই, জংলা গাছে হাজার পাখি বন্ধু তুমি নাই বন্ধু তুমি নাই নাই নাই কাছে নাই, বনের গাছ- সেও আমারে আজ মন্দ বলে আমার ইচ্ছা করে ডুইবা মরি নিজের চোখের জলে। আমি বন ছাড়িলাম মাঠে গেলাম, মাঠে মানুষ নাই না মানুষি মাঠে যদি তোমার দেখা পাই, খোলা মাঠের ঘূর্ণি হাওয়া ফিসফিসাইয়া কয় "কলঙ্কিনী মেয়ে, পাশে কেউ থাকিবার নয়", সইন্ধ্যাকালে বিরানমাঠে চিনের আগুন জ্বলে আমার ইচ্ছা করে ডুইবা মরি নিজের চোখের জলে। বন্ধু বল আমারে বল আমার চক্ষে কেন্ মাখাইলি কলঙ্ক কাজল।

নিভন্ত এই চুল্লি

নিভন্ত এই চুল্লিতে মা একটু আগুন দে, আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি, বাঁচার আনন্দে। নোটন নোটন পায়রাগুলি খাঁচাতে বন্দী, দু’এক মুঠো ভাত পেলে তা ওড়াতে মন দি। হায় তোকে ভাত দিই  কী করে যে ভাত দিই হায় হায় তোকে ভাত দেব কী দিয়ে যে ভাত দেব হায়। নিভন্ত এই চুল্লী তবে একটু আগুন দে, হাড়ের শিরায় শিখার মাতন মরার আনন্দে। দুপারে দুই রুই কাতলার মারণী ফন্দী, বাঁচার আশায় হাত-হাতিয়ার, মৃত্যুতে মন দি। বর্গী না টর্গী না, যমকে কে সামলায় ! ধার-চকচকে থাবা ঐ দেখছ না হামলায় ? আরে যাস্ নে ও হামলায়, যাস্ নে॥ কান্না কন্যার মায়ের ধমনীতে আকুল ঢেউ তোলে, জ্বলে না, মায়ের কান্নায় মেয়ের রক্তের উষ্ণ হাহাকার মরে না, চলল মেয়ে রণে চলল। বাজে না ডম্বরু, অস্ত্র ঝন্ ঝন্ করে না, জানল না কেউ চলল মেয়ে রণে চলল। পেশীর দৃঢ় ব্যাথা, মুঠোর দৃঢ় কথা, চোখের দৃঢ় জ্বালা সঙ্গে নিয়ে, চলল মেয়ে রণে চলল। নেকড়ে-ওজর মৃত্যু এল, মৃত্যুরই গান গা, মায়ের চোখে বাপের চোখে, দু-তিনটে গঙ্গা। দূর্বাতে তার রক্ত লেগে, সহস্র সঙ্গী, জাগে ধক্ ধক্, যজ্ঞে ঢালে, সহস্র মণ ঘি। যমুনাবতী সরস্বতী, কাল যমুনার বিয়ে, যমুনা তার বাসর রচে বারুদ ...

নন্দলাল

নন্দলাল তো একদা একটা করিল ভীষণ পণ - স্বদেশের তরে, যা করেই হোক, রাখিবেই সে জীবন। সকলে বলিল, 'আ-হা-হা কর কি, কর কি, নন্দলাল?' নন্দ বলিল, 'বসিয়া বসিয়া রহিব কি চিরকাল? আমি না করিলে কে করিবে আর উদ্ধার এই দেশ?' তখন সকলে বলিল- 'বাহবা বাহবা বাহবা বেশ।' নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তারে কেবা! সকলে বলিল, 'যাও না নন্দ, করো না ভায়ের সেবা' নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই- না হয় দিলাম, -কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি? বাঁচাটা আমার অতি দরকার, ভেবে দেখি চারিদিক' তখন সকলে বলিল- 'হাঁ হাঁ হাঁ, তা বটে, তা বটে, ঠিক।' নন্দ একদা হঠাৎ একটা কাগজ করিল বাহির, গালি দিয়া সবে গদ্যে, পদ্যে বিদ্যা করিল জাহির; পড়িল ধন্য দেশের জন্য নন্দ খাটিয়া খুন; লেখে যত তার দ্বিগুণ ঘুমায়, খায় তার দশ গুণ; খাইতে ধরিল লুচি ও ছোকা ও সন্দেশ থাল থাল, তখন সকলে বলিল- 'বাহবা বাহবা, বাহবা নন্দলাল।' নন্দ একদা কাগজেতে এক সাহেবকে দেয় গালি; সাহেব আসিয়া গলাটি তাহার টিপিয়া ধরিল খালি; নন্দ বলিল, 'আ-হা-হা! কর কি, কর কি! ছাড় না ছাই, কি হবে দেশের, গলাটিপুনিত...

নয়নতারা

সন্ধ্যে হলো সন্ধ্যে হলো দেখছি চেয়ে প্রথম তারা সে যেন চায় আমার চোখে তার দুখানি নয়নতারা সন্ধ্যে হলো সন্ধ্যে হলো এখন ঘরে ফিরছে যারা তাদের মনে শান্তি আসুক শান্তি আনুক সন্ধ্যেতারা সন্ধ্যে হলো সন্ধ্যে হলো ক্লান্ত হয়ে দিন ফুরোলো এখন অবসন্ন যারা তাদের জন্য সন্ধ্যেতারা সন্ধ্যে হলো সন্ধ্যে হলো কখন তুমি আসবে বল অপেক্ষাতেই তন্দ্রাহারা থাকবে আকাশ তারায় তারা

নিষিদ্ধ ইস্তেহার

হাত থেকে হাতে বুক থেকে বুকে করে দেব গোপনে পাচার, ভালবাসার নিষিদ্ধ ইস্তেহার, ভালবাসার নিষিদ্ধ ইস্তেহার। আমি কি ডরাই আর ওদের ভ্রুকুটি, আজ আমার ছুটি, সারাদিন প্যাম্ফলেট বুকে নিয়ে ফিরি তার গোপন লালিমা, একদিন মুছে দেবে যুগের কালিমা। তোমার বন্দী দেহে চুপি চুপি এনে দেব, কারামুক্তির সমাচার ভালবাসার নিষিদ্ধ ইস্তেহার, ভালবাসার নিষিদ্ধ ইস্তেহার। পরোয়া করি না, কার কোথায় পাহারা, আমার চেহারা, ওদের ভালোই জানা, ওরা জানে কবেকার পোষা আক্রোশ, আমার মগজে ঘোরে, চেনেনা আপোষ, যতই লুকিয়ে থাকো, ওনয়ন ঢেকে রাখো, ভেঙ্গে দেব দুর্গ তোমার, আমার দাবি নিষিদ্ধ ইস্তেহার, ভালবাসার নিষিদ্ধ ইস্তেহার। মানি না ওদের বিধি, কি ধানের তরী, আমি বিশ্রী, একরোখা ক্ষতবিক্ষত এই মন, আমার স্বভাব, মানো আর নাই মানো, তোমারো অভাব, বরং স্বীকার কর, এসো এই হাত ধরো, ঠোঁট রাখো শরীরে আমার, আমি তোমার নিষিদ্ধ ইস্তেহার, ভালবাসার নিষিদ্ধ ইস্তেহার।

ন’টায়

ন’টায় অফিস যাবার তাড়া মাথার চুলগুলো সব খাড়া ন’টায় রান্নাঘরে হুলুস্থুলু গিন্নি মাতায় পাড়া। ন’টায় ছেলেমেয়ের স্কুল ন’টায় হারায় কানের দুল আবার এই ন’টাতেই ছাদের টবে আপনি ফোটে ফুল। ন’টায় বড্ড সময় কম ন’টায় সবাই রেগে বোম ন’টায় তাড়াহুড়োয় ছিটকে পরে জামায় আলুর দম। ন’টায় ঘড়িটা ভীমরুল ফোটায় দুম করে তার হুল আবার এই ন’টাতেই ছাদের টবে আপনি ফোটে ফুল । ন’টায় বাসে ট্রেনে ভীড় দেখে গা করে চিড়বিড় ন’টায় দুধ খেলে তা গুতোর চোটে আপনা থেকেই ক্ষীর। ন’টায় ভুলের পরে ভুল ন’টায় ভাতের মধ্যে চুল আবার এই ন’টাতেই ছাদের টবে আপনি ফোটে ফুল।

নবীন

ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা, ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা। রক্ত আলোর মদে মাতাল ভোরে আজকে যে যা বলে বলুক তোরে, সকল তর্ক হেলায় তুচ্ছ ক'রে পুচ্ছটি তোর উচ্চে তুলে নাচা। আয় দুরন্ত, আয় রে আমার কাঁচা। খাঁচাখানা দুলছে মৃদু হাওয়ায়; আর তো কিছুই নড়ে না রে ওদের ঘরে, ওদের ঘরের দাওয়ায়। ওই যে প্রবীণ, ওই যে পরম পাকা, চক্ষুকর্ণ দুইটি ডানায় ঢাকা, ঝিমায় যেন চিত্রপটে আঁকা অন্ধকারে বন্ধ করা খাঁচায়। আয় জীবন্ত, আয় রে আমার কাঁচা। বাহিরপানে তাকায় না যে কেউ, দেখে না যে বাণ ডেকেছে জোয়ার-জলে উঠছে প্রবল ঢেউ। চলতে ওরা চায় না মাটির ছেলে মাটির 'পরে চরণ ফেলে ফেলে, আছে অচল আসনখানা মেলে যে যার আপন উচ্চ বাঁশের মাচায়, আয় অশান্ত, আয় রে আমার কাঁচা। তোরে হেথায় করবে সবাই মানা। হঠাৎ আলো দেখবে যখন ভাববে এ কী বিষম কাণ্ডখানা। সংঘাতে তোর উঠবে ওরা রেগে, শয়ন ছেড়ে আসবে ছুটে বেগে, সেই সুযোগে ঘুমের থেকে জেগে লাগবে লড়াই মিথ্যা এবং সাঁচায়। আয় প্রচণ্ড, আয় রে আমার কাঁচা। শিকল-দেবীর ওই যে পূজাবেদী চিরকাল কি রইবে খাড়া। পাগলামি তুই আয় রে দুয়ার ভেদি। ...