Skip to main content

Posts

Showing posts with the label

জীবনে যত পূজা

জীবনে যত পূজা হল না সারা, জানি হে জানি তাও হয় নি হারা। যে ফুল না ফুটিতে ঝরেছে ধরণীতে যে নদী মরুপথে হারালো ধারা জানি হে জানি তাও হয় নি হারা॥ জীবনে আজো যাহা রয়েছে পিছে, জানি হে জানি তাও হয় নি মিছে। আমার অনাগত আমার অনাহত তোমার বীণা-তারে বাজিছে তারা-- জানি হে জানি তাও হয় নি হারা॥

জয় যোগেন্দ্র

জয় যোগেন্দ্র জায়া মহামায়া, মহিমা অসীম তোমার, একবার দুর্গা বলে যে ডাকে মা তোমায়, তুমি করো তায় ভবসিন্ধু পার। মা, তাই শুনে এই ভবের কূলে, দুর্গা দুর্গা বলে বিপদ কালে তবু সন্তানের মুখ চাইলে না মা, পাষাণে প্রাণ বাঁধলে উমা? অতি কুমতি কুপুত্র বলে, আপনিও কুমাতা হলে তোমার জন্ম যেমনি পাষাণ-কুলে, ধর্ম তেমনি রেখেছো। দয়াময়ী, আজ আমায় দয়া করবে কি মা, কোন্ কালে বা করেছো?

জীবন সাগর

জীবন সাগরে বাইছি তরী আমি একাকী ভাঙ্গা হাল ধরতে পারি, এই অসময়ে কোন বন্ধুর হাত ধরবে আমার হাত দেব পাড়ি। সুজন বন্ধু সে কোথায় আছে কেমন করে যে টানবে কাছে, ঝড় তুফানে যে ঢেউ এর খেলায় ভাসবে আমায় নিয়ে এই অবেলায়, ঝড়ের মাদল এই ঢেউ এর দোলা দুচোখ ভরে আমি দেখতে পারি, বন্ধু তুমি থেকো আমার পাশে হাতে হাত রেখে যেন চলতে পারি। জীবন দুলছে দুলছি আমি দুলছি তবুও আমি হাসতে জানি, এক থেকে হাজারটা বন্ধু পেলে হাজার কন্ঠে গান গাইতে পারি, এইতো সময় বন্ধু চেনার এসো সবাই মিলে জান কবুল করি, জীবন যতই কেন ভয় দেখাক সবাই মিললে তা সইতে পারি।

জাগরণে যায় বিভাবরী

জাগরণে যায় বিভাবরী, আঁখি হতে ঘুম নিল হরি মরি মরি॥ যার লাগি ফিরি একা একা, আঁখি পিপাসিত, নাহি দেখা, তারি বাঁশি ওগো তারি বাঁশি, তারি বাঁশি বাজে হিয়া ভরি মরি মরি॥ বাণী নাহি, তবু কানে কানে, কী যে শুনি তাহা কেবা জানে। এই হিয়াভরা বেদনাতে, বারি-ছলোছলো আঁখিপাতে, ছায়া দোলে তারি ছায়া দোলে, ছায়া দোলে দিবানিশি ধরি মরি মরি॥

জমি

ইউসুফ খুব ভয়ে ভয়ে আছে, ভয়ে কাঁপে বনমালী বাবুরা তাদের আবাদের জমি কিনতে চাইছে খালি শহরের ধারে তাদের বসতি বহুযুগ ধরে চাষী বাড়ছে শহর বহরে গতরে ফুলছে সর্বগ্রাসী একধার থেকে গিলছে শহর যা আছে গেলার মত উপকণ্ঠের সবুজ ঘুঁচিয়ে বাড়ি উঠে গেল কত! কৈখালী আর পাটুলি গিয়েছে, গিয়েছে উরাল পেটে জমি সদাগর আবাদের জমি খাচ্ছে সমানে চেটে এদিকে বাঙ্গালী বড় অসহায় রবীন্দ্রনাথ বিনে বাবু কহিলেন বুঝেছ উপেন এ জমি লইব কিনে। ইউসুফ আর বনমালী যান মাতব্বরের কাছে তিনি তো হাড়িটা বেঁধে রেখেছেন দলীয় কিছুর গাছে এ দল ও দল বাঁজায় মাদল রাজদণ্ডের তালে বেশি বাড়াবাড়ি করলে এ লাশ ভাসবে নালায় খালে তার চেয়ে ভাল জমি বেঁচে দেয়া প্রমোটারদের হাতে স্যাটেলাইট টাঊন শীপের আলোয় নাচবে বাবুরা রাতে ধামাকা টামাকা কিছু একটা তো হবেই উদ্বোধনে বাড়বে শহর যেদিকে ইচ্ছে বাড়বে আপন মনে। আপন মনেই সদাগর পাবে মউরশিয়ার পাট-টা বারটা বাজবে সময় মতই ঘড়িতে এখন আটটা ইউসুফ আর বনমালী নেন সময় টাকেই চিনে বাবু কহিলেন বুঝেছ উপেন এ জমি লইব কিনে। কিনে কিনে ঠিক ক্লান্ত হবেন বড় বাবুদের দল ডিপ টিউবলে উঠেবে না আর একটুও কাঁদা জল। ...

জাতিস্মর

অমরত্বের প্রত্যাশা নেই নেই কোন দাবি দাওয়া এই নশ্বর জীবনের মানে শুধু তোমাকে চাওয়া মুহূর্ত যায় জন্মের মতো অন্ধ জাতিস্মর গত জন্মের ভুলে যাওয়া স্মৃতি বিস্মৃত অক্ষর ছেড়া তাল পাতা পুঁথির পাতায় নিঃশ্বাস ফেলে হাওয়া এই নশ্বর জীবনের মানে শুধু তোমাকেই চাওয়া।। কাল-কেউটের ফনায় নাচছে লখিন্দরের স্মৃতি বেহুলা কখনো বিধবা হয় না এটা বাংলার রীতি ভেসে যায় ভেলা এবেলা ওবেলা একই সব দেহ নিয়ে আগেও মরেছি আবার মরবো প্রেমের দিব্যি দিয়ে।। জন্মেছি আমি আগেও অনেক মরেছি তোমারই কোলে মুক্তি পাইনি শুধু তোমাকে আবার দেখবো বলে বার বার ফিরে এসেছি আমরা এই পৃথিবীর টানে কখনো গাঙড় কখনো কো পাই কপোতাক্ষর গানে গাঙড় হয়েছে কখনো কাবেরী কখনো বা মিসিসিপি কখনো রাইন কখনো কঙ্গো নদীদের স্বরলিপি স্বরলিপি আমি আগেও লিখিনি এখনও লিখিনা তাই মুখে মুখে ফেরা মানুষের গানে শুধু তোমাকেই চাই।। তোমাকে চেয়েছি ছিলাম যখন অনেক জন্ম আগে তথাগততার নিঃসঙ্গতা দিলেম অস্তরাগে তারই করুনায় ভিখারিনি তুমি হয়েছিলে একা একা আমিও কাঙাল হলাম আরেক কাঙালের পেয়ে দেখা নতজানু হয়ে ছিলাম তখনো এখনো যেমন আছি মাধুকরী হ...

জুতা আবিষ্কার

কহিলা হবু, ‘শুন গো গোবুরায়, কালিকে আমি ভেবেছি সারা রাত্র— মলিন ধূলা লাগিবে কেন পায় ধরণীমাঝে চরণ-ফেলা মাত্র? তোমরা শুধু বেতন লহ বাঁটি, রাজার কাজে কিছুই নাহি দৃষ্টি। আমার মাটি লাগায় মোরে মাটি, রাজ্যে মোর একি এ অনাসৃষ্টি! শীঘ্র এর করিবে প্রতিকার নহিলে কারো রক্ষা নাহি আর।’ শুনিয়া গোবু ভাবিয়া হল খুন, দারুণ ত্রাসে ঘর্ম বহে গাত্রে। পণ্ডিতের হইল মুখ চুন, পাত্রদের নিদ্রা নাহি রাত্রে। রান্নাঘরে নাহিকো চড়ে হাঁড়ি, কান্নাকাটি পড়িল বাড়িমধ্যে, অশ্রুজলে ভাসায়ে পাকা দাড়ি কহিলা গোবু হবুর পাদপদ্মে, ‘যদি না ধুলা লাগিবে তব পায়ে, পায়ের ধুলা পাইব কী উপায়ে!’ শুনিয়া রাজা ভাবিল দুলি দুলি, কহিল শেষে, ‘কথাটা বটে সত্য— কিন্তু আগে বিদায় করো ধুলি, ভাবিয়ো পরে পদধুলির তত্ত্ব। ধুলা-অভাবে না পেলে পদধুলা তোমরা সবে মাহিনা খাও মিথ্যে, কেন বা তবে পুষিনু এতগুলা উপাধি-ধরা বৈজ্ঞানিক ভৃত্যে? আগের কাজ আগে তো তুমি সারো, পরের কথা ভাবিয়ো পরে আরো,’ আঁধার দেখে রাজার কথা শুনি, যতনভরে আনিল তবে মন্ত্রী যেখানে যত আছিল জ্ঞানীগুণী দেশে বিদেশে যতেক ছিল যন্ত্রী। বসিল সবে চশমা চোখে আঁটি,...