Skip to main content

Posts

জীবনে যত পূজা

জীবনে যত পূজা হল না সারা, জানি হে জানি তাও হয় নি হারা। যে ফুল না ফুটিতে ঝরেছে ধরণীতে যে নদী মরুপথে হারালো ধারা জানি হে জানি তাও হয় নি হারা॥ জীবনে আজো যাহা রয়েছে পিছে, জানি হে জানি তাও হয় নি মিছে। আমার অনাগত আমার অনাহত তোমার বীণা-তারে বাজিছে তারা-- জানি হে জানি তাও হয় নি হারা॥

বালা নাচো তো দেখি

সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি, বালা নাচো তো দেখি বালা নাচো তো দেখি বালা নাচো তো দেখি, সোহাগ চাঁদ বদনি ধ্বনি নাচো তো দেখি। নাচেন ভালো সুন্দরী এই, বাঁধেন ভালো চুল, হেলিয়া দুলিয়া পরে নাগকেশরের ফুল বালা নাগকেশরের ফুল। সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি। রুনুঝনু নূপুর বাজে, ঠুমুক ঠুমুক তালে নয়নে নয়ন মেলিয়া গেল, শরমের রঙ লাগে গালে।  যেমনি নাচে নাগর কানাই, তেমনি নাচে রাই নাচিয়া ভুলাও তো দেখি নাগর কানাই  একবার নাচিয়া ভুলাও তো দেখি নাগর কানাই।  

বালা নাচো চাইন দেখি

সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি, বালা নাচো চাইন দেখি, বালা নাচো চাইন দেখি, সোহাগ চাঁদ বদনি ধ্বনি নাচো তো দেখি। যেমনি নাচেন নাগর কানাই  তেমনি নাচেন রাই, যেমনি নাচেন নাগর কানাই  তেমনি নাচেন রাই, নাচিয়া ভুলাও চাই  নাগর কানাই।  নাচুইন বালা সুন্দরী এ পিন্দুইন বালা নেত,  হেলিয়া দুলিয়া ফরই, সুন্ধি জালির বেত। সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি।

সময় গেলে সাধন হবে না

সময় গেলে সাধন হবে না। দিন থাকিতে তিনের সাধন কেন করলে না।। জানো না মন খালে বিলে থাকে না মীন জল শুকালে। কি হবে আর বাঁধাল দিলে, মোহনা শুকনা।। অসময়ে কৃষি করে মিছামিছি খেটে মরে। গাছ যদিও হয় বীজের জোরে, ফল ধরে না।। অমাবস্যায় পূর্নিমা হয় মহাযোগ সেই দিনে উদয়। লালন বলে তাহার সময় দণ্ড রয় না।।

বাড়ির কাছে আরশিনগর

বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে। আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে।। গেরাম বেড়ে অগাধ পানি নাই কিনারা নাই তরণী পারে। মনে বাঞ্ছা করি দেখব তারে কেমনে সে গাঁয় যাই রে।। কি বলবো সেই পড়শির কথা তার হস্তপদ স্কন্ধমাথা নাইরে। ক্ষণেক থাকে শূন্যের উপর ক্ষণেক ভাসে নীরে।। পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেতো দূরে। সে আর লালন একখানে রয় তবু লক্ষ যোজন ফাঁক রে।।

কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ

কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কে বুঝবে অন্তরের জ্বালা কে বুঝবে অন্তরের জ্বালা,  কে মোছাইবে আঁখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি ?  যেই দেশেতে আছে আমার বন্ধু চাঁদ কালা,  সেই দেশেতে যাব নিয়ে ফুলেরও মালা।  নগর গাঁয়ে ঘুরবো আমি,  নগর গাঁয়ে ঘুরবো আমি,  যোগিনী বেশ ধরি, কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  তোমরা যদি দেখে থাক, খবর দিও তারে, নইলে আমি প্রাণ ত্যাজিব, যমুনার জলে, তোমরা যদি দেখে থাক, খবর দিও তারে, নইলে আমি প্রাণ ত্যাজিব, যমুনার জলে, কালা আমায় করে গেল, অসহায় একাকী  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কালাচাঁদ কে হারায়ে হইলাম যোগিনী,  কত দিবা নিশি গেল, কেমনে জুড়াই প্রাণে?  লালন বলে যুগল চরণ,  আমার ভাগ্যে হবে কি,  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কে বুঝবে অন্তরের ব্যাথা কে মুছাবে আঁখি? কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ ...

খাঁচার ভিতর অচিন পাখি

খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়। তারে ধরতে পারলে মনোবেড়ী ধরতে পারলে মনোবেড়ী, দিতাম পাখির পায়, কেমনে আসে যায়, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়। আট কুঠুরী নয় দরজাটা মধ্যে মধ্যে ঝরকা কাটা, আট কুঠুরী নয় দরজাটা মধ্যে মধ্যে ঝরকা কাটা, তার উপরে সদর কোঠা, তার উপরে সদর কোঠা, আয়না মহল তায়, কেমনে আসে যায়, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়। কপালের ফ্যার নইলে কি আর পাখিটির এমন ব্যবহার, কপালের ফ্যার নইলে কি আর পাখিটির এমন ব্যবহার, খাঁচা ভেঙ্গে পাখি আমার, খাঁচা ভেঙ্গে পাখি আমার, কোন বনে লুকায়, কেমনে আসে যায়, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়। মন তুই রইলি খাঁচার আশে খাঁচা যে তোর কাঁচা বাঁশে, মন তুই রইলি খাঁচার আশে খাঁচা যে তোর কাঁচা বাঁশে, কোনদিন খাঁচা পড়বে খসে কোনদিন খাঁচা পড়বে খসে, ফকির লালন কেঁদে কয় কেমনে আসে যায়, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়, তারে ধরতে পারলে মনোবেড়ী ধরতে পারলে মনোবেড়ী, দিতাম পাখির পায় কেমনে আসে যায়, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়।

মনে করি আসাম যাবো

আল কিনারে নাহর গাছে বগা বগা ফুল ফুল কে দেখিয়া ছুড়ি ধ্যাচাকে চামড়াইল, গাছের মধ্যে তুলসী, বাটার মধ্যে পান সাদা সাহেব ফাঁকি দিয়া চলাইলি আসাম। মনে করি আসাম যাবো আসাম গেলে তোমায় পাবো, মনে করি আসাম যাব আসামেতে লাকড়ি লিবো, বাবু বলে কাম কাম সাহেব বলে ধরি আন সর্দার বলে লিবো পিঠের চাম, এ বাপুরাম, ফাঁকি দিয়া চলাইলি আসাম, এ বাপুরাম, ফাঁকি দিয়া চলাইমি আসাম। আর চিঠি তে কি ভুলে মন বিনা দরিশনে বাগানে কি ফুটে ফুল বিনা বরিষনে চিঠি তে কি ভুলে মন বিনা দরিশনে বাগানে কি ফুটে ফুল বিনা বরিষনে। মনে করি আসাম যাবো আসাম গেলে তোমায় পাবো মনে করি আসাম যাবো আসামে তে লাকড়ি লিবো বাবু বলে কাম কাম সাহেব বলে ধরি আন সরদার বলে লিবো পিঠের চাম, এ বাপুরাম, ফাঁকি দিয়া চলাইলি আসাম এ বাপুরাম, ফাঁকি দিয়া চলাইলি আসাম। আর বানাই দিলি গ্রামীন কুলি টাঙ্গাই দিলি পিঠে ঝুলি ঝুলি টাঙ্গাই ভিখারি বানাইলি, নিঠুরো সাম জনমে জনমে কাঁদাইলি, আর বানাই দিলি গ্রামীন কুলি টাঙ্গাই দিলি পিঠে ঝুলি ঝুলি টাঙ্গাই ভিখারি বানাইলি নিঠুরো সাম জনমে জনমে কাঁদাইলি। মনে করি আসাম যাবো আসাম গেলে তোমায় পাবো, মনে করি আসাম যাবো আসাম তে লাকড়ি নিবো, বাবু বলে কাম কাম, সাহে...

এসো শ্যামল সুন্দর

এসো শ্যামল সুন্দর, আনো তব তাপহরা তৃষাহরা সঙ্গসুধা। বিরহিণী চাহিয়া আছে আকাশে॥ সে যে ব্যথিত হৃদয় আছে বিছায়ে তমালকুঞ্জপথে সজল ছায়াতে,  নয়নে জাগিছে করুণ রাগিণী॥ বকুলমুকুল রেখেছে গাঁথিয়া, বাজিছে অঙ্গনে মিলনবাঁশরি। আনো সাথে তোমার মন্দিরা চঞ্চল নৃত্যের বাজিবে ছন্দে সে-- বাজিবে কঙ্কণ, বাজিবে কিঙ্কিণী, ঝঙ্কারিবে মঞ্জীর রুণু রুণু॥

মোর বীণা ওঠে

মোর বীণা ওঠে কোন্‌ সুরে বাজি কোন্‌ নব চঞ্চল ছন্দে। মম অন্তর কম্পিত আজি নিখিলের হৃদয়স্পন্দে॥ আসে কোন্‌ তরুণ অশান্ত, উড়ে বসনাঞ্চলপ্রান্ত, আলোকের নৃত্যে বনান্ত মুখরিত অধীর আনন্দে। অম্বরপ্রাঙ্গনমাঝে নিঃস্বর মঞ্জীর গুঞ্জে। অশ্রুত সেই তালে বাজে করতালি পল্লবপুঞ্জে। কার পদপরশন-আশা তৃণে তৃণে অর্পিল ভাষা, সমীরণ বন্ধনহারা উন্‌মন কোন্‌ বনগন্ধে॥