Skip to main content

Posts

চিঠি

এখন সকাল এখানে সকাল মেঘলা সকাল মাটি ভেজা ভেজা গন্ধ তোমার আকাশে কত তারা ভাসে তুমি দেখনাতো তোমার জানালা বন্ধ তোমার চিঠি কালকে পেয়েছি ক'হাজার মাইল পেড়িয়ে এসেছে তোমার কথার ছন্দ একা একা রাত কাটানো কবরে কুয়াশা ছড়ানো ভোরের খবরে পাওয়া না পাওয়ার দ্বন্দ আমার এখানে একই কাঁদাজল বর্ষা কালে দু'পায়ে মাখানো বাড়িতে বাইরে সেই অবিকল একইরকম সময় কাটানো ।। বাবার ছানিটা বেড়াল ছানাটা মায়ের পোনাটা সবই বেড়ে গেছে যাচ্ছে রাত কেটে দিন দিন কেটে দিন জলভেজা দিন নীলআকাশী দিন আসছে বলতে ভুলেছি সেই যে গাছটা আধমরা সেই ফুলের গাছটা সেই গাছটাতে নতুন কুড়িতে নতুন প্রানের ছন্দ বাঁচার সেকি আনন্দ আর কি জানাবো তোমাকে বলো কথায় কথায় বৃষ্টি নামলো হাওয়ায় ফুলের গন্ধ তুমি ভালো থেকো আমি ভালোই আছি ভালোবাসা নিও তুমি ভালো থেকো

বামজ্বর

কার সাথে আছি বড় কথা নয়, কার বিরুদ্ধে আছি শত্রুর শত্রুকেই পেয়েছি, সংগ্রামে কাছাকাছি। যার সাথে খুশি থাকব এখন, বিরুদ্ধতাই থাক যা খুশি হওয়ার হোক গিয়ে আগে, বাম সরকার যাক। যাক আগে ঐ বড় শরিকটা, উদ্ধত কান কাটা ঝেটিয়ে বিদায় করুক ওদের গ্রাম বাঙলার ঝাঁটা। কে আছো এখনো ফাঁকতালে চাও, একটু বাম বিকল্প এখনো খোয়াব অথচ বলছো, নন্দীগ্রামের গল্প। বাম ডান সব নিকুচি করেছি, গণ হত্যার পর বদলা নেওয়ার দাওয়াই সারাবে, বাঙালীর বামজ্বর।

নয়নতারা

সন্ধ্যে হলো সন্ধ্যে হলো দেখছি চেয়ে প্রথম তারা সে যেন চায় আমার চোখে তার দুখানি নয়নতারা সন্ধ্যে হলো সন্ধ্যে হলো এখন ঘরে ফিরছে যারা তাদের মনে শান্তি আসুক শান্তি আনুক সন্ধ্যেতারা সন্ধ্যে হলো সন্ধ্যে হলো ক্লান্ত হয়ে দিন ফুরোলো এখন অবসন্ন যারা তাদের জন্য সন্ধ্যেতারা সন্ধ্যে হলো সন্ধ্যে হলো কখন তুমি আসবে বল অপেক্ষাতেই তন্দ্রাহারা থাকবে আকাশ তারায় তারা

কখন

কখন তোমার দেখা পাবো চোখের পাতায় চুমু খাবো, চোখের তারায় জিজ্ঞাসা : বলো কাকে বলে ভালোবাসা ? প্রশ্নোত্তরে যাবে দিন আশ্বিন থেকে আশ্বিন, পলাতক মেঘে জিজ্ঞাসা : বলো কাকে বলে ভালোবাসা ? ক্লিপটাকে টান মেরে খুলে মুখ দেবো একরাশ চুলে, নরম গন্ধে জিজ্ঞাসা : বলো কাকে বলে ভালোবাসা ? কতো আর তুমি দেবে বাধা একুশ শতকে তুমি রাধা, বাঁশি শুনে আজও জিজ্ঞাসা : বলো কাকে বলে ভালোবাসা ?

বিদ্রোহী

বল বীর - বল উন্নত মম শির! শির নেহারি আমারি, নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রীর! বল বীর - বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’ চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারা ছাড়ি’ ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া, খোদার আসন “আরশ” ছেদিয়া উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাত্রীর! মম ললাটে রুদ্র-ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর! বল বীর - আমি চির-উন্নত শির! আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস, মহা- প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস, আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর! আমি দুর্ব্বার, আমি ভেঙে করি সব চুরমার! আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল, আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃংখল! আমি মানি নাকো কোনো আইন, আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম, ভাসমান মাইন! আমি ধূর্জ্জটী, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর! আমি বিদ্রোহী আমি বিদ্রোহী-সূত বিশ্ব-বিধাত্রীর! বল বীর - চির উন্নত মম শির! আমি ঝঞ্ঝা, আমি ঘূর্ণী, আমি পথ-সম্মুখে যাহা পাই যাই চূর্ণী! আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বীর, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠুমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং...

আমাকে আমার মত থাকতে দাও

আমাকে আমার মত থাকতে দাও আমি নিজেকে নিজের মত গুছিয়ে নিয়েছি, যেটা ছিলনা ছিলনা সেটা না পাওয়ায় থাক সব পেলে নষ্ট জীবন। তোমার ঐ দুনিয়ার ঝাপসা আলোয় কিছু সন্ধ্যের গুড়ো হাওয়া কাঁচের মত, যদি উড়ে যেতে চাও তবে গা ভাসিয়ে দাও দুরবিন চোখ রাখবো না না না। এই জাহাজ মাস্তুল ছারখার, তবু গল্প লিখছি বাঁচবার। আমি রাখতে চাই না আর তার, কোন রাত-দুপুরের আবদার। তাই চেষ্টা করছি বার বার সাঁতরে পাড় খোঁজার। কখনো আকাশ বেয়ে চুপ করে যদি নেমে আসে ভালবাসা খুব ভোরে, চোখ ভাঙ্গা ঘুমে তুমি খুঁজো না আমায় আসে পাশে আমি আর নেই। আমার জন্য আলো জ্বেলো নাকো কেউ আমি মানুষের সমুদ্রে গুনেছি ঢেউ এই স্টেশন চত্ত্বরে হারিয়ে গিয়েছি শেষ ট্রেনে ঘরে ফিরবো না না না। তোমার রক্তে আছে স্বপ্ন যত, তারা ছুটছে রাত্রি-দিন নিজের মত, কখনও সময় পেলে একটু ভেবো- আঙ্গুলের ফাঁকে আমি কই? হিসাবের ভিড়ে আমি চাই না ছুঁতে যত শুকনো পেঁয়াজকলি ফ্রিজের শীতে, আমি ওবেলার ডাল-ভাতে ফুরিয়ে গেছি গেলাসের জলে ভাসবো না না না।

বাঁশুরিয়া

বাঁশুরিয়া বাজাও বাঁশী দেখি না তোমায় গেয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়। এ শহরে এসছো তুমি কবে কোন রাজ্য থেকে তোমাদের দেশে বুঝি সব মানুষই বাঁশী শেখে, আমাদের স্কুল কলেজে শেখে লোকে লেখা পড়া প্রাণে গান নাই মিছে তাই রবি ঠাকুর মূর্তি গড়া, তোমার ঐ দেহাতি গান দোলে যখন বাঁশির মুখে আমাদের নকল ভণ্ড কৃষ্টি চালায় করাত বুকে, বুকে আর গলায় আমার শহর কোলকাতায় গেয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়। ঠেলা ভ্যান চালাও তুমি কিম্বা ভাড়া গাড়ির ক্লিনার ক'বছরে একবার যাও তোমার দেশের নদীর কিনার, ফাক পেলে বাঁশী বাজাও ফেলে আসা ঘরের ডাকে দেশে গিয়ে এমন সুরে হয়তো ডাকো কোলকাতাকে, ফিরে এসে উদম খাটো গায়ে গতরে ব্যস্ত হাতে মজুরিতে ভাগ বসাচ্ছে কারা তোমার কোলকাতাতে, তাদেরই গাইয়ে আমি সাজানো জলসায় গেয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়।

পাগলা সানাই

হাত পেতে নিয়ে চেটে পুটে খাই বিসমিল্লার পাগলা সানাই, হাত পেতে নিয়ে চেটে পুটে খাই স্মৃতি বিজরিত পাগলা সানাই। ছোট্ট বেলায় শুনেছি প্রথম কেউটে সানাই সুর পঞ্চম, খেয়েছে লোকটা এই মাথাটাই ধরেছে নেশায় খ্যাপাটে সানাই। কৈশোরে দেখা আকাশ কুসুম জানিনা কেন যে আসতো না ঘুম, অচেনা কষ্ট কি যাচ্ছে তাই রাতেরে নিয়েই শুনলে সানাই। যৌবনে প্রেম যেই না এলো জানিনা কেন যে কান্না পেলো, সেই প্রেম আজ তোমায় জানাই নাছোর বান্দা প্রেমিক সানাই। গেল যৌবন মাঝ বয়সে কান্না ঢাকতে শিখেছি হেসে, হাসি কান্নার এই দু’টানায় শেখালো্ আমাকে রসিক সানাই। বিস্ময় আজও গেলোনা আমার স্বপ্নে এখনও যৌথ খামার, তোমার জন্য গানই বানাই তোমার জন্য রইল সানাই।

নিষিদ্ধ ইস্তেহার

হাত থেকে হাতে বুক থেকে বুকে করে দেব গোপনে পাচার, ভালবাসার নিষিদ্ধ ইস্তেহার, ভালবাসার নিষিদ্ধ ইস্তেহার। আমি কি ডরাই আর ওদের ভ্রুকুটি, আজ আমার ছুটি, সারাদিন প্যাম্ফলেট বুকে নিয়ে ফিরি তার গোপন লালিমা, একদিন মুছে দেবে যুগের কালিমা। তোমার বন্দী দেহে চুপি চুপি এনে দেব, কারামুক্তির সমাচার ভালবাসার নিষিদ্ধ ইস্তেহার, ভালবাসার নিষিদ্ধ ইস্তেহার। পরোয়া করি না, কার কোথায় পাহারা, আমার চেহারা, ওদের ভালোই জানা, ওরা জানে কবেকার পোষা আক্রোশ, আমার মগজে ঘোরে, চেনেনা আপোষ, যতই লুকিয়ে থাকো, ওনয়ন ঢেকে রাখো, ভেঙ্গে দেব দুর্গ তোমার, আমার দাবি নিষিদ্ধ ইস্তেহার, ভালবাসার নিষিদ্ধ ইস্তেহার। মানি না ওদের বিধি, কি ধানের তরী, আমি বিশ্রী, একরোখা ক্ষতবিক্ষত এই মন, আমার স্বভাব, মানো আর নাই মানো, তোমারো অভাব, বরং স্বীকার কর, এসো এই হাত ধরো, ঠোঁট রাখো শরীরে আমার, আমি তোমার নিষিদ্ধ ইস্তেহার, ভালবাসার নিষিদ্ধ ইস্তেহার।

আমাদের জন্য

গড়িয়াহাটার মোড়, মিনি মিনি বাস বাস, বাসের টারমিনাসে, মন মরা সারি সারি মুখ চোখ নাক হাত, রোগা রোগা চেহারার কনডাক্টার সব আমাদেরই জন্য, সব আমাদেরই জন্য। চৌরঙ্গীর আলো এবং লোড শেডিং, পার্ক স্ট্রীট জমকালো, কাগজে হেডিং। আমাদেরই জন্য, সব আমাদেরই জন্য। বেদম ট্র্যাফিক জ্যাম, ঠান্ডা স্যালামি হ্যাম, চকলেট, ক্যাডবেরি, মাদার ডেয়ারী, আমাদেরই জন্য, সব আমাদেরই জন্য। বাজারের দরাদরি, রুটি ভাত তরকারি, সা নি ধা পা মা গা রে সা মাদার টেরেসা, আমাদেরই জন্য, সব আমাদেরই জন্য। কুঁয়াশা কুয়াশা কাদা, ভোর বেলা গলা সাধা, সারেগা রেগামা গামা গামাপা মাপাধা পাধা পাধানি ধানিসা– আমাদেরই জন্য, সব আমাদেরই জন্য। ফুটবোর্ডে ঝুলে যাওয়া, অথবা লেডিজ সীট- তাক্ করে উদাসীন, আকাশ কুসুম টিক্ টিক্- টিকিট কাটতে গিয়ে ব্যাজার মানুষ, খুচ্-খুচরো পয়সা নেই আমাদেরই জন্য, নেই আমাদেরই জন্য। সা গা পা ধানি ধানি পাধানি, সানিধা নিধা পাগা সাগা পাধানি, বছরে তিরিশবার চিত্রাঙ্গদা আর শ্যামা শাপ-মোচনের অশ্রু মোচন, আমাদেরই জন্য। গাজনের ছয়লাপ, আধুনিক কিং খাপ, কিং সাইজ ভজনের শিবের গাজন, আমাদেরই জন্য। সংস্কৃতির ঢাক...