Skip to main content

Posts

Showing posts from 2025

খাঁচার পাখি ছিল

খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচাটিতে, বনের পাখি ছিল বনে। একদা কী করিয়া মিলন হল দোঁহে, কী ছিল বিধাতার মনে। বনের পাখি বলে, ‘খাঁচার পাখি ভাই, বনেতে যাই দোঁহে মিলে।’ খাঁচার পাখি বলে, ‘বনের পাখি আয়, খাঁচায় থাকি নিরিবিলে।’ বনের পাখি বলে, ‘না, আমি শিকলে ধরা নাহি দিব।’ খাঁচার পাখি বলে, ‘হায়, আমি কেমনে বনে বাহিরিব।’ বনের পাখি গাহে বাহিরে বসি বসি বনের গান ছিল যত, খাঁচার পাখি গাহে শিখানো বুলি তার— দোঁহার ভাষা দুইমত। বনের পাখি বলে ‘খাঁচার পাখি ভাই, বনের গান গাও দেখি।’ খাঁচার পাখি বলে, ‘বনের পাখি ভাই, খাঁচার গান লহো শিখি।’ বনের পাখি বলে, ‘না, আমি শিখানো গান নাহি চাই।’ খাঁচার পাখি বলে, ‘হায় আমি কেমনে বনগান গাই।’ বনের পাখি বলে, ‘আকাশ ঘন নীল কোথাও বাধা নাহি তার।’ খাঁচার পাখি বলে, ‘খাঁচাটি পরিপাটি কেমন ঢাকা চারিধার।’ বনের পাখি বলে, ‘আপনা ছাড়ি দাও মেঘের মাঝে একেবারে।’ খাঁচার পাখি বলে, ‘নিরালা কোণে বসে বাঁধিয়া রাখো আপনারে।’ বনে...

ধীরে সমীরে চঞ্চল নীরে

ধীরে সমীরে চঞ্চল নীরে খেলে যবে মন্দ হিলোল, বিগলিত-কাঞ্চন সন্নিভ-শশধর জলমাঝে খেলে মৃদু দোল। যবে কনকপ্রভাতে নবরবি সাথে জাগে সুষুপ্ত ধরা,  পরিমল-পূরিত কুসুমিত কাননে পাখী গাহে সুমধুর বোল, ধীরে সমীরে চঞ্চল নীরে খেলে যবে মন্দ হিলোল। যবে শ্যামল শস্যে বিস্তৃত প্রান্তর রাজে মোহিয়া মন প্রাণ, সান্ধ্য-সমীরণ চুম্বিত চঞ্চল শীত-শিশির করে পান, কোটি নয়ন দেহ, কোটি শ্রবণ প্রভু দেহ মোরে কোটি সুকণ্ঠ, হেরিতে মোহন ছবি, শুনিতে সে সঙ্গীত তুলিতে তোমারি যশরোল! ধীরে সমীরে চঞ্চল নীরে খেলে যবে মন্দ হিলোল।

শঙ্কাশূন্য লক্ষ কন্ঠে

শঙ্কাশূন্য লক্ষ কন্ঠে বাজিছে শঙ্খ ঐ  পুণ্য-চিত্ত মৃত্যু তীর্থ-পথের যাত্রী কই।।  আগে জাগে বাধা ও ভয় ও ভয়ে ভীত নয় হৃদয়  জানি মোরা হবই হব জয়ী।।  জাগায়ে প্রাণে প্রানে নব আশা, ভাষাহীন মুখে ভাষা  হে নবীন আন নব পথের দিশা নিশি শেষের ঊষা  কেহ না দেশে মানুষ তোমরা বৈ।।  স্বর্গ রচিয়া মৃত্যুহীন চল ওরে কাঁচা চল নবীন  দৃপ্ত চরণে নৃত্য দোল জাগায়ে মরুতে রে বেদুইন!  'নাই নিশি নাই' জাগে শুভ্র দীপ্ত দিন।  নাই ওরে ভয় নাই জাগে ঊর্দ্ধে দেবী জননী শক্তিময়ী।।

ভব সাগর

ভব সাগর তারণ কারণ হে। রবি নন্দন বন্ধন খন্ডণ হে। শরণাগত কিঙ্কর ভীত মনে। গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। গুরুদেব কৃপা করো জ্ঞান হীনে  গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। হৃদি কন্দর তামস ভাস্কর হে। তুমি বিষ্ণু প্রজাপতি শঙ্কর হে। পরব্রহ্ম পরাৎপর বেদ ভণে। গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। গুরুদেব কৃপা করো জ্ঞান হীনে  গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। মন বারণ শাসন অঙ্কুশ হে। নরত্রান তরে হরি চাক্ষুষ হে। গুণগান পরায়ণ দেবগণে। গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। গুরুদেব কৃপা করো জ্ঞান হীনে  গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। কুলকুণ্ডলিনী ঘুম ভঞ্জক হে। হৃদিগ্রন্থি বিদারণ কারক হে। মম মানস চঞ্চল রাত্রি দিনে। গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। গুরুদেব কৃপা করো জ্ঞান হীনে  গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। রিপুসূদন মঙ্গলনায়ক হে। সুখ শান্তি বরাভয় দায়ক হে। ত্রয় তাপ হরে তব নাম গুণে। গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। গুরুদেব কৃপা করো জ্ঞান হীনে  গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। অভিমান প্রভাব বিনাশক হে। গতিহীন জনে তুমি রক্ষক হে। চিত শঙ্কিত বঞ্চিত ভক্তি ধনে। গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। গুরুদেব কৃপা করো জ্ঞান হীনে  গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।। তব নাম সদা শুভ স...

আমার সোনার বাংলা

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি ॥ ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে, মরি হায়, হায় রে-- ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি ॥ কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো-- কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে। মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো, মরি হায়, হায় রে-- মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি ॥ তোমার এই খেলাঘরে শিশুকাল কাটিলে রে, তোমারি ধুলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানি। তুই দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে কী দীপ জ্বালিস ঘরে, মরি হায়, হায় রে-- তখন খেলাধুলা সকল ফেলে, ও মা, তোমার কোলে ছুটে আসি ॥ ধেনু-চরা তোমার মাঠে, পারে যাবার খেয়াঘাটে, সারা দিন পাখি-ডাকা ছায়ায়-ঢাকা তোমার পল্লীবাটে, তোমার ধানে-ভরা আঙিনাতে জীবনের দিন কাটে, মরি হায়, হায় রে-- ও মা...

আমি কোথায় পাব তারে

আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে হারায়ে সেই মানুষে, তার উদ্দেশে দেশ-বিদেশে আমি দেশ-বিদেশে বেড়াই ঘুরে কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে। লাগি সেই হৃদয় শশী, সদা প্রাণ হয় উদাসী পেলে মন হতো খুশি, দিবা-নিশি দেখিতাম নয়ন ভরে আমি প্রেমানলে মরছি জ্বলে, নিভাই কেমন করে মরি হায়, হায় রে।  আমি প্রেমানলে মরছি জ্বলে, নিভাই কেমন করে ও তার বিচ্ছেদে প্রাণ কেমন করে বিচ্ছেদে প্রাণ কেমন করে দেখ না তোরা হৃদয়ে এসে, দেখ না তোরা হৃদয়ে এসে কোথায় পাবো তারে, আমার মনের মানুষ যে রে। দিবো তার তুলনা কি, যার প্রেমে জগত সুখী হেরিলে জুড়ায় আঁখি, সামান্যে কি দেখিতে পারে তারে তারে যে দেখেছে সেই মজেছে ছাই দিয়ে সংসারে মরি হায়, হায় রে। তারে যে দেখেছে সেই মজেছে ছাই দিয়ে সংসারে ও সে না জানি কি কুহক জানে না জানি কুহক জানে অলক্ষ্যে মন চুরি করে, কটাক্ষে মন চুরি করে কোথায় পাবো তারে, আমার মনের মানুষ যে রে। কুল-মান সব গেল রে, তবু না পেলাম তারে প্রেমের লেশ নাই অন্তরে, তাইতে মোরে দেয় না দেখা সে রে ও তার বসত কোথা না জেনে তায় গগন ভেবে মরে ও সে মানুষের উদ্দিশ যদি জা...

জীবনে যত পূজা

জীবনে যত পূজা হল না সারা, জানি হে জানি তাও হয় নি হারা। যে ফুল না ফুটিতে ঝরেছে ধরণীতে যে নদী মরুপথে হারালো ধারা জানি হে জানি তাও হয় নি হারা॥ জীবনে আজো যাহা রয়েছে পিছে, জানি হে জানি তাও হয় নি মিছে। আমার অনাগত আমার অনাহত তোমার বীণা-তারে বাজিছে তারা-- জানি হে জানি তাও হয় নি হারা॥

বালা নাচো তো দেখি

সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি, বালা নাচো তো দেখি বালা নাচো তো দেখি বালা নাচো তো দেখি, সোহাগ চাঁদ বদনি ধ্বনি নাচো তো দেখি। নাচেন ভালো সুন্দরী এই, বাঁধেন ভালো চুল, হেলিয়া দুলিয়া পরে নাগকেশরের ফুল বালা নাগকেশরের ফুল। সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি। রুনুঝনু নূপুর বাজে, ঠুমুক ঠুমুক তালে নয়নে নয়ন মেলিয়া গেল, শরমের রঙ লাগে গালে।  যেমনি নাচে নাগর কানাই, তেমনি নাচে রাই নাচিয়া ভুলাও তো দেখি নাগর কানাই  একবার নাচিয়া ভুলাও তো দেখি নাগর কানাই।  

বালা নাচো চাইন দেখি

সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি, বালা নাচো চাইন দেখি, বালা নাচো চাইন দেখি, সোহাগ চাঁদ বদনি ধ্বনি নাচো তো দেখি। যেমনি নাচেন নাগর কানাই  তেমনি নাচেন রাই, যেমনি নাচেন নাগর কানাই  তেমনি নাচেন রাই, নাচিয়া ভুলাও চাই  নাগর কানাই।  নাচুইন বালা সুন্দরী এ পিন্দুইন বালা নেত,  হেলিয়া দুলিয়া ফরই, সুন্ধি জালির বেত। সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি।

সময় গেলে সাধন হবে না

সময় গেলে সাধন হবে না। দিন থাকিতে তিনের সাধন কেন করলে না।। জানো না মন খালে বিলে থাকে না মীন জল শুকালে। কি হবে আর বাঁধাল দিলে, মোহনা শুকনা।। অসময়ে কৃষি করে মিছামিছি খেটে মরে। গাছ যদিও হয় বীজের জোরে, ফল ধরে না।। অমাবস্যায় পূর্নিমা হয় মহাযোগ সেই দিনে উদয়। লালন বলে তাহার সময় দণ্ড রয় না।।

বাড়ির কাছে আরশিনগর

বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে। আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে।। গেরাম বেড়ে অগাধ পানি নাই কিনারা নাই তরণী পারে। মনে বাঞ্ছা করি দেখব তারে কেমনে সে গাঁয় যাই রে।। কি বলবো সেই পড়শির কথা তার হস্তপদ স্কন্ধমাথা নাইরে। ক্ষণেক থাকে শূন্যের উপর ক্ষণেক ভাসে নীরে।। পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেতো দূরে। সে আর লালন একখানে রয় তবু লক্ষ যোজন ফাঁক রে।।

কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ

কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কে বুঝবে অন্তরের জ্বালা কে বুঝবে অন্তরের জ্বালা,  কে মোছাইবে আঁখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি ?  যেই দেশেতে আছে আমার বন্ধু চাঁদ কালা,  সেই দেশেতে যাব নিয়ে ফুলেরও মালা।  নগর গাঁয়ে ঘুরবো আমি,  নগর গাঁয়ে ঘুরবো আমি,  যোগিনী বেশ ধরি, কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  তোমরা যদি দেখে থাক, খবর দিও তারে, নইলে আমি প্রাণ ত্যাজিব, যমুনার জলে, তোমরা যদি দেখে থাক, খবর দিও তারে, নইলে আমি প্রাণ ত্যাজিব, যমুনার জলে, কালা আমায় করে গেল, অসহায় একাকী  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কালাচাঁদ কে হারায়ে হইলাম যোগিনী,  কত দিবা নিশি গেল, কেমনে জুড়াই প্রাণে?  লালন বলে যুগল চরণ,  আমার ভাগ্যে হবে কি,  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কে বুঝবে অন্তরের ব্যাথা কে মুছাবে আঁখি? কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?  কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ ...

খাঁচার ভিতর অচিন পাখি

খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়। তারে ধরতে পারলে মনোবেড়ী ধরতে পারলে মনোবেড়ী, দিতাম পাখির পায়, কেমনে আসে যায়, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়। আট কুঠুরী নয় দরজাটা মধ্যে মধ্যে ঝরকা কাটা, আট কুঠুরী নয় দরজাটা মধ্যে মধ্যে ঝরকা কাটা, তার উপরে সদর কোঠা, তার উপরে সদর কোঠা, আয়না মহল তায়, কেমনে আসে যায়, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়। কপালের ফ্যার নইলে কি আর পাখিটির এমন ব্যবহার, কপালের ফ্যার নইলে কি আর পাখিটির এমন ব্যবহার, খাঁচা ভেঙ্গে পাখি আমার, খাঁচা ভেঙ্গে পাখি আমার, কোন বনে লুকায়, কেমনে আসে যায়, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়। মন তুই রইলি খাঁচার আশে খাঁচা যে তোর কাঁচা বাঁশে, মন তুই রইলি খাঁচার আশে খাঁচা যে তোর কাঁচা বাঁশে, কোনদিন খাঁচা পড়বে খসে কোনদিন খাঁচা পড়বে খসে, ফকির লালন কেঁদে কয় কেমনে আসে যায়, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়, তারে ধরতে পারলে মনোবেড়ী ধরতে পারলে মনোবেড়ী, দিতাম পাখির পায় কেমনে আসে যায়, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়।

মনে করি আসাম যাবো

আল কিনারে নাহর গাছে বগা বগা ফুল ফুল কে দেখিয়া ছুড়ি ধ্যাচাকে চামড়াইল, গাছের মধ্যে তুলসী, বাটার মধ্যে পান সাদা সাহেব ফাঁকি দিয়া চলাইলি আসাম। মনে করি আসাম যাবো আসাম গেলে তোমায় পাবো, মনে করি আসাম যাব আসামেতে লাকড়ি লিবো, বাবু বলে কাম কাম সাহেব বলে ধরি আন সর্দার বলে লিবো পিঠের চাম, এ বাপুরাম, ফাঁকি দিয়া চলাইলি আসাম, এ বাপুরাম, ফাঁকি দিয়া চলাইমি আসাম। আর চিঠি তে কি ভুলে মন বিনা দরিশনে বাগানে কি ফুটে ফুল বিনা বরিষনে চিঠি তে কি ভুলে মন বিনা দরিশনে বাগানে কি ফুটে ফুল বিনা বরিষনে। মনে করি আসাম যাবো আসাম গেলে তোমায় পাবো মনে করি আসাম যাবো আসামে তে লাকড়ি লিবো বাবু বলে কাম কাম সাহেব বলে ধরি আন সরদার বলে লিবো পিঠের চাম, এ বাপুরাম, ফাঁকি দিয়া চলাইলি আসাম এ বাপুরাম, ফাঁকি দিয়া চলাইলি আসাম। আর বানাই দিলি গ্রামীন কুলি টাঙ্গাই দিলি পিঠে ঝুলি ঝুলি টাঙ্গাই ভিখারি বানাইলি, নিঠুরো সাম জনমে জনমে কাঁদাইলি, আর বানাই দিলি গ্রামীন কুলি টাঙ্গাই দিলি পিঠে ঝুলি ঝুলি টাঙ্গাই ভিখারি বানাইলি নিঠুরো সাম জনমে জনমে কাঁদাইলি। মনে করি আসাম যাবো আসাম গেলে তোমায় পাবো, মনে করি আসাম যাবো আসাম তে লাকড়ি নিবো, বাবু বলে কাম কাম, সাহে...

এসো শ্যামল সুন্দর

এসো শ্যামল সুন্দর, আনো তব তাপহরা তৃষাহরা সঙ্গসুধা। বিরহিণী চাহিয়া আছে আকাশে॥ সে যে ব্যথিত হৃদয় আছে বিছায়ে তমালকুঞ্জপথে সজল ছায়াতে,  নয়নে জাগিছে করুণ রাগিণী॥ বকুলমুকুল রেখেছে গাঁথিয়া, বাজিছে অঙ্গনে মিলনবাঁশরি। আনো সাথে তোমার মন্দিরা চঞ্চল নৃত্যের বাজিবে ছন্দে সে-- বাজিবে কঙ্কণ, বাজিবে কিঙ্কিণী, ঝঙ্কারিবে মঞ্জীর রুণু রুণু॥

মোর বীণা ওঠে

মোর বীণা ওঠে কোন্‌ সুরে বাজি কোন্‌ নব চঞ্চল ছন্দে। মম অন্তর কম্পিত আজি নিখিলের হৃদয়স্পন্দে॥ আসে কোন্‌ তরুণ অশান্ত, উড়ে বসনাঞ্চলপ্রান্ত, আলোকের নৃত্যে বনান্ত মুখরিত অধীর আনন্দে। অম্বরপ্রাঙ্গনমাঝে নিঃস্বর মঞ্জীর গুঞ্জে। অশ্রুত সেই তালে বাজে করতালি পল্লবপুঞ্জে। কার পদপরশন-আশা তৃণে তৃণে অর্পিল ভাষা, সমীরণ বন্ধনহারা উন্‌মন কোন্‌ বনগন্ধে॥

মেঘের কোলে রোদ হেসেছে

মেঘের কোলে রোদ হেসেছে, বাদল গেছে টুটি।  আহা, হাহা, হা। আজ আমাদের ছুটি ও ভাই, আজ আমাদের ছুটি।  আহা, হাহা, হা ॥ কী করি আজ ভেবে না পাই,  পথ হারিয়ে কোন্‌ বনে যাই, কোন্‌ মাঠে যে ছুটে বেড়াই সকল ছেলে জুটি।  আহা, হাহা, হা ॥ কেয়া-পাতার নৌকো গড়ে সাজিয়ে দেব ফুলে-- তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব, চলবে দুলে দুলে। রাখাল ছেলের সঙ্গে ধেনু চরাব আজ বাজিয়ে বেণু, মাখব গায়ে ফুলের রেণু চাঁপার বনে লুটি।  আহা, হাহা, হা ॥

কেমনে চিনিব তোমারে

মুর্শিদ ধন-হে, কেমনে চিনিব তোমারে দেখা দেও না কাছে নেও না আর কত থাকি দূরে দেখা দেও না কাছে নেও না আর কত থাকি দূরে কেমনে চিনিব তোমারে মুর্শিদ ধন-হে, কেমনে চিনিব তোমারে।  মায়াজালে বন্দী হইয়া আর কত কাল থাকিব মনে ভাবি সব ছাড়িয়া তোমারে খুঁজে নিব মায়াজালে বন্দী হইয়া আর কত কাল থাকিব মনে ভাবি সব ছাড়িয়া তোমারে খুঁজে নিব আশা করি আলো পাব ডুবে যাই অন্ধকারে আশা করি আলো পাব ডুবে যাই অন্ধকারে কেমনে চিনিব তোমারে মুর্শিদ ধন-হে, কেমনে চিনিব তোমারে।  তন্ত্রমন্ত্র করে দেখি তার ভিতরে তুমি নাই শাস্ত্রগ্রন্থ পড়ি যত আরো দূরে সরে যাই তন্ত্রমন্ত্র করে দেখি তার ভিতরে তুমি নাই শাস্ত্রগ্রন্থ পড়ি যত আরো দূরে সরে যাই কোন সাগরে খেলতে চলাই ভাবতেছি তাই অন্তরে কোন সাগরে খেলতে চলাই ভাবতেছি তাই অন্তরে কেমনে চিনিব তোমারে মুর্শিদ ধন-হে, কেমনে চিনিব তোমারে।  বাউল আবদুল করিম বলে দয়া করো আমারে নত শিরে করো জুড়ে বলি তোমার দরবারে বাউল আবদুল করিম বলে দয়া করো আমারে নত শিরে করো জুড়ে বলি তোমার দরবারে ভক্তের অধীন হও চিরদিন তাকো ভক্তের অন্তরে তুমি ভক্তের অধীন হও চিরদিন তাকো ভক্তের অন্তরে কেমনে চিনিব তোমারে মুর্শিদ ...

বরিষ ধরা-মাঝে

বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারি শুষ্ক হৃদয় লয়ে আছে দাঁড়াইয়ে ঊর্ধ্বমুখে নরনারী ॥ না থাকে অন্ধকার, না থাকে মোহপাপ, না থাকে শোকপরিতাপ। হৃদয় বিমল হোক, প্রাণ সবল হোক, বিঘ্ন দাও অপসারি ॥ কেন এ হিংসাদ্বেষ, কেন এ ছদ্মবেশ, কেন এ মান-অভিমান। বিতর' বিতর' প্রেম পাষাণহৃদয়ে, জয় জয় হোক তোমারি ॥

Dawn Light

Iđitguovssus girdilitHávski lei go iđistit Vilges dolggiid geigestit Várrogasat salastit Njukča, njuvččažan Buokčal, ligge varan Njukča, njuvččažan Ovdal iđitroađi Iđitguovssus girdilit Hávski lei go iđistit Jaskatvuođain savkalit Nuorravuođain njávkalit Njukča, njuvččažan Buokčal, ligge varan Njukča, njuvččažan Ovdal iđitroađi Riegádahte áibbašeami Oktovuođa váillaheami Flying in the dawn light The hazel grouse was at dawn White wings flashing The ptarmigans hiding Snipe, drumming Restless, circling around Snipe, drumming Before the break of day Flying in the dawn light The hazel grouse was at dawn Rustling in the silence Gliding in the youth Snipe, drumming Restless, circling around Snipe, drumming Before the break of day Born from eternity From the lack of unity

কী গাব আমি

কী গাব আমি, কী শুনাব, আজি আনন্দধামে।  পুরবাসী জনে এনেছি ডেকে তোমার অমৃতনামে ॥ কেমনে বর্ণিব তোমার রচনা, কেমনে রটিব তোমার করুণা, কেমনে গলাব হৃদয় প্রাণ তোমার মধুর প্রেমে ॥ তব নাম লয়ে চন্দ্র তারা অসীম শূন্যে ধাইছে-- রবি হতে গ্রহে ঝরিছে প্রেম, গ্রহ হতে গ্রহে ছাইছে। অসীম আকাশ নীলশতদল তোমার কিরণে সদা ঢলঢল, তোমার অমৃতসাগর-মাঝারে ভাসিছে অবিরামে ॥

শ্রাবণের ধারার মতো

শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে, পড়ুক ঝরে তোমারি সুরটি আমার মুখের 'পরে, বুকের 'পরে ॥ পুরবের আলোর সাথে পড়ুক প্রাতে দুই নয়ানে-- নিশীথের অন্ধকারে গভীর ধারে পড়ুক প্রাণে। নিশিদিন এই জীবনের সুখের 'পরে দুখের 'পরে শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে, পড়ুক ঝরে। যে শাখায় ফুল ফোটে না, ফল ধরে না একেবারে, তোমার ওই বাদল-বায়ে দিক জাগায়ে সেই শাখারে। যা-কিছু জীর্ণ আমার, দীর্ণ আমার, জীবনহারা, তাহারি স্তরে স্তরে পড়ুক ঝরে সুরের ধারা। নিশিদিন এই জীবনের তৃষার 'পরে, ভুখের 'পরে শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে, পড়ুক ঝরে ॥

আনন্দধারা বহিছে ভুবনে

আনন্দধারা বহিছে ভুবনে, দিনরজনী কত অমৃতরস উথলি যায় অনন্ত গগনে ॥ পান করি রবে শশী অঞ্জলি ভরিয়া-- সদা দীপ্ত রহে অক্ষয় জ্যোতি-- নিত্য পূর্ণ ধরা জীবনে কিরণে ॥ বসিয়া আছ কেন আপন-মনে, স্বার্থনিমগন কী কারণে? চারি দিকে দেখো চাহি হৃদয় প্রসারি, ক্ষুদ্র দুঃখ সব তুচ্ছ মানি প্রেম ভরিয়া লহো শূন্য জীবনে ॥

সফল করো হে প্রভু আজি সভা

সফল করো হে প্রভু আজি সভা, এ রজনী হোক মহোৎসবা ॥ বাহির অন্তর ভুবনচরাচর মঙ্গলডোরে বাঁধি এক করো-- শুষ্ক হৃদয় করো প্রেমে সরসতর, শূন্য নয়নে আনো পুণ্যপ্রভা ॥ অভয়দ্বার তব করো হে অবারিত, অমৃত-উৎস তব করো উৎসারিত, গগনে গগনে করো প্রসারিত অতিবিচিত্র তব নিত্যশোভা। সব ভকতে তব আনো এ পরিষদে, বিমুখ চিত্ত যত করো নত তব পদে, রাজ-অধীশ্বর, তব চিরসম্পদ সব সম্পদ করো হতগরবা ॥

বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি

বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি। দেশে দেশে কত-না নগর রাজধানী-- মানুষের কত কীর্তি, কত নদী গিরি সিন্ধু মরু, কত-না অজানা জীব, কত-না অপরিচিত তরু রয়ে গেল অগোচরে। বিশাল বিশ্বের আয়োজন; মন মোর জুড়ে থাকে অতি ক্ষুদ্র তারি এক কোণ। সেই ক্ষোভে পড়ি গ্রন্থ ভ্রমণবৃত্তান্ত আছে যাহে অক্ষয় উৎসাহে-- যেথা পাই চিত্রময়ী বর্ণনার বাণী কুড়াইয়া আনি। জ্ঞানের দীনতা এই আপনার মনে পূরণ করিয়া লই যত পারি ভিক্ষালব্ধ ধনে। আমি পৃথিবীর কবি, যেথা তার যত উঠে ধ্বনি আমার বাঁশির সুরে সাড়া তার জাগিবে তখনি, এই স্বরসাধনায় পৌঁছিল না বহুতর ডাক-- রয়ে গেছে ফাঁক। কল্পনায় অনুমানে ধরিত্রীর মহা-একতান কত-না নিস্তব্ধ ক্ষণে পূর্ণ করিয়াছে মোর প্রাণ। দু্‌র্গম তুষারগিরি অসীম নিঃশব্দ নীলিমায় অশ্রুত যে গান গায় আমার অন্তরে বারবার পাঠায়েছে নিমন্ত্রণ তার। দক্ষিণমেরুর ঊর্ধ্বে যে অজ্ঞাত তারা মহাজনশূন্যতায় রাত্রি তার করিতেছে সারা, সে আমার অর্ধরাত্রে অনিমেষ চোখে অনিদ্রা করেছে স্পর্শ অপূর্ব আলোকে। সুদূরের মহাপ্লাবী প্রচন্ড নির্ঝর মনের গহনে মোর পঠায়েছে স্বর। প্রকৃতির ঐকতানস্রোতে নানা কবি ঢালে গান নানা দিক হতে; তাদের সবার সাথে আছে মোর এইমাত্র যোগ-- সঙ্গ পাই ...