Skip to main content

Posts

আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায়

আজ ধানের খেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা। নীল আকশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা। আজ ভ্রমর ভোলে মধু খেতে, উড়ে বেড়ায় আলোয় মেতে; আজ কিসের তরে নদীর চরে চখাচখির মেলা। ওরে যাব না আজ ঘরে রে ভাই, যাব না আজ ঘরে। ওরে আকাশ ভেঙে বাহিরকে আজ নেব রে লুঠ করে। যেন জোয়ার-জলে ফেনার রাশি বাতাসে আজ ছুটছে হাসি। আজ বিনা কাজে বাজিয়ে বাঁশি কাটবে সকল বেলা।

মেঘের পরে মেঘ জমেছে

মেঘের পরে মেঘ জমেছে, আঁধার করে আসে- আমায় কেন বসিয়ে রাখ একা দ্বারের পাশে। কাজের দিনে নানা কাজে থাকি নানা লোকের মাঝে, আজ আমি যে বসে আছি তোমারই আশ্বাসে। আমায় কেন বসিয়ে রাখ একা দ্বারের পাশে। তুমি যদি না দেখা দাও কর আমায় হেলা, কেমন করে কাটে আমার এমন বাদল-বেলা। দূরের পানে মেলে আঁখি কেবল আমি চেয়ে থাকি, পরাণ আমার কেঁদে বেড়ায় দুরন্ত বাতাসে। আমায় কেন বসিয়ে রাখ একা দ্বারের পাশে।

আমার পরান যাহা চায়

আমার পরান যাহা চায়, তুমি তাই, তুমি তাই গো ! তোমা ছাড়া আর এ জগতে মোর কেহ নাই কিছু নাই গো ! তুমি সুখ যদি নাহি পাও যাও সুখের সন্ধানে যাও আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয়মাঝে, আর কিছু নাহি চাই গো। আমি তোমার বিরহে রহিব বিলীন, তোমাতে করিব বাস, দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী, দীর্ঘ বরষ মাস। যদি আর কারে ভালোবাস, যদি আর ফিরে নাহি আস, তবে তুমি যাহা চাও, তাই যেন পাও, আমি যত দুখ পাই গো ।

আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে

আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী! ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে! তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে॥ ডান হাতে তোর খড়্গ জ্বলে, বাঁ হাত করে শঙ্কাহরণ, দুই নয়নে স্নেহের হাসি, ললাটনেত্র আগুনবরণ। ওগো মা, তোমার কী মুরতি আজি দেখি রে! তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে॥ তোমার মুক্তকেশের পুঞ্জ মেঘে লুকায় অশনি, তোমার আঁচল ঝলে আকাশতলে রৌদ্রবসনী! ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে! তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে॥ যখন অনাদরে চাই নি মুখে ভেবেছিলেম দুঃখিনী মা আছে ভাঙা ঘরে একলা পড়ে, দুখের বুঝি নাইকো সীমা। কোথা সে তোর দরিদ্র বেশ, কোথা সে তোর মলিন হাসি— আকাশে আজ ছড়িয়ে গেল ঐ চরণের দীপ্তিরাশি! ওগো মা, তোমার কী মুরতি আজি দেখি রে! তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে॥ আজি দুখের রাতে সুখের স্রোতে ভাসাও ধরণী— তোমার অভয় বাজে হৃদয়মাঝে হৃদয়হরণী! ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে! তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে॥

Annabel Lee

It was many and many a year ago,     In a kingdom by the sea, That a maiden there lived whom you may know     By the name of Annabel Lee; And this maiden she lived with no other thought     Than to love and be loved by me. I  was a child and  she  was a child,     In this kingdom by the sea: But we loved with a love that was more than love —     I and my Annabel Lee; With a love that the winged seraphs of heaven     Coveted her and me. And this was the reason that, long ago,     In this kingdom by the sea, A wind blew out of a cloud, chilling     My beautiful Annabel Lee; So that her highborn kinsmen came     And bore her away from me, To shut her up in a sepulchre     In this kingdom by the sea. The angels, not half so happy in heaven, ...

ভেঙে মোর ঘরের চাবি

ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে ও বন্ধু আমার! না পেয়ে তোমার দেখা, একা একা দিন যে আমার কাটে না রে। বুঝি গো রাত পোহালো বুঝি ওই রবির আলো আভাসে দেখা দিল গগন-পারে সমুখে ওই হেরি পথ, তোমার কি রথ পৌঁছবে না মোর-দুয়ারে। আকাশের যত তারা চেয়ে রয় নিমেষহারা, বসে রয় রাত-প্রভাতের পথের ধারে। তোমারি দেখা পেলে সকল ফেলে ডুববে আলোক-পারাবারে। প্রভাতের পথিক সবে এল কি কলরবে গেল কি গান গেয়ে ওই সারে সারে! বুঝি-বা ফুল ফুটেছে, সুর উঠেছে অরুণবীণার তারে তারে।

আমার সকল দুখের প্রদীপ

আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে দিবস গেলে করব নিবেদন আমার ব্যথার পূজা হয় নি সমাপন। যখন বেলা-শেষের ছায়ায় পাখিরা যায় আপন কুলায়-মাঝে সন্ধ্যাপূজার ঘণ্টা যখন বাজে তখন আপন শেষ শিখাটি জ্বালবে এ জীবন আমার ব্যথার পূজা হবে সমাপন। অনেক দিনের অনেক কথা ব্যাকুলতা বাঁধা বেদন-ডোরে মনের মাঝে উঠেছে আজ ভ'রে। যখন পূজার হোমানলে উঠবে জ্বলে একে একে তারা আকাশ-পানে ছুটবে বাঁধন-হারা অস্তরবির ছবির সাথে মিলবে আয়োজন আমার ব্যথার পূজা হবে সমাপন।

ছিন্নমুকুল

সবচেয়ে যে ছোট পিড়ি খানি সেখানি আর কেউ রাখেনা পেতে, ছোটথালায় হয় নাকো ভাতবাড়া জল ভরে না ছোট্ট গেলাসেতে । বাড়ির মধ্যে সবচেয়ে যে ছোট খাবার বেলা কেউ ডাকে না তাকে । সবচেয়ে যে শেষে এসেছিল, তারই খাওয়া ঘুচেছে সব আগে । সবচেয়ে যে অল্পে ছিল খুশি, খুশি ছিল ঘেষাঘেষির ঘরে, সেই গেছে হায়, হাওয়ার সঙ্গে মিশে, দিয়ে গেছে জায়গা খালি করে । ছেড়ে গেছে পুতুল, পুঁতির মালা, ছেড়ে গেছে মায়ের কোলের দাবি । ভয়ভরা সে ছিল যে সব চেয়ে সেই খুলেছে আঁধার ঘরের চাবি । হারিয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে ওরে ! হারিয়ে গেছে 'বোল' বলা সেই বাঁশি দুধে ধোওয়া কচি সে মুখখানি আঁচল খুলে হঠাৎ স্রোতের জলে ভেসে গেছে শিউলী ফুলের রাশি , ঢুকেছে হায় শশ্মান ঘরের মাঝে ঘর ছেড়ে হায় হৃদয় শশ্মানবাসী । সবচেয়ে যে ছোট কাপড়গুলি সেইগুলি কেউ দেয় না মেলে ছাদে, যে শয্যাটি সবার চেয়ে ছোট, আজকে সেটি শূন্য পড়ে কাঁদে । সবচেয়ে যে শেষে এসেছিল সেই গিয়েছে সবার আগে সরে । ছোট্ট যে জন ছিল রে সবচেয়ে, সেই দিয়েছে সকল শূন্য করে ।

সিগারেট

আমরা সিগারেট। তোমরা আমাদের বাঁচতে দাও না কেন? আমাদের কেন নিঃশেষ করো পুড়িয়ে? কেন এত স্বল্প-স্থায়ী আমাদের আয়ু? মানবতার কোন্ দোহাই তোমরা পাড়বে? আমাদের দাম বড় কম এই পৃথিবীতে। তাই কি তোমরা আমাদের শোষণ করো? বিলাসের সামগ্রী হিসাবে ফেলো পুড়িয়ে? তোমাদের শোষণের টানে আমরা ছাই হই: তোমরা নিবিড় হও আরামের উত্তাপে। তোমাদের আরামঃ আমাদের মৃত্যু। এমনি ক'রে চলবে আর কত কাল? আর কতকাল আমরা এমনি নিঃশব্দে ডাকব আয়ু-হরণকারী তিল তিল অপঘাতকে? দিন আর রাত্রি - রাত্রি আর দিন; তোমরা আমাদের শোষণ করছ সর্বক্ষণ আমাদের বিশ্রাম নেই, মজুরি নেই নেই কোনো অল্প-মাত্রার ছুটি। তাই, আর নয়; আর আমরা বন্দী থাকব না কৌটোয় আর প্যাকেটে; আঙুলে আর পকেটে সোনা-বাঁধানো 'কেসে' আমাদের নিঃশ্বাস হবে না রুদ্ধ। আমরা বেরিয়ে পড়ব, সবাই একজোটে, একত্রে- তারপর তোমাদের অসতর্ক মুহূর্তে জ্বলন্ত আমরা ছিট্‌কে পড়ব তোমাদের হাত থেকে বিছানায় অথবা কাপড়ে; নিঃশব্দে হঠাৎ জ্বলে উঠে বাড়িসুদ্ধ পুড়িয়ে মারব তোমাদের যেমন করে তোমরা আমাদের পুড়িয়ে মেরেছ এতকাল।।

Darkness

I had a dream, which was not all a dream. The bright sun was extinguished, and the stars Did wander darkling in the eternal space, Ray-less, and pathless, and the icy Earth Swung blind and blackening in the moonless air; Morn came and went—and came, and brought no day, And men forgot their passions in the dread Of this their desolation; and all hearts Were chilled into a selfish prayer for light: And they did live by watchfires—and the thrones, The palaces of crownéd kings—the huts, The habitations of all things which dwell, Were burnt for beacons; cities were consumed, And men were gathered round their blazing homes To look once more into each other's face; Happy were those who dwelt within the eye Of the volcanos, and their mountain-torch: A fearful hope was all the World contained; Forests were set on fire—but hour by hour They fell and faded—and the crackling trunks Extinguished with a crash—and all was black. The brows of men by the despairing light Wore...