Skip to main content

Posts

ভালোবেসে সখী

ভালোবেসে, সখী, নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো-- তোমার মনের মন্দিরে। আমার পরানে যে গান বাজিছে তাহার তালটি শিখো-- তোমার চরণমঞ্জীরে॥ ধরিয়া রাখিয়ো সোহাগে আদরে আমার মুখর পাখি-- তোমার প্রাসাদপ্রাঙ্গণে॥ মনে ক'রে সখী, বাঁধিয়া রাখিয়ো আমার হাতের রাখী-- তোমার কনককঙ্কণে॥ আমার লতার একটি মুকুল ভুলিয়া তুলিয়া রেখো-- তোমার অলকবন্ধনে। আমার স্মরণ শুভ-সিন্দুরে একটি বিন্দু এঁকো-- তোমার ললাটচন্দনে। আমার মনের মোহের মাধুরী মাখিয়া রাখিয়া দিয়ো-- তোমার অঙ্গসৌরভে। আমার আকুল জীবনমরণ টুটিয়া লুটিয়া নিয়ো-- তোমার অতুল গৌরবে॥

ভালো যদি বাস সখী

ভালো যদি বাস, সখী, কী দিব গো আর? কবির হৃদয় এই দিব উপহার। এত ভালোবাসা, সখী, কোন্‌ হৃদে বলো দেখি? কোন্‌ হৃদে ফুটে এত ভাবের কুসুমভার। তা হলে এ হৃদিধামে তোমারি তোমারি নামে, বাজিবে মধুর স্বরে মরমবীণার তার। যা-কিছু গাহিব গান ধ্বনিবে তোমারি নাম, কী আছে কবির বলো, কী তোমারে দিব আর।।

বড়ো আশা ক'রে এসেছি

বড়ো আশা ক'রে এসেছি গো, কাছে ডেকে লও, ফিরায়ো না জননী।। দীনহীনে কেহ চাহে না, তুমি তারে রাখিবে জানি গো। আর আমি-যে কিছু চাহি নে, চরণতলে বসে থাকিব। আর আমি-যে কিছু চাহি নে, জননী ব’লে শুধু ডাকিব। তুমি না রাখিলে, গৃহ আর পাইব কোথা, কেঁদে কেঁদে কোথা বেড়াব– ওই-যে হেরি তমসঘনঘোরা গহন রজনী।।

বঁধু, মিছে রাগ কোরো না

বঁধু, মিছে রাগ কোরো না, কোরো না। মম মন বুঝে দেখো মনে মনে--মনে রেখো, কোরো করুণা॥ পাছে আপনারে রাখিতে না পারি তাই কাছে কাছে থাকি আপনারি-- মুখে হেসে যাই, মনে কেঁদে চাই--সে আমার নহে ছলনা॥ দিনেকের দেখা, তিলেকের সুখ, ক্ষণেকের তরে শুধু হাসিমুখ-- পলকের পরে থাকে বুক ভ'রে চিরজনমের বেদনা। তারি মাঝে কেন এত সাধাসাধি, অবুধ আঁধারে কেন মরি কাঁদি-- দূর হতে এসে ফিরে যাই শেষে বহিয়া বিফল বাসনা॥

আমি চিনি গো চিনি

আমি চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী। তুমি থাক সিন্ধুপারে ওগো বিদেশিনী॥ তোমায় দেখেছি শারদপ্রাতে, তোমায় দেখেছি মাধবী রাতে, তোমায় দেখেছি হৃদি-মাঝারে ওগো বিদেশিনী। আমি আকাশে পাতিয়া কান শুনেছি শুনেছি তোমারি গান, আমি তোমারে সঁপেছি প্রাণ ওগো বিদেশিনী। ভুবন ভ্রমিয়া শেষে আমি এসেছি নূতন দেশে, আমি অতিথি তোমারি দ্বারে ওগো বিদেশিনী॥

প্রতিদান

আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা, আমি বাধি তার ঘর, আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর। যে মোরে করিল পথের বিবাগী; পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি; দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হয়েছে মোর; আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা, আমি বাধি তার ঘর । আমার একুল ভাঙ্গিয়াছে যেবা আমি তার কুল বাধি, যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি; যে মোরে দিয়েছে বিষ ভরা বান, আমি দেই তারে বুক ভরা গান; কাটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম ভর, আপন করিতে কাদিঁয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর । মোর বুকে যেবা কবর বেধেছে আমি তার বুক ভরি, রঙ্গীন ফুলের সোহাগ জড়ান ফুল মালঞ্চ ধরি। যে মুখে সে নিঠুরিয়া বাণী, আমি লয়ে সখী, তারি মুখ খানি, কত ঠাই হতে কত কি যে আনি, সাজাই নিরন্তর, আপন করিতে কাদিয়া বেড়াই যে মোরে করিয়াছে পর ।

বঁধু কোন্‌ আলো

বঁধু, কোন্‌ আলো লাগল চোখে! বুঝি দীপ্তিরূপে ছিলে সূর্যলোকে! ছিল মন তোমারি প্রতীক্ষা করি যুগে যুগে দিন রাত্রি ধরি, ছিল মর্মবেদনাঘন অন্ধকারে, জন্ম-জনম গেল বিরহশোকে। অস্ফুটমঞ্জরী কুঞ্জবনে, সংগীতশূন্য বিষণ্ন মনে সঙ্গীরিক্ত চিরদুঃখরাতি পোহাব কি নির্জনে শয়ন পাতি! সুন্দর হে, সুন্দর হে, বরমাল্যখানি তব আনো বহে, অবগুণ্ঠনছায়া ঘুচায়ে দিয়ে হেরো লজ্জিত স্মিতমুখ শুভ আলোকে॥

আমি তোমার প্রেমে

আমি তোমার প্রেমে হব সবার কলঙ্কভাগী। আমি সকল দাগে হব দাগি॥ তোমার পথের কাঁটা করব চয়ন, যেথা তোমার ধুলার শয়ন সেথা আঁচল পাতব আমার-- তোমার রাগে অনুরাগী॥ আমি শুচি-আসন টেনে টেনে বেড়াব না বিধান মেনে, যে পঙ্কে ওই চরণ পড়ে তাহারি ছাপ বক্ষে মাগি॥

আমি জেনে শুনে

আমি, জেনে শুনে বিষ করেছি পান। প্রাণের আশা ছেড়ে সঁপেছি প্রাণ। যতই দেখি তারে ততই দহি, আপন মনোজ্বালা নীরবে সহি, তবু পারি নে দূরে যেতে, মরিতে আসি, লই গো বুক পেতে অনল-বাণ। যতই হাসি দিয়ে দহন করে, ততই বাড়ে তৃষা প্রেমের তরে, প্রেম-অমৃত-ধারা ততই যাচি, যতই করে প্রাণে অশনি দান।

আমারে তুমি অশেষ করেছ

আমারে তুমি অশেষ করেছ, এমনি লীলা তব– ফুরায়ে ফেলে আবার ভরেছ জীবন নব নব।। কত-যে গিরি কত-যে নদী -তীরে বেড়ালে বহি ছোটো এ বাঁশিটিরে, কত-যে তান বাজালে ফিরে ফিরে কাহারে তাহা কব।। তোমারি ওই অমৃতপরশে আমার হিয়াখানি হারালো সীমা বিপুল হরষে, উথলি উঠে বাণী। আমার শুধু একটি মুঠি ভরি দিতেছ দান দিবস-বিভাবরী– হল না সারা, কত-না যুগ ধরি কেবলই আমি লব।।