Skip to main content

Posts

এক হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর সাথে

এক হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর সাথে সকাল বিকেল বেলা, কত পুরোনো নতুন পরিচিত গান গাইতাম খুলে গলা। কত এলোমেলো পথ হেঁটেছি দু’জন হাত ছিল না তো হাতে, ছিল যে যার জীবনে দু’টো মন ছিল জড়াজড়ি একসাথে। কত ঝগড়া-বিবাদ সুখের স্মৃতিতে ভরে আছে শৈশব, তোকে স্মৃতিতে স্মৃতিতে এখনো তো ভালোবাসছি অসম্ভব। কেন বাড়লে বয়স ছোট্টবেলার বন্ধু হারিয়ে যায়, কেন হারাচ্ছে সব বাড়াচ্ছে ভিড় হারানোর তালিকায়। আজ কে যে কোথায় আছি কোন খবর নেই তো কারো, অথচ তোর ঐ দুঃখগুলোতে অংশ ছিল আমারও। এই চলতি জীবন ঘটনাবহুল দু’ এক ইঞ্চি ফাঁকে, তুইতো পাবিনা আমায় আর আমিও খুঁজিনা তোকে। কত সুখ পাওয়া হয়ে গেল, তোকে ভুলে গেছি কতবার তবু শৈশব থেকে তোর গান যেন ভেসে আসে বারবার। আজ চলতে শিখে গেছি তোকে নেই কিছু প্রয়োজন, তবু ভীষন অপ্রয়োজনে তোকেই খুঁজছে আমার মন। তুই হয়তো ভালোই আছিস আর আমিও মন্দ নেই, তবু অসময়ে এসে স্মৃতিগুলো বুকে আঁকিবুকি কাটবেই। তুই কতদুরে চলে গেলি তোকে হারিয়ে ফেলেছি আমি, এই দুঃখটা হয়ে থাক এই দুঃখটা বড় দামী। সেই কোন কথা নেই মুখে, শুধু চুপচাপ বসে থাকা, ছিল যার যার ব্যথা তার তার বুকে ছড়িয...

কত দিন দেখিনি তোমায়

কত দিন দেখিনি তোমায় তবু মনে পরে তব মুখ খানি স্মৃতির মুখুরে মম , আজো তবু ছায়া পরে রানী কতদিন ..... কতদিন দেখিনি তোমায় কত দিন তুমি নাই কাছে তবু হৃদয়ের তৃষা জেগে আছে কত দিন তুমি নাই কাছে তবু হৃদয়ের তৃষা জেগে আছে, জেগে আছে, প্রিয় যবে দুরে চলে যায় সে যে আরো প্রিয় হয় জানি কতদিন , কত দিন দেখিনি তোমায় হয়ত তোমায় দেশে আজ এসেছে মাধবী রাতি তুমি জোছনায় জাগিয়েছো নিশি সাথে লয়ে নুতনো সাথী হেথা মোর দ্বীপ নেভা রাতে নিধ নাহি দুটি আঁখি পাতে প্রেম সে যে মরিচীকা হায় এ জীবনে এই শুধু মানি কত দিন দেখিনি তোমায় তবু মনে পরে তব মুখ খানি....

তোমাকে চাই

প্রথমত, আমি তোমাকে চাই দ্বিতীয়ত, আমি তোমাকে চাই তৃতীয়ত, আমি তোমাকে চাই শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই নিঝুম অন্ধকারে তোমাকে চাই রাতভোর হলে আমি তোমাকে চাই সকালের কৈশোরে তোমাকে চাই সন্ধের অবকাশে তোমাকে চাই বৈশাখী ঝড়ে আমি তোমাকে চাই আষাঢ়ের মেঘে আমি তোমাকে চাই শ্রাবণে শ্রাবণে আমি তোমাকে চাই অকালবোধনে আমি তোমাকে চাই কবেকার কলকাতা শহরের পথে পুরোনো নতুন মুখ ঘরে ইমারতে অগুন্তি মানুষের ক্লান্ত মিছিলে অচেনা ছুটির ছোঁয়া তুমি এনে দিলে নাগরিক ক্লান্তিতে তোমাকে চাই এক ফোঁটা শান্তিতে তোমাকে চাই বহুদূর হেঁটে এসে তোমাকে চাই এ জীবন ভালোবেসে তোমাকে চাই চৌরাস্তার মোড়ে পার্কে দোকানে শহরে গঞ্জে গ্রামে এখানে ওখানে স্টেশন টার্মিনাস ঘাটে বন্দরে অচেনা ড্রয়িংরুমে চেনা অন্দরে বালিশ তোশক কাঁথা পুরোনো চাদরে ঠান্ডা শীতের রাতে লেপের আদরে কড়িকাঠে চৌকাঠে মাদুরে পাপোশে হাসি রাগ অভিমান ঝগড়া আপোসে তোমাকে চাই, তোমাকে চাই, তোমাকে চাই, তোমাকে চাই এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই ডাইনে ও বাঁয়ে আমি তোমাকে চাই দেখা না দেখায় আমি তোমাকে চাই না-বলা কথায় আমি তোমাকে চাই শীর্ষেন্দুর কোন নতুন নভেলে ...

বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল

বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান॥ মেঘের ছায়ায় অন্ধকারে রেখেছি ঢেকে তারে এই-যে আমার সুরের ক্ষেতের প্রথম সোনার ধান॥ আজ এনে দিলে, হয়তো দিবে না কাল-- রিক্ত হবে যে তোমার ফুলের ডাল। এ গান আমার শ্রাবণে শ্রাবণে তব বিস্মৃতিস্রোতের প্লাবনে ফিরিয়া ফিরিয়া আসিবে তরণী বহি তব সম্মান॥

আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদলদিনে

আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদলদিনে জানি নে, জানি নে কিছুতে কেন যে মন লাগে না ॥ এই চঞ্চল সজল পবন-বেগে উদ্‌ভ্রান্ত মেঘে মন চায় মন চায় ওই বলাকার পথখানি নিতে চিনে॥ মেঘমল্লার সারা দিনমান। বাজে ঝরনার গান। মন হারাবার আজি বেলা, পথ ভুলিবার খেলা-- মন চায় মন চায় হৃদয় জড়াতে কার চিরঋণে॥

ময়না ছলাৎ ছলাৎ

ময়না ছলাৎ ছলাৎ চলে রে পিছন পানে চায়না রে মন ধুকপুক ধুকপুক করে রে তোর লাগি উতলা রে শাল পিয়ালের বন থিক্যা ওই জংলা নদীর পাড়েতে তোর সঙ্গ লই ঘুরঘুর করুম এই বাসনা প্রানে ময়না ছলাৎ ছলাৎ... দূর-দূর তোর এই মনটা লইয়া যাবো বাগানটায় লাল হলুদ ফুল দিয়া মুই বাঁন্ধিবো খোপায় সাধের পিরতিমা কইর‌্যা রাখুম চোখের তারাটায় রানী হইয়া রইবি মোর এই হু-হু-হু-হু পরানটায় মন চায় তোরে রাখুম ধরে জাপট দিয়া, হায়, চাঁদ তারা তোর লাগি আনুম হুকুম তায় সাধের প্রতিমা কইর‌্যা রাখুম চোখের তারাটায় রানী হইয়া রইবি মোর এই হু-হু-হু-হু পরানটায় ময়না ছলাৎ ছলাৎ চলে রে পিছন পানে চায়না রে মন ধুকপুক ধুকপুক করে রে তোর লাগি উতলা রে শাল পিয়ালের বন থিক্যা ওই জংলা নদীর পাড়েতে তোর সঙ্গ লই ঘুরঘুর করুম এই বাসনা প্রানে ময়না ছলাৎ ছলাৎ...

আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায়

আজ ধানের খেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা। নীল আকশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা। আজ ভ্রমর ভোলে মধু খেতে, উড়ে বেড়ায় আলোয় মেতে; আজ কিসের তরে নদীর চরে চখাচখির মেলা। ওরে যাব না আজ ঘরে রে ভাই, যাব না আজ ঘরে। ওরে আকাশ ভেঙে বাহিরকে আজ নেব রে লুঠ করে। যেন জোয়ার-জলে ফেনার রাশি বাতাসে আজ ছুটছে হাসি। আজ বিনা কাজে বাজিয়ে বাঁশি কাটবে সকল বেলা।

মেঘের পরে মেঘ জমেছে

মেঘের পরে মেঘ জমেছে, আঁধার করে আসে- আমায় কেন বসিয়ে রাখ একা দ্বারের পাশে। কাজের দিনে নানা কাজে থাকি নানা লোকের মাঝে, আজ আমি যে বসে আছি তোমারই আশ্বাসে। আমায় কেন বসিয়ে রাখ একা দ্বারের পাশে। তুমি যদি না দেখা দাও কর আমায় হেলা, কেমন করে কাটে আমার এমন বাদল-বেলা। দূরের পানে মেলে আঁখি কেবল আমি চেয়ে থাকি, পরাণ আমার কেঁদে বেড়ায় দুরন্ত বাতাসে। আমায় কেন বসিয়ে রাখ একা দ্বারের পাশে।

আমার পরান যাহা চায়

আমার পরান যাহা চায়, তুমি তাই, তুমি তাই গো ! তোমা ছাড়া আর এ জগতে মোর কেহ নাই কিছু নাই গো ! তুমি সুখ যদি নাহি পাও যাও সুখের সন্ধানে যাও আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয়মাঝে, আর কিছু নাহি চাই গো। আমি তোমার বিরহে রহিব বিলীন, তোমাতে করিব বাস, দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী, দীর্ঘ বরষ মাস। যদি আর কারে ভালোবাস, যদি আর ফিরে নাহি আস, তবে তুমি যাহা চাও, তাই যেন পাও, আমি যত দুখ পাই গো ।

আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে

আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী! ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে! তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে॥ ডান হাতে তোর খড়্গ জ্বলে, বাঁ হাত করে শঙ্কাহরণ, দুই নয়নে স্নেহের হাসি, ললাটনেত্র আগুনবরণ। ওগো মা, তোমার কী মুরতি আজি দেখি রে! তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে॥ তোমার মুক্তকেশের পুঞ্জ মেঘে লুকায় অশনি, তোমার আঁচল ঝলে আকাশতলে রৌদ্রবসনী! ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে! তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে॥ যখন অনাদরে চাই নি মুখে ভেবেছিলেম দুঃখিনী মা আছে ভাঙা ঘরে একলা পড়ে, দুখের বুঝি নাইকো সীমা। কোথা সে তোর দরিদ্র বেশ, কোথা সে তোর মলিন হাসি— আকাশে আজ ছড়িয়ে গেল ঐ চরণের দীপ্তিরাশি! ওগো মা, তোমার কী মুরতি আজি দেখি রে! তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে॥ আজি দুখের রাতে সুখের স্রোতে ভাসাও ধরণী— তোমার অভয় বাজে হৃদয়মাঝে হৃদয়হরণী! ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে! তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে॥