Skip to main content

Posts

Showing posts from 2010

ছিন্নমুকুল

সবচেয়ে যে ছোট পিড়ি খানি সেখানি আর কেউ রাখেনা পেতে, ছোটথালায় হয় নাকো ভাতবাড়া জল ভরে না ছোট্ট গেলাসেতে । বাড়ির মধ্যে সবচেয়ে যে ছোট খাবার বেলা কেউ ডাকে না তাকে । সবচেয়ে যে শেষে এসেছিল, তারই খাওয়া ঘুচেছে সব আগে । সবচেয়ে যে অল্পে ছিল খুশি, খুশি ছিল ঘেষাঘেষির ঘরে, সেই গেছে হায়, হাওয়ার সঙ্গে মিশে, দিয়ে গেছে জায়গা খালি করে । ছেড়ে গেছে পুতুল, পুঁতির মালা, ছেড়ে গেছে মায়ের কোলের দাবি । ভয়ভরা সে ছিল যে সব চেয়ে সেই খুলেছে আঁধার ঘরের চাবি । হারিয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে ওরে ! হারিয়ে গেছে 'বোল' বলা সেই বাঁশি দুধে ধোওয়া কচি সে মুখখানি আঁচল খুলে হঠাৎ স্রোতের জলে ভেসে গেছে শিউলী ফুলের রাশি , ঢুকেছে হায় শশ্মান ঘরের মাঝে ঘর ছেড়ে হায় হৃদয় শশ্মানবাসী । সবচেয়ে যে ছোট কাপড়গুলি সেইগুলি কেউ দেয় না মেলে ছাদে, যে শয্যাটি সবার চেয়ে ছোট, আজকে সেটি শূন্য পড়ে কাঁদে । সবচেয়ে যে শেষে এসেছিল সেই গিয়েছে সবার আগে সরে । ছোট্ট যে জন ছিল রে সবচেয়ে, সেই দিয়েছে সকল শূন্য করে ।

সিগারেট

আমরা সিগারেট। তোমরা আমাদের বাঁচতে দাও না কেন? আমাদের কেন নিঃশেষ করো পুড়িয়ে? কেন এত স্বল্প-স্থায়ী আমাদের আয়ু? মানবতার কোন্ দোহাই তোমরা পাড়বে? আমাদের দাম বড় কম এই পৃথিবীতে। তাই কি তোমরা আমাদের শোষণ করো? বিলাসের সামগ্রী হিসাবে ফেলো পুড়িয়ে? তোমাদের শোষণের টানে আমরা ছাই হই: তোমরা নিবিড় হও আরামের উত্তাপে। তোমাদের আরামঃ আমাদের মৃত্যু। এমনি ক'রে চলবে আর কত কাল? আর কতকাল আমরা এমনি নিঃশব্দে ডাকব আয়ু-হরণকারী তিল তিল অপঘাতকে? দিন আর রাত্রি - রাত্রি আর দিন; তোমরা আমাদের শোষণ করছ সর্বক্ষণ আমাদের বিশ্রাম নেই, মজুরি নেই নেই কোনো অল্প-মাত্রার ছুটি। তাই, আর নয়; আর আমরা বন্দী থাকব না কৌটোয় আর প্যাকেটে; আঙুলে আর পকেটে সোনা-বাঁধানো 'কেসে' আমাদের নিঃশ্বাস হবে না রুদ্ধ। আমরা বেরিয়ে পড়ব, সবাই একজোটে, একত্রে- তারপর তোমাদের অসতর্ক মুহূর্তে জ্বলন্ত আমরা ছিট্‌কে পড়ব তোমাদের হাত থেকে বিছানায় অথবা কাপড়ে; নিঃশব্দে হঠাৎ জ্বলে উঠে বাড়িসুদ্ধ পুড়িয়ে মারব তোমাদের যেমন করে তোমরা আমাদের পুড়িয়ে মেরেছ এতকাল।।

Darkness

I had a dream, which was not all a dream. The bright sun was extinguished, and the stars Did wander darkling in the eternal space, Ray-less, and pathless, and the icy Earth Swung blind and blackening in the moonless air; Morn came and went—and came, and brought no day, And men forgot their passions in the dread Of this their desolation; and all hearts Were chilled into a selfish prayer for light: And they did live by watchfires—and the thrones, The palaces of crownéd kings—the huts, The habitations of all things which dwell, Were burnt for beacons; cities were consumed, And men were gathered round their blazing homes To look once more into each other's face; Happy were those who dwelt within the eye Of the volcanos, and their mountain-torch: A fearful hope was all the World contained; Forests were set on fire—but hour by hour They fell and faded—and the crackling trunks Extinguished with a crash—and all was black. The brows of men by the despairing light Wore...

Solitude

To sit on rocks, to muse o'er flood and fell, To slowly trace the forest's shady scene, Where things that own not man's dominion dwell, And mortal foot hath ne'er or rarely been; To climb the trackless mountain all unseen, With the wild flock that never needs a fold; Alone o'er steeps and foaming falls to lean; This is not solitude, 'tis but to hold Converse with Nature's charms, and view her stores unrolled. But midst the crowd, the hurry, the shock of men, To hear, to see, to feel and to possess, And roam alone, the world's tired denizen, With none who bless us, none whom we can bless; Minions of splendour shrinking from distress! None that, with kindred consciousness endued, If we were not, would seem to smile the less Of all the flattered, followed, sought and sued; This is to be alone; this, this is solitude!

পুরাতন ভৃত্য

ভূতের মতন চেহারা যেমন , নির্বোধ অতি ঘোর । যা - কিছু হারায় , গিন্নি বলেন , ‘ কেষ্টা বেটাই চোর । ' উঠিতে বসিতে করি বাপান্ত , শুনেও শোনে না কানে । যত পায় বেত না পায় বেতন , তবু না চেতন মানে । বড়ো প্রয়োজন , ডাকি প্রাণপণ , চীৎকার করি ‘ কেষ্টা ' — যত করি তাড়া , নাহি পাই সাড়া , খুঁজে ফিরি সারা দেশটা তিনখানা দিলে একখানা রাখে , বাকি কোথা নাহি জানে — একখানা দিলে নিমেষ ফেলিতে তিনখানা ক ' রে আনে । যেখানে সেখানে দিবসে দুপুরে নিদ্রাটি আছে সাধা — মহাকলরবে গালি দেই যবে ‘ পাজি হতভাগা গাধা ' — দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সে হাসে , দেখে জ্বলে যায় পিত্ত ! তবু মায়া তার ত্যাগ করা ভার — বড়ো পুরাতন ভৃত্য । ঘরের কর্ত্রী রুক্ষমূর্তি বলে , ‘ আর পারি নাকো ! রহিল তোমার এ ঘর দুয়ার , কেষ্টারে লয়ে থাকো । না মানে শাসন ; বসন বাসন অশন আসন যত কোথায় কী গেল ! শুধু টাকাগুলো যেতেছে জলের মতো । গেলে সে বাজার সারা দিনে আর দেখা পাওয়া তার ভার — করিলে চেষ্টা কেষ্টা ছাড়া কি ভৃত্য মেলে না আর ! শুনে মহা রেগে ছুটে যাই বেগে , আনি তার টিকি ধরে ; বলি তারে , ‘ পাজি , বেরো তুই আজই , দূর করে দিনু ...

জুতা আবিষ্কার

কহিলা হবু, ‘শুন গো গোবুরায়, কালিকে আমি ভেবেছি সারা রাত্র— মলিন ধূলা লাগিবে কেন পায় ধরণীমাঝে চরণ-ফেলা মাত্র? তোমরা শুধু বেতন লহ বাঁটি, রাজার কাজে কিছুই নাহি দৃষ্টি। আমার মাটি লাগায় মোরে মাটি, রাজ্যে মোর একি এ অনাসৃষ্টি! শীঘ্র এর করিবে প্রতিকার নহিলে কারো রক্ষা নাহি আর।’ শুনিয়া গোবু ভাবিয়া হল খুন, দারুণ ত্রাসে ঘর্ম বহে গাত্রে। পণ্ডিতের হইল মুখ চুন, পাত্রদের নিদ্রা নাহি রাত্রে। রান্নাঘরে নাহিকো চড়ে হাঁড়ি, কান্নাকাটি পড়িল বাড়িমধ্যে, অশ্রুজলে ভাসায়ে পাকা দাড়ি কহিলা গোবু হবুর পাদপদ্মে, ‘যদি না ধুলা লাগিবে তব পায়ে, পায়ের ধুলা পাইব কী উপায়ে!’ শুনিয়া রাজা ভাবিল দুলি দুলি, কহিল শেষে, ‘কথাটা বটে সত্য— কিন্তু আগে বিদায় করো ধুলি, ভাবিয়ো পরে পদধুলির তত্ত্ব। ধুলা-অভাবে না পেলে পদধুলা তোমরা সবে মাহিনা খাও মিথ্যে, কেন বা তবে পুষিনু এতগুলা উপাধি-ধরা বৈজ্ঞানিক ভৃত্যে? আগের কাজ আগে তো তুমি সারো, পরের কথা ভাবিয়ো পরে আরো,’ আঁধার দেখে রাজার কথা শুনি, যতনভরে আনিল তবে মন্ত্রী যেখানে যত আছিল জ্ঞানীগুণী দেশে বিদেশে যতেক ছিল যন্ত্রী। বসিল সবে চশমা চোখে আঁটি,...

বঙ্গবীর

ভুলুবাবু বসি পাশের ঘরেতে নামতা পড়েন উচ্চস্বরেতে— হিস্ট্রি কেতাব লইয়া করেতে কেদারা হেলান দিয়ে দুই ভাই মোরা সুখে সমাসীন, মেজের উপরে জ্বলে কেরাসিন, পড়িয়া ফেলেছি চ্যাপ্টার তিন— দাদা এমে, আমি বিএ। যত পড়ি তত পুড়ে যায় তেল, মগজে গজিয়ে উঠে আক্কেল, কেমন করিয়া বীর ক্রমোয়েল পাড়িল রাজার মাথা বালক যেমন ঠেঙার বাড়িতে পাকা আমগুলো রহে গো পাড়িতে— কৌতুক ক্রমে বাড়িতে বাড়িতে উলটি ব’য়ের পাতা। কেহ মাথা ফেলে ধর্মের তরে, পরহিতে কারো মাথা খ’সে পড়ে, রণভূমে কেহ মাথা রেখে মরে কেতাবে রয়েছে লেখা। আমি কেদারায় মাথাটি রাখিয়া এই কথাগুলি চাখিয়া চাখিয়া সুখে পাঠ করি থাকিয়া থাকিয়া, পড়ে কত হয় শেখা! পড়িয়াছি বসে জানলার কাছে জ্ঞান খুঁজে কারা ধরা ভ্রমিয়াছে, কবে মরে তারা মুখস্থ আছে কোন্‌ মাসে কী তারিখে। কর্তব্যের কঠিন শাসন সাধ ক’রে কারা করে উপাসন, গ্রহণ করেছে কণ্টকাসন, খাতায় রেখেছি লিখে। বড়ো কথা শুনি, বড়ো কথা কই, জড়ো করে নিয়ে পড়ি বড়ো বই, এমনি করিয়া ক্রমে বড়ো হই— কে পারে রাখিতে চেপে! কেদারায় বসে সারাদিন ধ’রে বই প’ড়ে প’ড়ে মুখস্থ ক’রে কভু মাথা ধরে কভ...

আষাঢ়

নীল নবঘনে আষাঢ়গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে । ওগো , আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে । বাদলের ধারা ঝরে ঝর - ঝর , আউশের খেত জলে ভর - ভর , কালী - মাখা মেঘে ও পারে আঁধার ঘনিয়েছে দেখ্‌ চাহি রে । ওগো , আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে । ওই ডাকে শোনো ধেনু ঘনঘন , ধবলীরে আনো গোহালে । এখনি আঁধার হবে বেলাটুকু পোহালে । দুয়ারে দাঁড়ায়ে ওগো দেখ্‌ দেখি মাঠে গেছে যারা তারা ফিরিছে কি ? রাখাল - বালক কী জানি কোথায় সারাদিন আজি খোয়ালে । এখনি আঁধার হবে বেলাটুকু পোহালে । শোনো শোনো ওই পারে যাবে ব'লে কে ডাকিছে বুঝি মাঝিরে । খেয়া - পারাপার বন্ধ হয়েছে আজি রে । পূবে হাওয়া বয় , কূলে নেই কেউ , দু কূল বাহিয়া উঠে পড়ে ঢেউ , দরদর বেগে জলে পড়ি জল ছলছল উঠে বাজি রে । খেয়া - পারাপার বন্ধ হয়েছে আজি রে । ওগো , আজ তোরা যাস নে গো তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে— আকাশ আঁধার , বেলা বেশি আর নাহি রে । ঝরঝর ধারে ভিজিবে নিচোল , ঘাটে যেতে পথ হয়েছে পিছল , ঐ বেণুবন দুলে ঘনঘন পথপাশে দেখ্‌ চাহি রে । ওগো , আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে ।

উর্বশী

নহ মাতা , নহ কন্যা , নহ বধূ , সুন্দরী রূপসী , হে নন্দনবাসিনী উর্বশী! গোষ্ঠে যবে সন্ধ্যা নামে শ্রান্ত দেহে স্বর্ণাঞ্চল টানি তুমি কোনো গৃহপ্রান্তে নাহি জ্বাল সন্ধ্যাদীপখানি , দ্বিধায় জড়িত পদে কম্প্রবক্ষে নম্রনেত্রপাতে স্মিতহাস্যে নাহি চল সলজ্জিত বাসরশয্যাতে স্তব্ধ অর্ধরাতে । উষার উদয়-সম অনবগুণ্ঠিতা তুমি অকুণ্ঠিতা । বৃন্তহীন পুষ্প-সম আপনাতে আপনি বিকশি কবে তুমি ফুটিলে উর্বশী! আদিম বসন্তপ্রাতে উঠেছিলে মন্থিত সাগরে , ডান হাতে সুধাপাত্র বিষভাণ্ড লয়ে বাম করে , তরঙ্গিত মহাসিন্ধু মন্ত্রশান্ত ভুজঙ্গের মতো পড়েছিল পদপ্রান্তে উচ্ছ্বসিত ফণা লক্ষ শত করি অবনত । কুন্দশুভ্র নগ্নকান্তি সুরেন্দ্রবন্দিতা , তুমি অনিন্দিতা । কোনোকালে ছিলে না কি মুকুলিকা বালিকা-বয়সী হে অনন্তযৌবনা উর্বশী! আঁধার পাথারতলে কার ঘরে বসিয়া একেলা মানিক মুকুতা লয়ে করেছিলে শৈশবের খেলা , মণিদীপদীপ্ত কক্ষে সমুদ্রের কল্লোলসংগীতে অকলঙ্ক হাস্যমুখে প্রবাল-পালঙ্কে ঘুমাইতে কার অঙ্কটিতে । যখনি জাগিলে বিশ্বে , যৌবনে গঠিতা , যুগযুগান্তর হতে তুমি শুধু বিশ্বের প্রেয়সী হে অপূর্বশোভনা উর্বশী! মুনিগণ ধ্যান ভাঙি...

মাঝি

আমার যেতে ইচ্ছে করে নদীটির ওই পারে— যেথায় ধারে ধারে বাঁশের খোঁটায় ডিঙি নৌকো বাঁধা সারে সারে। কৃষাণেরা পার হয়ে যায় লাঙল কাঁধে ফেলে; জাল টেনে নেয় জেলে, গোরু মহিষ সাঁৎরে নিয়ে যায় রাখালের ছেলে। সন্ধে হলে যেখান থেকে সবাই ফেরে ঘরে শুধু রাতদুপরে শেয়ালগুলো ডেকে ওঠে ঝাউডাঙাটার ‘পরে। মা, যদি হও রাজি, বড়ো হলে আমি হব খেয়াঘাটের মাঝি। শুনেছি ওর ভিতর দিকে আছে জলার মতো। বর্ষা হলে গত ঝাঁকে ঝাঁকে আসে সেথায় চখাচখী যত। তারি ধারে ঘন হয়ে জন্মেছে সব শর; মানিক - জোড়ের ঘর, কাদাখোঁচা পায়ের চিহ্ন আঁকে পাঁকের ‘পর। সন্ধ্যা হলে কত দিন মা, দাঁড়িয়ে ছাদের কোণে দেখেছি একমনে— চাঁদের আলো লুটিয়ে পড়ে সাদা কাশের বনে। মা, যদি হও রাজি, বড়ো হলে আমি হব খেয়াঘাটের মাঝি। এ - পার ও - পার দুই পারেতেই যাব নৌকো বেয়ে। যত ছেলেমেয়ে স্নানের ঘাটে থেকে আমায় দেখবে চেয়ে চেয়ে। সূর্য যখন উঠবে মাথায় অনেক বেলা হলে— আসব তখন চলে ‘বড়ো খিদে পেয়েছে গো— খেতে দাও মা' বলে। আবার আমি আসব ফিরে আঁধার হলে সাঁঝে তোমার ঘরের মাঝে। বাবার মতো যাব না মা, বিদেশে কোন্‌ কাজে। মা, যদ...

ফাঁকি

বিনুর বয়স তেইশ তখন , রোগে ধরল তারে । ওষুধে ডাক্তারে ব্যাধির চেয়ে আধি হল বড়ো ; নানা ছাপের জমল শিশি , নানা মাপের কৌটো হল জড়ো । বছর দেড়েক চিকিৎসাতে করলে যখন অস্থি জরজর তখন বললে , " হাওয়া বদল করো । " এই সুযোগে বিনু এবার চাপল প্রথম রেলের গাড়ি , বিয়ের পরে ছাড়ল প্রথম শ্বশুরবাড়ি । নিবিড় ঘন পরিবারের আড়ালে আবডালে মোদের হত দেখাশুনো ভাঙা লয়ের তালে ; মিলন ছিল ছাড়া ছাড়া , চাপা হাসি টুকরো কথার নানান জোড়াতাড়া । আজকে হঠাৎ ধরিত্রী তার আকাশভরা সকল আলো ধরে বর বধূরে নিলে বরণ করে । রোগা মুখের মস্ত বড়ো দুটি চোখে বিনুর যেন নতুন করে শুভদৃষ্টি হল নতুন লোকে । রেল-লাইনের ওপার থেকে কাঙাল যখন ফেরে ভিক্ষা হেঁকে , বিনু আপন বাক্স খুলে টাকা সিকে যা হাতে পায় তুলে কাগজ দিয়ে মুড়ে দেয় সে ছুঁড়ে ছুঁড়ে । সবার দুঃখ দূর না হলে পরে আনন্দ তার আপনার ই ভার বইবে কেমন করে । সংসারের ঐ ভাঙা ঘাটের কিনার হতে আজ আমাদের ভাসান যেন চিরপ্রেমের স্রোতে — তাই যেন আজ দানে ধ্যানে ভরতে হবে সে — যাত্রাটি বিশ্বে র কল্যাণে । বিনুর মনে জাগছে বারেবার নিখিলে আজ একলা শুধু আমিই কেবল তার ; কে...

দুই বিঘা জমি

শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই আর সবই গেছে ঋণে । বাবু বলিলেন , ' বুঝেছ উপেন , এ জমি লইব কিনে । ' কহিলাম আমি , ' তুমি ভূস্বামী , ভূমির অন্ত নাই । চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো - জোর মরিবার মতো ঠাঁই । ' শুনি রাজা কহে , ' বাপু , জানো তো হে , করেছি বাগানখানা পেলে দুই বিঘে প্রস্থ ও দিঘে সমান হইবে টানা — ওটা দিতে হবে । ' কহিলাম তবে বক্ষে জুড়িয়া পাণি সজল চক্ষে , ' করুণ রক্ষে গরিবের ভিটেখানি । সপ্ত পুরুষ যেথায় মানুষ সে মাটি সোনার বাড়া , দৈন্যের দায়ে বেচিব সে মায়ে এমনি লক্ষ্মীছাড়া ! ' আঁখি করি লাল রাজা ক্ষণকাল রহিল মৌনভাবে , কহিলেন শেষে ক্রূর হাসি হেসে , ' আচ্ছা , সে দেখা যাবে । ' পরে মাস দেড়ে ভিটে মাটি ছেড়ে বাহির হইনু পথে — করিল ডিক্রি , সকলই বিক্রি মিথ্যা দেনার খতে । এ জগতে , হায় , সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি — রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি । মনে ভাবিলাম মোরে ভগবান রাখিবে না মোহগর্তে , তাই লিখি দিল বিশ্বনিখিল দু বিঘার পরিবর্তে । সন্ন্যাসীবেশে ফিরি দেশে দেশে হইয়া সাধুর শিষ্য কত হেরিলাম মনোহর ধাম , কত মনোরম দৃশ্য ! ভূধরে ...

বনলতা সেন

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে, সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে অনেক ঘুরেছি আমি ; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে সেখানে ছিলাম আমি ; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে; আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন, আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন। চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের 'পর হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর, তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ' এতোদিন কোথায় ছিলেন?' পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন। সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল; পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল; সব পাখি ঘরে আসে-সব নদী-ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন; থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।

আবার আসিব ফিরে

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায় হয়তো মানুষ নয়- হয়তো বা শাঁখচিল শালিকের বেশে, হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়। হয়তো বা হাঁস কোনো- কিশোরীর- ঘুঙুর রহিবে লাল পায় সারাদিন কেটে যাবে কল্মীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে। আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে জলঙ্গীর ঢেউএ ভেজা বাংলারই সবুজ করুণ ডাঙ্গায়। হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে। হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেঁচা ডাকিতেছে শিমূলের ডালে। হয়তো খৈয়ের ধান সরাতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে। রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেঁড়া পালে ডিঙ্গা বায়; রাঙ্গা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে দেখিবে ধবল বক; আমারে পাবে তুমি ইহাদের ভীড়ে।

দুরন্ত আশা

মর্মে যবে মত্ত আশা সর্পসম ফোঁসে, অদৃষ্টের বন্ধনেতে দাপিয়া বৃথা রোষে, তখনো ভালোমানুষ সেজে বাঁধানো হুঁকা যতনে মেজে মলিন তাস সজোরে ভেঁজে খেলিতে হবে কষে! অন্নপায়ী বঙ্গবাসী স্তন্যপায়ী জীব জন-দশেকে জটলা করি তক্তপোশে ব'সে। ভদ্র মোরা, শান্ত বড়ো, পোষ-মানা এ প্রাণ বোতাম-আঁটা জামার নীচে শান্তিতে শয়ান। দেখা হলেই মিষ্ট অতি মুখের ভাব শিষ্ট অতি, অলস দেহ ক্লিষ্টগতি— গৃহের প্রতি টান। তৈল-ঢালা স্নিগ্ধ তনু নিদ্রারসে ভরা, মাথায় ছোটো বহরে বড়ো বাঙালি সন্তান। ইহার চেয়ে হতেম যদি আরব বেদুয়িন! চরণতলে বিশাল মরু দিগন্তে বিলীন। ছুটেছে ঘোড়া, উড়েছে বালি, জীবনস্রোত আকাশে ঢালি হৃদয়তলে বহ্নি জ্বালি চলেছি নিশিদিন। বর্শা হাতে, ভর্‌সা প্রাণে, সদাই নিরুদ্দেশ, মরুর ঝড় যেমন বহে সকল বাধাহীন। বিপদ-মাঝে ঝাঁপায়ে প'ড়ে শোণিত উঠে ফুটে, সকল দেহে সকল মনে জীবন জেগে উঠে— অন্ধকারে সূর্যালোতে সন্তরিয়া মৃত্যুস্রোতে নৃত্যময় চিত্ত হতে মত্ত হাসি টুটে। বিশ্বমাঝে মহান যাহা সঙ্গী পরানের, ঝঞ্ঝামাঝে ধায় সে প্রাণ সিন্ধুমাঝে লুটে। নিমেষতরে ইচ্ছা করে বিকট উল্লাসে সকল ...

তালগাছ

তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে সব গাছ ছাড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে । মনে সাধ , কালো মেঘ ফুঁড়ে যায় একেবারে উড়ে যায় ; কোথা পাবে পাখা সে ? তাই তো সে ঠিক তার মাথাতে গোল গোল পাতাতে ইচ্ছাটি মেলে তার , মনে মনে ভাবে , বুঝি ডানা এই , উড়ে যেতে মানা নেই বাসাখানি ফেলে তার । সারাদিন ঝরঝর থত্থর কাঁপে পাতা - পত্তর , ওড়ে যেন ভাবে ও , মনে মনে আকাশেতে বেড়িয়ে তারাদের এড়িয়ে যেন কোথা যাবে ও । তার পরে হাওয়া যেই নেমে যায় , পাতা - কাঁপা থেমে যায় , ফেরে তার মনটি — যেই ভাবে , মা যে হয় মাটি তার , ভালো লাগে আরবার পৃথিবীর কোণটি ।

Imagine

Imagine there's no Heaven It's easy if you try No Hell below us Above us only sky Imagine all the people Living for today Imagine there's no countries It isn't hard to do Nothing to kill or die for And no religion too Imagine all the people Living life in peace You may say I'm a dreamer But I'm not the only one I hope someday you'll join us And the world will be as one Imagine no possessions I wonder if you can No need for greed or hunger A brotherhood of man Imagine all the people Sharing all the world You may say I'm a dreamer But I'm not the only one I hope someday you'll join us And the world will live as one.

Rocky Mountain High

He was born in the summer of his 27th year, coming home to a place he'd never been before. He left yesterday behind him you might say he was born again, might say he found a key for every door. When he first came to the mountains His life was far away on the road and hanging by a song. But the strings already broken and he doesn't really care, it keeps changing fast, and it don't last for long. It's a Colorado Rocky Mountain High, I've seen it raining fire in the sky The shadows from the starlight are softer than a lullabye. Rocky Mountain High, ...in Colorado.... Rocky Mountain High. He climbed cathedral mountains, he saw silver clouds below, saw everything as far as you can see. And they say that he got crazy once and that he tried to touch the sun, and he lost a friend, but kept the memory. Now he walks in quiet solitude, the forest and the stream, seeking grace in every step he takes, his sight is turned inside himself, to try and under...

Country Roads

Almost heaven, West Virginia, Blue ridge mountains, Shenandoah River. Life is old there, Older than the trees, Younger than the mountains, Growing like a breeze. Country roads, take me home. To the place I belong, West Virginia, mountain mama. Take me home, country roads. All my memories gathered round her, Miners lady, stranger to blue water, Dark and dusty, painted on the sky, Misty taste of moonshine, Teardrops in my eye. Country roads, take me home. To the place I belong, West Virginia, mountain mama. Take me home, country roads. I hear her voice in the morning hour she calls me. The radio reminds me of my home far away, And driving down the road I get a feeling, That I should have been home yesterday, yesterday. Country roads, take me home. To the place I belong, West Virginia, mountain mama. Take me home, country roads. Country roads, take me home. To the place I belong, West Virginia, mountain mama. Take me home, country roads...

Come and Let Me Looking in Your Eyes

I guess growing isn't hard to do, just stand against the wall Once I was just two feet high Today I'm six feet tall But knowing who to listen to, is something else again Words just whistle around my head like seasons in the wind All across the water the clouds are sailing they won't let me look at the sky All I want to do is try to find myself Come and let me look in your eyes In searching for the way to go I've followed all the rules The way they say to choose between the wise men and the fools I listened to the words they say I read what I should read I do whatever's right to do Try to be what I should be Someone let me in I think the sky is falling Seems I've gotten lost on my way All I want to do is try to find myself Come and let me look in your eyes But wisdom isn't underground, nor on a mountainside Where am I to take myself, there's no place here to hide Where can I hide All across the universe the stars are...

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর

দিনের আলো নিবে এল, সুয্যি ডোবে - ডোবে। আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে। মেঘের উপর মেঘ করেছে— রঙের উপর রঙ, মন্দিরেতে কাঁসর ঘন্টা। বাজল ঠঙ ঠঙ। ও পারেতে বিষ্টি এল, ঝাপসা গাছপালা। এ পারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিক জ্বালা। বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে ছেলেবেলার গান— ‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এল বান। ' আকাশ জুড়ে মেঘের খেলা, কোথায় বা সীমানা! দেশে দেশে খেলে বেড়ায়, কেউ করে না মানা। কত নতুন ফুলের বনে বিষ্টি দিয়ে যায়, পলে পলে নতুন খেলা কোথায় ভেবে পায়। মেঘের খেলা দেখে কত খেলা পড়ে মনে, কত দিনের লুকোচুরি কত ঘরের কোণে। তারি সঙ্গে মনে পড়ে ছেলেবেলার গান— ‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এল বান। ' মনে পড়ে ঘরটি আলো মায়ের হাসিমুখ, মনে পড়ে মেঘের ডাকে গুরুগুরু বুক। বিছানাটির একটি পাশে ঘুমিয়ে আছে খোকা, মায়ের ‘পরে দৌরাত্মি সে না যায় লেখাজোখা। ঘরেতে দুরন্ত ছেলে করে দাপাদাপি, বাইরেতে মেঘ ডেকে ওঠে— সৃষ্টি ওঠে কাঁপি। মনে পড়ে মায়ের মুখে শুনেছিলেম গান— ‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এল বান। মনে পড়ে সুয়োরানী দুয়োরানীর কথ...

হিং টিং ছট্‌

স্বপ্ন দেখেছেন রাত্রে হবুচন্দ্র ভূপ , অর্থ তার ভাবি ভাবি গবুচন্দ্র চুপ । শিয়রে বসিয়ে যেন তিনটে বাঁদরে উকুন বাছিতেছিল পরম আদরে । একটু নড়িতে গেলে গালে মারে চড় , চোখে মুখে লাগে তার নখের আঁচড় । সহসা মিলাল তারা , এল এক বেদে , ‘ পাখি উড়ে গেছে ' ব ' লে মরে কেঁদে কেঁদে ; সম্মুখে রাজারে দেখি তুলি নিল ঘাড়ে , ঝুলায়ে বসায়ে দিল উচ্চ এক দাঁড়ে । নীচেতে দাঁড়ায়ে এক বুড়ি থুড়্‌থুড়ি হাসিয়া পায়ের তলে দেয় সুড়্‌সুড়ি । রাজা বলে , ‘ কী আপদ! ' কেহ নাহি ছাড়ে , পা দুটা তুলিতে চাহে , তুলিতে না পারে । পাখির মতন রাজা করে ঝট্‌পট্‌ , বেদে কানে কানে বলে — ‘ হিং টিং ছট্‌ । ' স্বপ্নমঙ্গলের কথা অমৃতসমান , গৌড়ানন্দ কবি ভনে , শুনে পুণ্যবান । হবুপুর রাজ্যে আজ দিন ছয়-সাত চোখে কারো নিদ্রা নাই , পেটে নাই ভাত । শীর্ণ গালে হাত দিয়ে নত করি শির রাজ্যসুদ্ধ বালবৃদ্ধ ভেবেই অস্থির । ছেলেরা ভুলেছে খেলা , পণ্ডিতেরা পাঠ , মেয়েরা করেছে চুপ — এতই বিভ্রাট । সারি সারি বসে গেছে কথা নাহি মুখে , চিন্তা যত ভারী হয় মাথা পড়ে ঝুঁকে । ভুঁইফোঁড়া তত্ত্ব যেন ভূমিতলে খোঁজে , সবে যে...

Dust of Snow

The way a crow Shook down on me The dust of snow From a hemlock tree Has given my heart A change of mood And saved some part Of a day I had rued.

A Minor Bird

I have wished a bird would fly away, And not sing by my house all day; Have clapped my hands at him from the door When it seemed as if I could bear no more. The fault must partly have been in me. The bird was not to blame for his key. And of course there must be something wrong In wanting to silence any song.

Stopping By Woods on a Snowy Evening

Whose woods these are I think I know. His house is in the village though; He will not see me stopping here To watch his woods fill up with snow. My little horse must think it queer To stop without a farmhouse near Between the woods and frozen lake The darkest evening of the year. He gives his harness bells a shake To ask if there is some mistake. The only other sound's the sweep Of easy wind and downy flake. The woods are lovely, dark and deep. But I have promises to keep, And miles to go before I sleep, And miles to go before I sleep.